শিবশঙ্কর চ্যাটার্জ্জী, দক্ষিণ দিনাজপুরঃ
আজ দুপুর ১টা ৫০মিনিট নাগাদ আচমকাই পাঠানপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে হাজির স্বয়ং জেলাশাসক। তিনি বিদ্যালয়ে পৌঁছে সমস্ত তথ্য, কাগজপত্র ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

জেলাশাসক বিদ্যালয়ে এসে সকল শিক্ষকদের সাথে পরিচিত হবার পর বিদ্যালয়ের সমস্ত শ্রেণীকক্ষ ও মিড ডে মিলের জায়গা পরিদর্শন করেন।
এদিন জেলাশাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, গঙ্গারামপুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক, পুলিশ আধিকারিক, সুকদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান সহ একাধিক ব্যক্তিত্ব। সকলেই বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ মাছ চাষের বিশেষ প্রশিক্ষণ জেলার ব্লক মৎস্য দপ্তরের
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক বিপ্লব কুমার ঘোষ জানিয়েছেন আমাদের বিদ্যালয়ের পরিবেশ যথেষ্টই ভালো। বিদ্যালয়ে আশি জন ছাত্রছাত্রী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে। কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ের কিচেন শেড দীর্ঘদিন ধরেই নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় শ্রেণীক্ষের বারান্দায় রান্না করতে হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিক্ষক দিব্যেন্দু বসাক বলেন আমাদের বিদ্যালয়ে এই প্রথম জেলাশাসক পরিদর্শনে এসেছেন, এজন্য আমরা অত্যন্ত খুশি। আমাদের অভাব অভিযোগের কথা উনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। আমাদের বিদ্যালয়ে শিশুদের কোনো প্রস্রাবাগার নেই।
বারংবার আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। এবার ডি এম নিজে আশ্বস্ত করেছেন, ইউরিনাল বানিয়ে দেবেন বলেছেন । এছাড়াও বিদ্যালয়ের রানিং ওয়াটার ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুব্যবস্থার জন্য ডি এম সাহেবকে আবেদন জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের অপর সহকারী শিক্ষক ভরত মাহাতো বলেন, শ্রেণীকক্ষের প্রতিটি ছাদ দিয়েই বৃষ্টির জল চুঁইয়ে ভিতরে পড়ছে। যেকোন মুহূর্তে ছাদের চাঁই ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ডি এম সাহেব এই সমস্যার সমাধান করতে তার আধিকারিকদের নির্দেশ দেন।
সহকারী শিক্ষক দুলাল চন্দ্র মন্ডল বলেন আমাদের বিদ্যালয়ে ছয়টি শ্রেণীর জন্য চারজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রতি শ্রেণীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকলে খুবই ভালো হয়।
জেলাশাসক নিখিল নির্মল জানিয়েছেন, পাঠানপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে আমি অভিভূত। শিক্ষক মহাশয়গণ বিদ্যালয়ের যে সমস্ত সমস্যাগুলো আমাকে জানিয়েছেন তা অবশ্যই অবিলম্বে সমাধানের যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন আধিকারিদের নির্দেশ দিয়েছি।
সুকদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তালেব মিঞা বলেন পঞ্চায়েতের অর্থানুকূল্যে মার্চ মাসের মধ্যেই বিদ্যালয়ের কিচেন শেডটি পুননির্মাণের ব্যবস্থা করে দেব।
সবশেষে বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মুন্তাসির আলম খুব সুন্দর একটা আবৃত্তি করে জেলাশাসকের মন জুগিয়ে দিয়েছে। জেলাশাসক যথেষ্টই প্রশংসা করেছেন শিশুটির। শিশুটির পরিবারের সবরকমের খোঁজ খবর নিয়েছেন।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584