হিমালয়ের কোল জুড়ে নেপালে বামপন্থীর লাল ঝড়

0
43

জৈদুল সেখ:উত্তরপ্রদেশে লাল ঝড় সবে মাথা চাড়া দিয়েছে, এরই মধ্যে নেপালের লাল ঝড় নিয়ে কমরেডদের বুকে খুশির মেজাজ এশিয়া মহাদেশ জুড়ে।

লাল শাড়িতে নিজেকে মুড়ে নিয়েছে হিমালয় কন্যা৷ নেপালের জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনে এমনই ইঙ্গিত মিলতে শুরু করল৷ পার্বত্যাঞ্চল থেকে তরাই ভূমি সর্বত্রই প্রবল লাল ঝড়৷

কাঠমান্ডু থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট, গণনার সাম্প্রতিক ফল-বিপুল ক্ষমতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বামপন্থী-মাওবাদী জোট৷ বিরোধী আসনে বসতে চলছে নেপালি কংগ্রেস৷ নতুন সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর প্রথমবার জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন একসঙ্গে হল নেপালে৷ সেই অর্থে এই নির্বাচন ঐতিহাসিক৷

Kathmandu post লিখছে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে সিপিএন (ইউএমএল) ও সিপিএন (মাওয়েস্ট-সেন্টার) জোট৷ প্রবল ধাক্কা খাচ্ছে নেপালি কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলগুলি৷

বিজয়ের মুখে পৌঁছে যাওয়া সিপিএন(ইউএমএল) দলের নেতা কেপি শর্মা ওলি ও মাওবাদী প্রধান প্রচণ্ড (পুষ্প কুমার দাহাল) দুজনেই আগেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন৷ এখানেই প্রশ্ন, বামপন্থী সরকারের আমলে নেপাল কি ফের চিনের দিকে ঝুঁকবে৷ কারণ ক্ষমতা হারাতে চলা নেপালি কংগ্রেস বরাবরই ভারতপন্থী৷

২০১৫ সালে নেপালে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়৷ সেই সংবিধানের আওতায় এবার নির্বাচন হয়েছে৷ দুই কক্ষ বিশিষ্ট নেপালের জাতীয় আইনসভার পার্লামেন্ট দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট৷ একটি হল হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ (প্রতিনিধিসভা) ও দ্বিতীয়টি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (রাষ্ট্রীয় সভা)। প্রতিনিধিসভার সদস্য সংখ্যা ২৭৫, এদের মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি নির্বাচিত হন। বাকি আর ১১০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন আনুপাতিক হারে। আর রাষ্ট্রীয় সভায় আছে ৫৯ আসন৷
গত এক দশকে নেপালের সরকারে বারে বারে এসেছে নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন(ইউএমএল) এবং সিপিএন(মাওয়েস্ট-সেন্টার)৷ কিছু আঞ্চলিক দলের শক্তি লক্ষ্য করা গিয়েছে ভারত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে৷ মূলত এই অঞ্চলে শক্তিশালী হয়েছে মাধেশি জনাধিকার ফোরাম৷

দীর্ঘ সময় রাজতন্ত্রের অধীনে পরিচালিত হয়েছে নেপাল৷ রাজপরিবার হিন্দু ও জনগণের বেশিরভাগ একই ধর্মের হওয়ায় নেপাল পরিচিতি হয়েছিল ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে৷ ১৯৯০ সাল থেক প্রবল রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন ও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়৷ ২০০৭ সালে রাজতন্ত্রের পতন হয়৷ ক্ষমতায় আসে নেপালি মাওবাদীরা৷ বর্তমানে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত নেপাল৷

রাজনৈতিক দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময় পার হয়েছে৷ অস্থিতিশীল সরকার ছিল নেপালের বৈশিষ্ট৷ আগামী সরকার কি স্থিতিশীল হবে? লাখ টাকার এই প্রশ্ন বাগমতী নদীর তীর থেকে ছড়িয়েছে দুনিয়া জুড়ে৷

The Himalayan Times ও My republica-এর রিপোর্ট, নতুন সংবিধানের অধীনে সরকার গড়ের খুব কাছে বামপন্থী জোট৷ দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বামপন্থী৷

আগেই দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কমিউনিস্ট নেত্রী বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারি , জাতীয় আইনসভার স্পিকার হয়েছেন মাওবাদী নেত্রী ওনসারি ঘারতি৷ সবমিলে লাল শাড়িতে মুড়ে নব অভিষেকের পথে হিমালয় কন্যা নেপাল৷

তথ্য- অনলাইন নিউজ, কলকাতা,

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here