পণ নয় প্রেমের জয়, কুর্নিশ বীরভূম পুলিশের

0
76

পিয়ালী দাস, বীরভূমঃ

চার হাত এক হওয়ার পথে বাধা দাঁড়িয়েছিল যৌতুক, অবশেষে যৌতুকের চৌখাট পেরিয়ে চার হাত এক হল, সাক্ষী থাকল বীরভূমের কাঁকরতলা থানা। পণপ্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবক যুবতীর এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়েছে বীরভূম জেলা পুলিশ।

dowry is not the victory of love
নবদম্পতি। নিজস্ব চিত্র

বেশ কিছুদিন আগে পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়া থানার তেশরমন গ্রামের শেখ শানুর সাথে বিয়ে ঠিক হয় কাঁকড়তলা থানার তাহিদা ইয়াসমিনের। আগামী ২৯ শে নভেম্বর বিয়ের দিন স্থির হয়েছিল কিন্তু ছেলের পরিবারের প্রাপ্ত যৌতুক জোগাড় করে উঠতে পারেনি তাহিদার বাবা, আর তাতেই বেঁকে বসে শানুর বাবা, সটান জানিয়ে দেয় কথা মতো যৌতুক পূর্ণ না হলে ছেলের বিয়ে দেবেন না।

বিয়ে ভাঙতে বাবার এই সিদ্ধান্ত শেখ শানু মেনে নিতে পারেননি কারণ প্রথম দেখাতেই তাহিদার প্রেমে পড়ে যায় শানু। অপরদিকে তাহিদা সাফ জানিয়ে দেয় তিনি শেখ শানুকে ছাড়া বিয়ে করবেন না। অগত্যা দুজনেই বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেইমতো রবিবার চুপিচুপি বিয়েটা সেরে ফেলে বিয়ের পরেই নিজেদের বয়সের প্রমাণপত্র হাতে নিয়ে হাজির কাঁকরতলা থানায়। সেখানে পুলিশের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে কাঁকরতলা থানার ওসি জানিয়ে দেন ওরা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক একে অপরকে ভালোবেসে পরিবারের পণ প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বিয়ে করেছে সত্যিই খুব প্রশংসাযোগ্য আগামী প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নবদম্পতি।

শেখ শানু জানায় শ্বশুরমশাই সম্পূর্ণ যৌতুকের টাকা জোগাড় করে উঠতে পারেননি তাই আমাদের পরিবার থেকে বিয়েটা ভেঙে দেবার প্রস্তুতি চলছিল কিন্তু আজকের সমাজে সামান্য পণের জন্য একটি মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাবে এটা আমি মেনে নিতে পারিনি তাই পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে তাহিদাকে বিয়ে করলাম। তাহিদা ইয়াসমিন দাবি করেন আমার জীবন ধন্য হয়েছে শেখ শানুকে স্বামী হিসেবে পেয়ে পণপ্রথার বিরুদ্ধে যেভাবে নিজের পরিবার ছেড়ে আমার হাত ধরেছে তার জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here