#Metoo ভাবাচ্ছে কলকাতা পুলিশকেও

0
443

নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজফ্রন্ট 

মাত্র দু’টি শব্দ ‘আমিও….!’ ‘মি টু’! সব কাঁটাতার ছিন্নকরে তৈরি করেছে এক মানব বন্ধন। নারী পুরুষের বিভেদও দূর করে দিয়েছে এই শব্দ দুটি।

ঘটনার সূত্রপাত 64 বছরের প্রৌঢ়া হলিউড প্রযোজক হার্ভি ওয়াইন স্টেইনের যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে এক মহিলা মুখ খোলার পর প্যান্ডোরার বাক্স খুলে গেছে। অসংখ্য অভিনেত্রী থেকে তার সংস্থার কর্মী সবাই সরব হয়েছে হার্ভির বিরুদ্ধে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই গত রবিবার রাত্রে মার্কিন অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানোই প্রথম টুইটারে ছড়িয়ে দেন ‘মি টু’ শব্দ দুটো। একই সঙ্গে তিনি লেখেন, “যে সব মহিলা যৌন হেনস্থা বা নির্যাতনের শিকার, তাঁরা সবাই যদি স্টাটাসে ‘মি টু’ লেখেন, তাহলে বোঝা যাবে সমস্যার শিকড় কত গভীরে। ” তারপর হ্যাশট্যাগে ‘#Metoo’ ‘#মিটু'(আমিও) ছড়াতে থাকে। রবিবার অ্যালিসার টুইটের কয়েক ঘন্টার মধ্যে অগণিত মহিলা সরব হন, পুরুষরাও অকপটে তাদের উপর যৌননিগ্রহের কথা বলছেন।

আমেরিকা থেকে ভারতে এসে এই ঢেউ আছড়ে পড়েছে কলকাতাতেও। দ্রুত বাড়তে থাকা ‘#মি টু’ পোস্ট দেখে আর চুপ করে থাকতে পারেনি কলকাতা পুলিসও। কলকাতা পুলিস তাদের ফেসবুক পেজে লিখে জানায়, ‘‌গত দু’‌দিন ধরে ফেসবুক এবং টুইটার ভরে গিয়েছে ‘#মি টু’–তে। এত সংখ্যক মহিলা যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছে দেখে আমরা সত্যিই খুবই অবাক হচ্ছি। কলকাতা পুলিস এই ঘটনায় খুবই উদ্বিগ্ন। তবে আমরা সব মহিলাদের উদ্দেশ্যে জানাতে চাই, যে সব মহিলারা ফেসবুক ও টুইটারে ‘#মি টু’ শেয়ার করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে আমরা আছি। আমরা আপনাদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিতে সব সময় প্রস্তুত। তাই আপনারা পুলিস থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করুন। আমাদের অফিসাররা অবশ্যই ধৈর্য্য সহকারে আপনার অভিজ্ঞতা শুনবেন এবং অভিযোগ দায়ের করবে। আমরা চাই মহিলাদের শক্তি আরও বাড়ুক, আমরা চাই মহিলারা আড়চোখে দেখা, তাঁদের কটুক্তি করা, হুমকি দেওয়া, শারীরিকভাবে হেনস্থার বিরুদ্ধে গর্জে উঠুক। আমরা চাই কোনও ধরনের ভয়–ভীতিকে প্রশ্র‌য় না দিয়ে পুলিসের কাছে এগিয়ে আসুক তাঁরা।’‌

তবে মহিলাদের এগিয়ে আসার উৎসাহ দিয়েই থেমে যায়নি কলকাতা পুলিস। তারা তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, যৌন হেনস্থা রোধ করতে ছেলেদের সঙ্গেও কথা বলা জরুরি। সেটা মনে করেই কলকাতা পুলিস সম্প্রতি স্কুলগুলিতে ‘‌ডিয়ার বয়েস’‌ বলে একটি প্রকল্পের সূচনা করেছে। যেখানে কলকাতা পুলিসের পক্ষ থেকে আধিকারিকরা কলকাতার ১০টি স্কুল পরিদর্শন করবেন।
এ বিষয়ে কলকাতা পুলিসের যুগ্ম কমিশনার সুপ্রতীম সরকার বলেন, ‘‌ফেসবুকে এত সংখ্যক মহিলা যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন, সেটা ‘#মি টু’ পোস্ট না দেখলে বুঝতেই পারতাম না। তবে কলকাতা পুলিস মহিলাদের পাশে সবসময় রয়েছে, সেটা মনে করাতে আমরাও আমাদের পেজে এই পোস্টটিকে সমর্থন করে একটি পোস্ট দিই। যে পোস্টে আমাদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনেকেই তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে যৌন হেনস্থাকে রুখতে আমাদের আগে বোঝা দরকার পুরুষদের মানসিকতা। তাই স্কুলস্তরে ডিয়ার বয়েস প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। স্কুল থেকেই একটি ছেলের সঠিক মানসিকতা গড়ে ওঠে। আমাদের পক্ষ থেকে স্কুলগুলিতে পরিদর্শন করে ছেলেদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া হবে। নভেম্বর থেকে এই প্রকল্পটি শুরু করবে কলকাতা পুলিস।’‌

 

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here