মোদি-শাহ জুটির নয়টি মিথ্যা তুলে ধরে বিজেপিকে কটাক্ষ কপিল সিবলের

0
74

নিউজফ্রন্ট, ওয়েবডেস্কঃ

সিএএ ও এনআরসি নিয়ে শাসক দলকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলল বিরোধী দল কংগ্রেস। এ দিন কংগ্রেসের নেতা ও আইনজীবী কপিল সিবাল সংবিধানকে মাথায় রেখে বলেন, সংবিধানে নাগরিকত্ব দেওয়াকে পাঁচটি ভিত্তির উপর দাঁড় করানো হয়েছে।

সেখানে কোনওভাবেই ধর্ম আসে না। বর্তমান সরকার শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করেই যে আইন প্রণয়ন করেছে তা পুরোপুরি অসাংবিধানিক এবং ভিত্তিহীন।

Kapil Sibal attack to pm modi amit shah over nrc caa | newsfront.co
ফাইল চিত্র

মঙ্গলবার লখনউয়ের সভা থেকে অমিত শাহ জানিয়েছেন যে বিরোধীরা যতই চেষ্টা করুক না কেন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহার করা হবে না।

তিনি বলেন, “কংগ্রেস, তৃণমূল, মায়াবতী, সমাজবাদী পার্টি এবং কমিউনিস্টরা এই আইনটি নিয়ে ক্যা-ক্যা করে চিৎকার করছে। আমি এই বিলটি সংসদে উপস্থাপিত করেছি এবং আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি যে এর যে কোনও একটি বিভাগেও যদি কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা বলা হয়ে থাকে তবে তা আমাকে দেখান।”

আরও পড়ুনঃ ভদ্রলোকের এক কথা, কোচবিহারে দিলীপ উবাচ

এদিকে কংগ্রেসের কপিল সিবাল মোদি-শাহ জুটির দিকে আঙুল তুলে বলেন, তারা মিলিত ভাবে সিএএ-এনআরসি নিয়ে ৯টি মিথ্যা কথা বলেছেনঃ

▪ সিএএ বিভাজনমূলক এবং ধর্মকে ভিত্তি করে সিএএ সংগঠিত হয়নি। এদিকে সিএবি-তে স্পষ্ট ছয়টি ধর্মের মানুষের কথা লেখা হয়েছে। মুসলমানদের সম্পর্কে কোনওকিছু উল্লেখ করা হয়নি।

▪ সিএএ-র সাথে এনআরসি-র কোনও যোগ নেই। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিল উত্থাপনের সময় বলেছিলেন সিএএ দেশ জুড়ে জারি হলে এনআরসি-র প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ শুরু হবে।

▪ ২২ ডিসেম্বর একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যঃ বিজেপি সরকার আসার পর এনআরসি নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। এদিকে রাষ্ট্রপতি ২০ জুন, ২০১৯ এ এনআরসি-র বাস্তবায়নের কথা ঘোষণা করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত বৈধ নয়, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল বিরোধীদের

▪ এনআরসি আইনি প্রক্রিয়া নয়। এদিকে ২০০৩ সালে যখন এনআরসি গৃহীত হয়েছিল, তখন এর অনুলিপির ১৪ নং অনুচ্ছেদের ‘এ’ তে উল্লেখ করা হয় যে এটি আইনি এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্যে একটি পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা রয়েছে।

▪ দেশে এখনও এন আরসি শুরু হয়নি, অথচ এনআরসি প্রয়োগের বিজ্ঞপ্তি গত বছর ১ এপ্রিল থেকে জারি হয়েছে।

▪ এনআরসি-র সাথে এনপিআর-এর কোনও সম্পর্ক নেই। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বার্ষিক অনুলিপিতে বলা হয়েছে, এনপিআর, এনআরসি-র প্রথম পর্যায়।

▪ ভারতীয়দের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, যেখানে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন সাহেবের পরিবারের সদস্য এবং কারগিল যুদ্ধের পুরষ্কার বিজয়ী সানাউল্লাহ খানের নাম অসমের এনআরসি তালিকায় রাখা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ হাইকোর্টে মিলল না অনুমতি, মাইক বাজানো থেকে বিরত উত্তরপ্রদেশের দুটি মসজিদ

▪ দেশে কোনও ডিটেনশন সেন্টার নেই। এদিকে অসমে সর্বমোট ৯৮৮ জন কোনও না কোনও ডিটেনশন সেন্টারে আটক হয়ে রয়েছে। পাশাপাশি অসমের গোয়ালপাড়ায় একটি ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির কাজ চলছে।

▪ বিক্ষোভ আটকাতে কোনও বলপ্রয়োগ করা হয়নি। এদিকে উত্তরপ্রদেশে আন্দোলনকারীদের ২৮ জনই মারা গেছে পুলিশি অত্যাচারে। জেএনইউ, আলিগড়, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে অনুমতি না নিয়ে ক্যাম্পাসে, লেডিজ হোস্টেলে ঢুকে অত্যাচার চালিয়েছে পুলিশ।

এই পয়েন্টগুলি তুলে ধরা ছাড়াও সিবল স্বামী বিবেকানন্দ ও অর্থনীতিবিদ গীতা গোপিনাথের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেন।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91-9593666485