অবসর নিলেন তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬’এ ধারা বিলোপের কান্ডারী শীর্ষ আদালতের বিচারপতি আরএফ নরিম্যান

0
56

ওয়েব ডেস্ক, নিউজ ফ্রন্টঃ

অবসর গ্রহণ করলেন সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি রোহিনটন এফ নরিম্যান। সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার আগে তিনি দেশের সলিসিটর জেনারেলের দায়িত্ব সামলেছেন। বিচারপতি আর এফ নরিম্যানের পিতা ফলি নরিম্যানও ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। সেই উত্তরাধিকারকে আরো এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন বিচারপতি আর এফ নরিম্যান।

R F Nariman
আরএফ নরিম্যান। ছবি: সংগৃহিত

বিচারপতি নরিম্যানের অবসর গ্রহণের অনুষ্ঠানে দেশের প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা বললেন, “বিচার বিভাগকে রক্ষা করতেন এমন এক সিংহ-কে আমরা হারাচ্ছি।” সুপ্রীম কোর্টের প্রথা মেনে কর্মজীবনের শেষ দিনে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে বসেন তিনি। তাঁর বিদায় অনুষ্ঠানে দেশের প্রধান বিচারপতি বললেন, “বিচারপতি নরিম্যান তাঁর জ্ঞান ও স্বচ্ছতার জন্য পরিচিত। তিনি সর্বদা সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। আমার মনের অবস্থা ঠিক মতো বর্ণনা করা সম্ভব নয় এই মুহূর্তে।”

একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিচারপতিদের সম্পর্কে বেশ কিছু ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে জনমানসে, তা বদলানো প্রয়োজন। প্রতি সপ্তাহে আমাদের ১০০টি মামলার শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিতে হয় যা মোটেই সহজ নয়। পাশাপাশি সামলাতে হয় আদালতের প্রশাসনিক দায়িত্বও।”

বিগত সাত বছর দেশের শীর্ষ আদালতে নিজের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিচারপতি নরিম্যান বলেন, “আমার মনে হয়না সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার স্বাভাবিক প্রত্যাশা কারও থাকে। আমি বিশ্বাস করি ভারতবাসী ও যাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁদের এই সর্বোচ্চ আদালত থেকে নির্দিষ্ট মানের বিচার পাওয়ার স্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকে। সে জন্য এই নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”

আরও পড়ুনঃ বিজেপি বিরোধী দলের নেতৃত্বদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ সোনিয়ার, জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!

তাঁর মতে, বার থেকে আরও অনেক উচ্চ মেধার আইনজীবীকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে নিয়োগ করা প্রয়োজন। আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি এদিন বলেন, “যাঁদের এই নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হবে তাঁদের বলব, কখনও না বলবেন না। পেশা থেকে অনেক কিছু পাওয়ার পরে পেশাকেও কিছু ফেরত দেওয়াটা তাঁদের কর্তব্য।”

আরও পড়ুনঃ কোভিড পরিস্থিতিতে আরো ৭৩ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত রাজ্যের

বিগত গত কয়েক বছরে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যেও বিচারপতি নরিম্যানের বিভিন্ন রায় বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। বিচারপতি নরিম্যানের রায়েই খারিজ হয় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬এ ধারা। ওই ধারা প্রয়োগ করে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য নাগরিককে গ্রেফতার করতে পারত পুলিশ।

বিচারপতি নরিম্যান তাঁর রায়ে বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৬এ ধারা বাক্‌স্বাধীনতার পরিপন্থী। বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের পক্ষে একান্ত প্রয়োজনীয়। এছাড়া সমকামী সম্পর্কের উপর থেকে অপরাধের তকমা সরে যায় যে বেঞ্চের রায়ে, সেই বেঞ্চেরও সদস্য ছিলেন বিচারপতি আর এফ নরিম্যান।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here