বন্ধ সরকারী প্রকল্পের কাজ, সংসার বাঁচাতে মহুল চাষই ভরসা জঙ্গলমহলবাসীদের

0
228

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ

বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের অন্যতম বনজ সম্পদ হল ‘মহুল’। স্থানীয়রা অবশ্য এই সম্পদকে ‘মোল’ বা ‘মহুয়া’ বলেই জানে । মোল সংগ্রহ করে এই জেলার বিষ্ণুপুর , জয়পুর , রায়পুর , সারেঙ্গা সহ সোনামুখীর কয়েকশো পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবন ধারন করেন ।

Mahul | newsfront.co
গাছ ভরে রয়েছে মহুলে। নিজস্ব চিত্র

সাত সকালে সোনামুখীর জঙ্গলঘেড়া মাচডোবা , মৌরাশলি , শিবেরবান্দ এলাকায় লক্ষ্মণ রায় ও গীতা সেনাপতিকে মোল সংগ্রহ করতে দেখা গেল। এদিন সকালে এরা জঞ্জলে একটা ঝুড়ি নিয়ে মহুল গাছের তলায় ব্যাস্ত মোল সংগ্রহে ।

mahul | newsfront.co
গাছে মহুল ফল। নিজস্ব চিত্র

বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলে চাষাবাদ প্রায় কমই হয়। তার উপর আবার সেই ভাবে একশ দিনের কাজও হচ্ছে না । তাই সংসার চালানোর জন্য এই সময় দেড়মাস মহুল সংগ্রহ করে অর্থ উপার্জন করেন লক্ষ্মণ ও গীতার মত মানুষরা।

আরও পড়ুনঃ স্কুলগুলিতে বাঁধা আসায় অবশেষে রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামেই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করছে পুরসভা

Mahul collection | newsfront.co
মহুল কুড়াতে ব্যস্ত। নিজস্ব চিত্র

মূলত এই মহুল তারা বাইরে থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকেন । বাড়িতে খাবার হিসাবেও তারা ব্যবহার করে মহুল। গ্রামে এই মহুল গাছ যেমন বাসিন্দাদের সংসার চালানোর একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু তার সাথে এই গাছকে ঘিরে ব্যাপকহারে বাড়ছে চোরা শিকারির সংখ্যাও।

collection mahul | newsfront.co
সংগৃহিত মহুল। নিজস্ব চিত্র

তাই এই চোরা শিকারিদের ফলে ব্যাপক মাত্রায় কমতে শুরু করেছে মহুল গাছের সংখ্যা । সাধারণত এই গাছ কুড়ি মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় । হলুদ রঙের এই ফলে প্রচুর পরিমানে শর্করা, খনিজদ্রব্য , ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে ।

Maul | newsfront.co
মহুল কুড়াচ্ছে চাষি। নিজস্ব চিত্র

গ্রাম বাংলার মানুষ বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার রান্না করার পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবেও ব্যবহার করে থাকেন এই ফল। মহুলের তেল থেকে চামড়ার বিভিন্ন রোগের ঔষধও তৈরী হয় ।

আরও পড়ুনঃ মুমূর্ষু রোগীকে রক্তদান করে জন্মদিন পালন করলেন মেদিনীপুরের সুব্রত

farmer | newsfront.co
ঝুড়ি নিয়ে মহুলের সন্ধানে। নিজস্ব চিত্র

এমনকি এই ফলের উন্মাদ গন্ধে, বাঁকুড়ার বিভিন্ন জঙ্গলে সাম্প্রতিক কালে বাঘের আতংক তৈরি হয়েছে। এছাড়াও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দাতাল হাতির দৌরাত্ম্য ।

Mahul farmer | newsfront.co
মহুল চাষি। নিজস্ব চিত্র

কিন্তু তা সত্যেও, পেটের তাগিদে গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে মহুল সংগ্রহ করতে হয় গীতা সেনাপতি ও লক্ষ্মণ রায়ের মত দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর । আর এই মহুল সংগ্রহ করতে না পারলে হয়তো টান পড়বে দৈনন্দিন সংসার চালানোর খরচে ।

এত কষ্ট করে মহুল যোগার করলেও, পাইকারিদের বা হোলসেলারদের কাছে তারা ন্যায়্য দাম পাচ্ছেন না । কিন্তু অন্যান্য রাজ্যে এই মহুলের চাহিদা রয়েছে প্রচুর ।তাই জঙ্গল মহলের এই মানুষগুলোর দাবি সরকার কেন্দুপাতা সহ অন্যান্য বনজ সম্পদের নির্ধারিত মূল্য যেমন ঠিক করেছেন , সেইভাবে মহুলের ক্ষেত্রেও যদি এই প্রথা গ্রহণ করা হয়। তাহলে তারা আশার আলো দেখতে পাবেন বলে মনে করছেন গ্রামবাসীরা।

কিন্তু তার উপর এবছর লকডাউন এর জেরে আরও বেশি করে সমস্যায় পড়তে হয়েছে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামবাসীদের । এই মুহূর্তে বাইরে থেকে পাইকাররা আসছে না। ফলে তাদের আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

তবে এ নিয়ে গীতা সেনাপতি লক্ষ্মণ রায়রা বলেন , লকডাউনের জেরে বাইরে থেকে পাইকাররা না আসায় মহুয়া ফল বিক্রি করতে পারছি না। ফলে আর্থিকভাবে সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের।

সারা বছর এই দেড় দু’মাস মহুয়া ফল বিক্রি করে দুটো বাড়তি পয়সা রোজগার হয়, কিন্তু এ বছর তা আর হচ্ছে না। তাদের এই রকম কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে, সরকারি সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাদের পরিবার।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here