শিক্ষক না পেয়ে কোর্টে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, নিশ্চুপ কমিশন

0
825

আনিসুর রহমান, কোলকাতাঃ

শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী ৪০ জন পড়ুয়ার জন্য একজন করে শিক্ষক বা শিক্ষিকা বরাদ্দ থাকার কথা । কিন্তু সাম্প্রতিক মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের পরও সেই নিয়ম মুখ থুবড়ে পড়েছে মালদা জেলার সামসীর ভগবানপুর হাই মাদ্রাসার মত রাজ‍্যের একাধিক মাদ্রাসায় । হাইকোর্টের রায়ে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন অবৈধ হওয়ার পর দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ছিল। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকার ব‍্যপারটি মাথায় রেখেই সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষ নিয়োগের অনুমতি দেয় মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে। তারপরও রাজ‍্যের সরকার পোষিত অনেক মাদ্রাসাতে শিক্ষক শূন্যতা অনেক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে।

যেমন, মালদার সামসীর ভগবানপুর হাই মাদ্রাসায় ৮০০ জন ছাত্রী রয়েছে । শিক্ষিকা রয়েছেন মাত্র ৭ জন । অর্থাৎ শিক্ষিকা ও ছাত্রীর অনুপাত ১ : ১১৪ । বিপুল সংখক এই ছাত্রীদের পড়াতে গিয়ে শিক্ষিকাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে । মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষিকার দাবি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য বহুবার নির্দিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে । কিন্তু কোনো কাজ হয় নি ।সে রকমই হাল মৃত রাজকুমার বাবুর রাহাতপুর হাইমাদ্রাসা, মালদার সুজাপুর ন’মৌজা সুভানিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা সহ রাজ‍্যের একাধিক মাদ্রাসার ।

এই বঞ্চিত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষগূলোর অভিযোগ তারা কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১লা জানুয়ারির আগের পিপি অনুযায়ী আবেদন করেছিল মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ,সুপ্রিম কোর্টের আদেশনামা মেনেই।
কিন্তু বেশ কিছু মাদ্রাসার অভিযোগ শূন‍্যপদ থাকা সত্ত্বেও তারা কমিশন থেকে শিক্ষক পায়নি। তাদের আরও অভিযোগ মুর্শিদাবাদের ভাবতা হাসিনা মেমোরিয়াল গার্লস হাইমাদ্রাসা ২০১৮ সালের ২৪শে জানুয়ারীর পিপি অনুযায়ী ৯টি শূন‍্যপদে শিক্ষিকা পেয়েছে  কমিশন থেকে।

আজ মালদার সুজাপুর ন’মৌজা সুভানিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা মাদ্রাসা সহ তিন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করে শিক্ষক বঞ্চনার কথা তুলে ধরে আইনজীবী এক্রামুল বারীর মাধ্যমে। কিন্তু শুনানিতে প্রস্তুতি না থাকার অজুহাত দেখিয়ে সময় চেয়ে নেন মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী।তিনি বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি।তবে তিনি তিনি আদালতকে মৌখিক ভাবে জানান যে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ীই বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক পাঠিয় রেকমেন্ডেশন করেছেন।বিচারপতি কমিশনকে জানান মৌখিক ভাবে হবেনা, লিখিতভাবে তথ্য দিতে হবে।তাতে
কমিশনের আইনজীবী দিওয়ান বাবুুু সময় চান। আবেদনে সাড়া দিয়ে দুদিন সম‍য় দেন বিচারপতি ।সেই মামলার শুনানি হবে আগামী ২৬ তারিখ, বৃহস্পতিবার।সেদিনই আবার ১৮৪ জন নন সিলেক্টেড চাকুরীপ্রার্থী বঞ্চনার অভিযোগ তুলে যে মামলা হয়েছে তার শুনানি আছে।তাদের দাবি প‍্যানেল প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে কাউন্সিলিং বেআইনী।এছাড়াও আরবি টেটেও নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ।

নাম জানাতে অনিচ্ছুক সেরকমই এক মাদ্রাসার প্রধানশিক্ষক নিউজফ্রন্টকে ফোনে বলেন, “নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করেও শিক্ষক পেলাম না। এরকম কমিশন থেকে কি লাভ?”
এবিষয়ে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের তরফ থেকে কোনো মন্তব্য করতে চাননি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here