নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ
নাম দিগন্তিকা বোস। বাড়ি পূর্ব বর্ধমান। বয়স মাত্র ১৭। এরই মধ্যে তাঁর আবিষ্কারের ভান্ডার অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ভিএম ইন্সটিটিউশন ইউনিট-২-এর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী দিগন্তিকা বোস জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একের পর এক আবিষ্কারের জন্য পুরস্কৃত হয়ে চলেছেন। এবার করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারের নয়া পদ্ধতি আবিষ্কার করে জাতীয় পুরস্কার পেলেন মফঃস্বলের এই বাঙালি তরুণী।

দিগন্তিকা বলেন, “১৫ অক্টোবর ভারতের প্রক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আবদুল কালামের নামাঙ্কিত জাতীয় পুরস্কার ডাঃ এপিজে আবদুল কালাম ইগনাইটেড মাইন্ড চিলড্রেন ক্রিয়েটিভিটি এ্যণ্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। যা সংস্থার ওয়েবসাইটে ঘোষণা হয়েছে। এই ঘোষণায় আমি অত্যন্ত খুশি।”
১৭ বছরের দিগন্তিকা এই ঘোষণার পর নতুন উদ্যমে ফের গবেষণা শুরু করেছে। দিগন্তিকার আবিষ্কারের সংখ্যা ইতিমধ্যে এগারোয় পৌঁছে গিয়েছে। ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিল, সৃষ্টি ও জ্ঞানের মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানও তাঁর আবিষ্কার নিয়ে পর্যালোচনা করেছে।
আরও পড়ুনঃ দুই বোনের উদ্যোগে করোনাকালে বৃদ্ধাশ্রমে খুশির হাওয়া
জানা গিয়েছে, পুরস্কার পর্যালোচনা কমিটিতে ছিলেন ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মন্ত্রনালয়ের ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশন-এর অধিকর্তা ডঃ বিপিন কুমার, প্রফেসর অনিলকুমার গুপ্তা (সিএসআইআর ভটনাগর ফেলো), পিভিএম এম রাও, অধ্যাপক এবং প্রধান, ডিজাইন বিভাগ, আইআইটি-দিল্লি, ডাঃ বিশ্বজনানী সতীগেরী (প্রধান, সিএসআইআরটিটিডিএল)-সহ বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা।
দিগন্তিকা ছোট থেকেই নানা ধরনের আবিষ্কারে নিমগ্ন থাকেন। সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ চশমা তৈরি করে ছোট্ট দিগন্তিকা প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বৈজ্ঞানিক মহলে। কোভিড-১৯ এর ওপর পাঁচটি বিশেষ গবেষণা রয়েছে দিগন্তিকার।
আরও পড়ুনঃ সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে দেরি হওয়ায় এনআরএসে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বৃদ্ধের!
মেয়ের নতুন আবিষ্কারে খুশি বাবা সুদীপ্ত বোস। তিনি বলেন, “ছোট থেকেই নানা ধরনের গবেষণা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে ভালবাসে দিগন্তিকা। ওর পড়ার ঘরটাই হয়ে উঠেছে ছোটখাট গবেষণা কেন্দ্র। এর আগেও নতুন নতুন চিন্তাধারার জন্য মেয়ে একাধিক পুরস্কার পেয়েছে। মেয়ের আবিষ্কারের স্বীকৃতিতে বাবা হিসাবে আমি গর্বিত এবং আনন্দিত।”
দিগন্তিকার আবিষ্কার “ইয়ার প্রেসার রিডাকশন টুল ডিউ টু দ্য ইউজ অব মাস্ক”। এই নয়া আবিষ্কার কিভাবে কাজ করবে? তা জানালেন দিগন্তিকা। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকর্মীকে দিনে দীর্ঘ সময় ধরে মাস্ক পরতে হয়, ফলস্বরূপ কানের উপর ক্রমাগত চাপ পরে। এভাবে টানা মাস্ক পরে থাকার ফলে তাঁরা কানে ব্যাথা অনুভব করেন।
এই সমস্যার সমাধানে একটি ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের সাহায্যে(বা কোনও নমনীয় বোর্ড) আমি একটি নকশা তৈরি করি। যখন আপনি মাস্ক ব্যবহার করবেন তখন মাথার পিছনে আটকে থাকবে। ফলে কানের উপর কোনও চাপ পড়বে না। তার কারণে দীর্ঘ সময় মাস্ক ব্যবহার করলেও কানে কোনওরকম ব্যথা বা সমস্যা হবে না। দীর্ঘক্ষণ মাস্ক পরে থাকার কারণে যে অস্বস্তি হয়, তা দূর হয়ে যাবে এই নয়া আবিষ্কারে।”
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584