মনিরুল হক, কোচবিহারঃ
রেশনের জন্য নয়, যেন মদের জন্যই লকডাউন ছুটের অপেক্ষা করছিলেন মানুষ। কাকদ্বীপ থেকে কোচবিহার সর্বত্রই রেশন দোকান অথবা ব্যাংকের লাইনকে ছাপিয়ে মানুষের ভির জমেছে মদের দোকানে। কোথাও কোথাও লাইনে দেখা যাচ্ছে মহিলাদেরও। সেই সব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কম নিন্দামন্দ করা হচ্ছে না। কিন্তু কিছুতেই যেন লাজ নেই তাঁদের।

গ্রিন জোন এলাকাতে গতকাল থেকে মদের দোকান খোলা শুরু হয়েছে। কোচবিহারের জেলা শহরে গতকাল ঘন্টা খানেকের জন্য খুললেও ভিরের চাপে শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা ১২ টা থেকে জেলা জুড়েই মদের দোকান খুলবে জেনে সকাল থেকেই ভির জমতে শুরু করে মদের দোকান গুলোতে। সোশ্যাল ডিস্টেন্স বজায় রেখেই লম্বা লাইন দিয়ে মদ কিনতে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের মানুষদের।
আরও পড়ুনঃ মাদারিহাটে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রতীকী অবস্থানে বিজেপি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাথাভাঙার এক মদের দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে এক যুবক বলেন, “এতদিন তো লুকিয়ে নিয়েই খেয়েছি। কিন্তু মাঝে লকডাউনের জন্য দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। আজ যদি লাইনে না দাঁড়াই। তাহলে আজও পাবো না। তাই লাজলজ্জা বাদ দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছি।” কোচবিহারে পাল পট্টির কাছে একটি মদের দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যাক্তির কথায়, “ জানি অনেকেই গালমন্দ করছেন। কিন্তু কি করবো বলুন তো? অনেক দিনের নেশা। বাদ দিতে পারি না। এই কদিন যে কীভাবে কাটিয়েছি। সেটা আমি জানি। তাই কারুর কথায় কান দিয়ে লাভ নেই।”
তবে এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই দাবি করছেন, যাদের মদের দোকানে লাইন দিয়ে মদ কিনতে দেখা যাবে, তাঁদের চিহ্নিত করে রেশন কার্ড বাতিল করতে হবে। অনেকেই বলছেন, মদ্যপ অবস্থায় করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে যে সব নিয়ম মানা উচিত, তা হবে না। ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন অবশ্য দোকান গুলোর সামনে যাতে অশান্তি না হয়, সোশ্যাল ডিস্টেন্স রক্ষা করা হয়, সেই চেষ্টায় রয়েছেন।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584