নিজস্ব সংবাদদাতা, ওয়েব ডেস্কঃ
হাথরাসের দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়নি, এই রিপোর্ট দেয় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন ও এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই দাবি করছে, তরুণী ‘ধর্ষিত নন’। কিন্তু সেই রিপোর্টকেই এবার ‘মূল্যহীন’ বলে আখ্যা দিলেন আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের জওহরলাল নেহেরু মেডিক্যাল কলেজের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ আজিম মালিক।

এএমিউ এর চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ আজিম মালিক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় নির্যাতিতার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয় নিগ্রহের ১১ দিন পরে যেখানে, সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী ঘটনার ৯৬ ঘন্টার মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা না হলে, তার থেকে প্রমাণ মেলে না। অর্থাৎ এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে ঘটনার ১১ দিন পরে সংগৃহিত নমুনা থেকে পাওয়া রিপোর্ট বিশ্বাসযোগ্য নয়।
হাথরাসের ১৯ বছরের দলিত তরুণীকে ১৪ সেপ্টেম্বর চার উচ্চবর্ণের পুরুষ মিলে ধর্ষণ করেছিল বলে অভিযোগ। মেরুদণ্ডে ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গে মারাত্মক আঘাত-সহ তাঁকে ভর্তি করা হয় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের জওহরলাল নেহেরু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
আরও পড়ুনঃ হাথরাস কান্ডে যোগী সরকারকে একহাত নিল এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া
২২সেপ্টেম্বর তাঁর জ্ঞান ফিরলে যৌন নির্যাতনের বিবরণ দিতে সক্ষম হন ওই তরুণী। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করা হয় এবং পুলিশ সেই মুহূর্তে এফআইআরে ধর্ষণের ধারা যুক্ত করতে বাধ্য হয়।
নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ডের ১১ দিন বাদে, ২৫ সেপ্টেম্বর নমুনা ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। স্বাভাবিক ভাবেই রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি। এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি, ওই দলিত তরুণী ধর্ষিতা হননি।
আরও পড়ুনঃ গুজরাতে ধর্ষণের শিকার কিশোরী ও এক মহিলা
গত বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) প্রশান্ত কুমার দাবি করেছেন, ‘এফএসএল রিপোর্ট অনুসারে ভিসেনা নমুনায় বীর্য বা শুক্রাণুর কোনও প্রমাণ নেই। হামলাজনিত আঘাতের কারণেই তরুণীর মৃত্যু বলে ময়না তদন্তে উল্লেখ। আধিকারিকদের বিবৃতির পরও সংবাদ মাধ্যমে কিছু ভুল তথ্য প্রচারিত হচ্ছে।’
৩ অক্টোবর জওহরলাল নেহেরু মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক মেডিক্যাল বিভাগের তরফে চিঠি দিয়ে সাদাবাদ থানার সার্কেল অফিসারকে চূড়ান্ত রিপোর্টের কথা জানিয়েছেন। সেখানে অ্যাসিটেন্ট প্রফেসর ডাঃ ফাইয়াজ আহমেদ ও চেয়ারম্যান ডাঃ সৈয়দের স্বাক্ষর রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে মুছে ফেলা হবে নয়া কৃষি আইন- প্রতিশ্রুতি রাহুল গান্ধীর
চিঠিতে বলা হয়েছে , ‘নমুনাতে ভ্যাজাইনাল বা এনাল ইন্টারকোর্সের কোনও চিহ্ন মেলেনি। তবে, শারীরির নিগ্রহের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ডাঃ আজিম মালিক ফরেন্সিক ল্যাবরেটরির এই রিপোর্টকে ‘অবিশ্বাস্যযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন ১১দিন পর সংগ্রহ করা নমুনায় ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যাবে কিভাবে? শুক্রাণু ২-৩ দিনের বেশী স্থায়ী হয় না।
চুল, কাপড়, নখ, বিছানা ও ভ্যাজাইনাল- এনাল পথ থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। মূত্রত্যাগ, মলত্যাগ এবং ঋতুস্রাবের কারণেও নমুনায় বীর্যের উপস্থিতি না মিলতেই পারে, যে কারণে যত দ্রুত সম্ভব নমুনা সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
প্রাথমিক মেডিক্যাল রিপোর্টে নির্যাতিতা তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘যোনিতে পুরুষাঙ্গ প্রবেশে’ র বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এছাড়াও তরুণীকে দুপাট্টা দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা, খুনের মৌখিক হুমকি ও অভিযুক্ত সন্দীপ, রামু, লভ কুশ ও রবির নাম উল্লেখ রয়েছে।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584