কাশিমবাজারের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম করুণাময়ী কালীবাড়ির বর্তমান ও অতীত

0
40

শুভব্রত সরকার, মুর্শিদাবাদঃ

মুর্শিদাবাদের প্রতিটি কোণ মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসের পাতাকে। মুর্শিদাবাদ একটি সুপ্রাচীন জেলা। যার আগের নাম ছিল মুকসুদাবাদ। ইতিহাস বলে ১৭০৪ সালে নবাব মুর্শিদকুলি খান রাজস্ব আদায়ের স্থান পরিবর্তন করে ঢাকা থেকে মুকসুদাবাদে নিয়ে আসেন। কথিত আছে দিল্লির মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের অনুমতি পেয়ে মুকসুদাবাদের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মুর্শিদাবাদ।

Bishnupur Kalibari
মা করুণাময়ী কালীবাড়ি। নিজস্ব চিত্র

ভাগিরথীর তীরে অবস্থিত এই জেলায় বিভিন্ন ধর্মালম্বী মানুষের বসবাস। চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থান। সেই ধর্মীয় স্থানের সন্ধানে নিউজ ফ্রন্ট পৌঁছে গিয়েছিল বহরমপুর কাশিমবাজারের নিকটবর্তী বিষ্ণুপুর ঝিলের তীরে অবস্থিত মা করুণাময়ী কালীবাড়ি।

ওই কালীবাড়ির সেবাইত জানালেন, মন্দিরের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। জানা গেল মন্দিরটি নবাবী আমলের, প্রতিদিন পুজো হয় মন্দিরে। প্রত্যেক মঙ্গলবার ও শনিবার ভক্তদের জন্য বিশেষ পুজোর আয়োজন থাকে। এই দুদিন প্রচুর ভক্ত আসেন মা কে পুজো দিতে। এছাড়াও কালীপূজোতে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়ে থাকে।

Cossimbazar Kalibari
নিজস্ব চিত্র

মায়ের আবির্ভাব মাস হিসাবে প্রতিবছর পৌষ মাসে এক বিরাট মেলা বসে। বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আসেন এই মেলায়। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানালেন, করোনা পরিস্থিতিতে ভক্তদের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। এখন মন্দিরের দরজা দুবেলা খোলা হয় না। তবে আশ্বিন মাস থেকে মায়ের মন্দির পুনরায় ছন্দে ফিরবে ভক্তদের জন্য।

মন্দিরের প্রধান প্রবেশ পথ দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে মন্দিরের গর্ভগৃহ। সেখানে রয়েছে মায়ের অর্ধমূর্তি। মন্দিরের একপাশে রয়েছে নারায়ন গৃহ। অপরপ্রান্তে রয়েছে শিবের মন্দির। মন্দিরের দেওয়ালে দেখতে পাবো বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি।

আরও পড়ুনঃ ৩০০ বছরের প্রাচীনতম কাশিমবাজারের পাতালেশ্বর শিব মন্দিরের বর্তমান ও অতীত

মন্দিরের প্রবেশ পথের উল্টোদিকে রয়েছে প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার একটি শিব মূর্তি। তার পাশেই রয়েছে বটবৃক্ষের নিচে ধ্যানরত বুদ্ধের মূর্তি। তার পাশে রয়েছে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি। মন্দিরের একপাশে রয়েছে এক সুদৃশ্য পার্ক। সেখানে রয়েছে একটি পাখিরালয়। বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ডাক আপনার মন জুড়িয়ে দেবে। সেই পার্কে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন চোখে পড়ার মতো পশু পাখির মূর্তি।

Bishnupur jhil
নিজস্ব চিত্র

জানা গেল, পার্কটি প্রতিদিন বিকালে সর্ব সাধারণের জন্য খোলা থাকে। ভক্তদের জন্য সেখানে তৈরি হয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থাও। ঝিলের ধারে রয়েছে বাঁধানো ঘাট। মায়ের মন্দিরের পাশে এক সুদৃশ্য বাগান আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য জগতে। কাশিমবাজার স্টেশনের নিকটবর্তী এই করুণাময়ী মন্দিরটি আজও ইতিহাস বহন করে চলেছে।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here