নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ফ্রন্টঃ
১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, জন্মগ্রহণ করেন লতা মঙ্গেশকর। যদিও পরিবার সূত্রে তাঁর নাম ছিল হেমা, পরবর্তীকালে সঙ্গীত জগতে পা রাখার সময় লতা মঙ্গেশকর হিসেবে পরিচিত হন তিনি। সাত দশকের সঙ্গীত জীবনে ৩৬ টি ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন লতা। তাছাড়াও বেশ কয়েকটি বিদেশী ভাষাতেও গান গেয়েছেন তিনি। ১৩ বছর বয়সে পিতৃ বিয়োগের পর থেকে পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ লতা মঙ্গেশকরের। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সব থেকে বড় বোন হেমার জীবন যুদ্ধের শুরু তখন থেকেই।

সাত দশকের সঙ্গীত জীবন থেকে তাঁর প্রাপ্তি বহু পুরস্কার। দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’ পেয়েছেন তিনি। ‘নাইটিঙ্গেল অফ ইন্ডিয়া’ ও ‘সুরসম্রাজ্ঞী’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন মহান সঙ্গীত শিল্পী লতা মঙ্গেশকর। ১৯৮৯ সালে ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পুরস্কারে ভূষিত হন লতা। ২০০১ সালে দেশের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’ প্রদান করা হয় তাঁকে। লতা মঙ্গেশকর দ্বিতীয় সঙ্গীত শিল্পী যিনি ‘ভারতরত্ন’ সম্মান পেয়েছেন। ২০০৭ সালে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সিভিলিয়ান সম্মান ‘Legion of Honour’ -এ ভূষিত করে ফ্রান্স সরকার। ১৯৭৪ সালে লন্ডনের অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠান করেন লতা মঙ্গেশকর, তিনিই প্রথম ভারতীয় অ্যালবার্ট হলে যার সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এছাড়া ৩ টি জাতীয় পুরষ্কার, ১৫ টি বিএফজেএ- পুরষ্কার, ৪ টি ফিল্ম ফেয়ার পুরষ্কার( বেস্ট প্লে ব্যাক সিঙ্গার), ২ টি বিশেষ ফিল্ম ফেয়ার পুরষ্কার, কিল্ম ফেয়ার লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরষ্কার এছাড়াও আরও বহু পুরষ্কার পেয়েছেন সুর সম্রাজ্ঞী।
কিছুদিন আগে করোনা আক্রান্ত হন প্রবীণ শিল্পী লতা মঙ্গেশকর। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বয়সজনিত কারণে প্রথম থেকেই কিছুটা সংকটজনক ছিলেন তিনি ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি থাকে। অবশেষে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, সকাল ৮টা ১২ মিনিটে থেমে গেল জীবনযুদ্ধ। চিরস্তব্ধ হয়ে গেল সুরসম্রাজ্ঞীর কণ্ঠস্বর।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584