পিয়ালী দাস,বীরভূমঃ
অবৈধ বালির কারবার রুখতে এবার ই-চালান পদ্ধতি চালু করতে চলেছে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর। এই মর্মে আজকে জেলাশাসকের দফতরে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে ঠিক হয়,বালি নিয়ে যাওয়ার সময় ত্রিপল দিয়ে ঢাকা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বালির ঘাটগুলিতে নজরদারির জন্য বসানো হবে সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার।সেতুর উপর দিয়ে বালির গাড়ি যাওয়ার সময় ওভারলোড থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয় বৈঠকে।

বর্ষায় নদীর গতিপথ নির্ণয়ের জন্য বালি তোলার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা থাকে।কিন্তু,দেখা যাচ্ছে এই নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি ভাবে বালি তোলার কাজ।সরকারি চালান জালিয়াতি করেও চলে বালি পাচার।১৫ অক্টোবর পর্যন্ত নদী থেকে বালি তোলার কাজ বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশিকা ছিল।কিন্তু, ১ অক্টোবর থেকেই ফের নদীগর্ভ থেকে বালি তোলার নতুন নির্দেশিকা জারি হল আজকে।এই নিয়ে জেলাশাসক মৌমিতা গোধারা বসু’র দফতরে একটি বৈঠক হয়। জেলাশাসক ছাড়াও ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার কুণাল আগরওয়াল,জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক পূর্ণেন্দু মাঝি সহ পূর্ত বিভাগ, পরিবহন দফতর, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ,জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ প্রমুখ। এছাড়াও ছিলেন বালির ঘাট,পাথর খাদান, বালি ব্যবসায়ী সমিতি, ডাম্পার মালিকেরা।
সরকারি নিয়মে বালির ঘাট ইজারা নিতে হয়। সেই ঘাটের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বালি তুলে সেই বালি মজুত করা হয়।পরে চাহিদা মতো বালি রপ্তানি করা হয়।এই রপ্তানির ক্ষেত্রে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের চালান ব্যবহার করা হয়।কিন্তু, চালান জালিয়াতি করে চলে বালি পাচার। তাই বেআইনি বালি পাচার রুখতে এবার ই-চালান পদ্ধতি চালু করতে চলেছে জেলা প্রশাসন। এই চালান চালকদের স্মার্ট ফোনে থাকবে।যা নিয়ন্ত্রিত হবে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে।ই-চালান পদ্ধতি চালু হয়ে গেলে বেআইনি বালি পাচারে রাশ টানা যাবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।
অন্যদিকে,লরি, ট্রাকে করে বালি নিয়ে যাওয়ার সময় সেই বালি উড়ে অনেকের চোখে পড়ে,পরিবেশ দূষণও হয়।এই মর্মে ইতিমধ্যে ৩০০ অভিযোগ জমা পড়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরে।তাই সমস্যা সমাধান করতে বৈঠকে ঠিক হয়,বালির গাড়ি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পলিথিন দিয়ে ঢাকা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেতুগুলির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বালি,পাথর বোঝাই লরি,ট্রাক চেক করা হবে।ওভারলোড হলে সেই গাড়ি আটক করে মামলা রুজু করা হবে।
বালির ঘাটের দখলদারি নিয়ে প্রায় সময় দেখা গেছে দু’পক্ষের মধ্যে বোমাবাজি হয়।বালির ঘাটের নির্দেষ্ট এলাকার বাইরে গিয়েও বালি তুলে নেয় ঘাট মালিকেরা।এমনকী, নদীর পাড় কেটে মাটিও পাচার করে দেওয়া হয়। এগুলি রুখতে বৈধ নদী ঘাটগুলিতে নজরদারির জন্য বসানো হবে সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার।
জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক পূর্ণেন্দু মাঝি বলেন, “বৈঠকের মধ্যে দিয়ে সকলকে বেশ কিছু নিয়মাবলি সম্পর্কে সচেতন করে দেওয়া হয়েছে। ই-চালানের বিষয়গুলিও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ বানিজ্যিক বহুতলে আগুন দুর্গাপুরে
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584