শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ
দুটি পৃথক কারণে অবস্থান-বিক্ষোভ হল রাজ্যের দুটি হাসপাতালে। একদিকে অনৈতিক ভাবে কর্মী ছাঁটাই এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম না পাওয়ার প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভ দেখান কেপিসি হাসপাতালের কর্মীরা।

কাজ বন্ধ করে তারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকলে যাদবপুর থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। অন্যদিকে, সদ্য করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষিত সাগর দত্ত হাসপাতালেও এদিন অবস্থান বিক্ষোভে বসেন ছাত্রছাত্রীরা। করোনা হাসপাতাল চালু হলে তাদের পড়াশোনা ব্যহত হবে বলেও তারা এ দিন দাবি করেন।
কেপিসি হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে কোভিড ১৯ এর মহামারীর সঙ্গে সকলেই জীবন নিয়ে লড়াই করছে। এমত অবস্থায় সরকার থেকে নির্দেশ ছিল কোনো প্রাইভেট সংস্থার কর্মচারীদের কোনো অবস্থাতেই কর্ম থেকে ছাটাই করা যাবে না।

এই সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করেই কে পি সি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কিছু কর্মীকে ছাটাই করে দেয়। কর্মীদের দাবি, তারা উপযুক্ত পরিকাঠামো অপর্যাপ্ত থাকা নিয়ে মালিক কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। যেমন কর্মীদের দাবি ছিল, উপযুক্ত পি পি ই, গ্লাভস, মাস্ক যা মালিক কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহ করতে ব্যর্থ ছিল কর্মীদের।
আরও পড়ুনঃ ভিড় এড়াতে সরকারি অফিসে দুই শিফটে কাজের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
ভারতীয় জনতা পার্টির দক্ষিণ কলকাতা শহরতলির জেলা সভাপতি সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাটাই হওয়া কর্মীদের সাথে কথা বলেন ও তাদের কে আশ্বাস দেন যে যেমন করেই হোক তাদের আবার সসম্মানে কাজে ফেরাবেন এবং তিনি কে পি সি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করেন। তবে আলোচনা ঠিক সেভাবে ফলপ্রসূ হয়নি। তাই ১১ জুন বৃহস্পতিবার তিনি একটি বৃহত্তর প্রতিবাদী আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
অন্যদিকে, সাগর দত্ত হাসপাতালটিকেও কয়েকদিন আগেই ৫০০ শয্যার করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু কি ভাবে তা রূপায়ণ হবে, তা নিয়ে কোনও পরিকল্পনা করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এমনটাই দাবি জুনিয়র ডাক্তার সহ ছাত্রছাত্রীদের।
তাই পরিকল্পনা না করে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে চালু করলে রোগী পরিষেবা থেকে আপৎকালীন পরিষেবা তো অসুবিধা হবেই, একই সঙ্গে তাদের পড়াশোনাও ব্যহত হবে। তাই এদিন বিভাগের বাইরেই অবস্থান বিক্ষোভে বসেন ছাত্রছাত্রীরা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাতেও অবস্থান বিক্ষোভ চলছে।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584