জৈদুল সেখ, মুর্শিদাবাদঃ
মাধ্যমিকে ৫২ শতাংশ নম্বর পেয়েও ১০০% ফেলোশিপ পেয়ে ইউরোপে পিএইচডি করতে চলেছেন নাসিম আহমেদ। বাবা এরশাদ আলী ছেলের আশাকে কখন নিরাশ হতে দেননি, সবসময় স্রষ্টার উপর ভরসা রাখার কথা বলেছেন। ‘ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে অ্যান্ড ইটস কোয়ালিটি’ এই প্রজেক্টের উপর অফিসার কাজ করছেন। ভবিষ্যতে জাতিসংঘের অধিনে কাজ করাই তাঁর প্রধান ইচ্ছা।

নাসিম আহমেদের এই সাফল্যে খুশি এলাকার মানুষ। তাঁর পিতা এরশাদ আলী মন্ডল হালসানাপাড়ায় প্রায় ২৫ বছর ধরে মসজিদের ইমামতি করেছেন। নাসিম আহমেদ জানিয়েছেন, তাঁর এই সাফল্যের পিছনে সবচেয়ে বড়ো অবদান তাঁর পিতা মাতার। অভাব অনটন থাকা সত্ত্বেও ছেলের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে রাতদিন এক করে দিয়েছেন দুইজনে। এই ছেলের এই সাফল্যে খুশি এরশাদ আলী ও নাফিয়া বিবি।
নাসিম ভারতীয় মিনিস্টারি অফ হেলথ এন্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার এর রিচার্চ ইনিস্টিটিউট( ইন্টারন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট ফর পপুলেশন সায়েন্স)এ মাস্টার্স এবং এমফিল করে মাসিক ফেলোশিপের মাধ্যমে। নাসিম এখন পর্যন্ত ২০টার বেশি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা করেছেন।
নাসিম আহমেদ তাঁর সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে একটি আপ্লুত জানান, ‘আমি মাধ্যমিকে মাত্র ৫২ শতাংশ নম্বর পেয়েছি এবং এখন আমি ১০০ শতাংশ ফেলোশিপ নিয়ে ইউরোপ থেকে পিএইচডি করতে যাচ্ছি। এটা প্রমাণ করে যে শুরুতে কিছু ব্যর্থতা আসলেও প্রবল ইচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে পরে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। অবশ্যই তার সঙ্গে অভিভাবকের আশীর্বাদ জরুরী। আমার পিতা তার সীমিত আয় হলেও আমার শিক্ষার জন্য অর্থ ব্যয় করতে তাঁরা কখনও পিছপা হননি। পিতা মাতা আমার অনুপ্রেরণা।’
বর্তমানের তিনি ভারতের ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে অ্যান্ড ইটস কোয়ালিটি শিরোনামের একটি প্রজেক্টে রিসার্চ অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। পপুলেশন কাউন্সিল (আমেরিকান সংস্থা যা ৫০টিরও বেশি দেশ কভার করে) দ্বারা অর্থায়িত সার্ভে রিসার্চ ডেভেলপ করার প্রোগ্রাম।
নাসিম আহমেদ এর আগে মুম্বাইতে ইউনিসেফ-এ প্রজেক্ট অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন। পিএইচডি শেষ করার পর জাতিসংঘে যোগদান করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক স্তরের সমাজকর্মী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। নিজে কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন তাই তিনি দুঃস্থ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সাহায্য করতে চান।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584