লেখাপড়ায় কিছু হবে নাঃ বাড়ছে স্কুলছুটের সংখ্যা

0
110

শ্যামল রায়,বর্ধমানঃ

মিড ডে মিল  থেকে শুরু করে সাইকেল স্কুলব্যাগ জুতো প্রভৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সরকারের তরফ থেকে বিলি করা হলেও ইস্কুল ছুট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এমনটাই এক পরিসংখ্যান ধরা পড়েছে কালনা শহরে। অথচ স্কুলছুট ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা কমানোর জন্য সরকার নানা বিধ প্রকল্পের সুযোগ দিলেও এরকমটা কেন? তাই অভিযান শুরু করেছে কালনা মহকুমার বেশ কয়েকটি স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এক সমীক্ষা শুরু করেছে কালনা শহরের মহিষমর্দিনী ইনস্টিউট। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে আমাদের শিক্ষকরা বিভিন্ন স্কুলছুট ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে গিয়ে অভিভাবক অভিভাবিকা দের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদেরকে ইস্কুলে পঠন-পাঠন শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু অনেকেই জানিয়েছেন লেখাপড়া করে কিচ্ছু হবে না তাই তারা লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র কাজ করছেন বলে এমনটাও অভিভাবক অভিভাবকদের তরফ থেকে জানা গিয়েছে। মহিষমর্দিনী ইনস্টিটিউশনে দশম শ্রেণীতে ১৭ জন এবং সপ্তম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ৩৭ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বসেনি। এছাড়াও আরও জানা গিয়েছে যে এই স্কুলে ৭০ জন ছাত্রছাত্রী স্কুলে আসেনা।
অথচ সরকারি নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন স্কুলে আসা ছাত্রছাত্রীরা।
স্কুলের এক প্রতিনিধিদল ওই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে গিয়ে জানতে পেরেছেন যে ইতিমধ্যেই ৭ জন ছাত্র ভিন রাজ্যে কাজের জন্য চলে গিয়েছে।
এছাড়াও বহু ছাত্র ওইসব শিক্ষকদের কাছে অকপটে স্বীকার করেছেন যে পড়াশোনা করে আর কোন কিছু ভালো ফল হবেনা এমনকি চাকরিও মিলবে না তাই তারা এখন থেকেই কাজে নেমে পড়েছে। কাজ খুঁজে নিতে বিন রাজ্য পাড়ি দিতে রাজি বলে জানিয়েছেন অভিভাবক অভিভাবকেরা। যদিও শিক্ষক-শিক্ষিকারা ঐ সকল অভিভাবক অভিভাবিকা দের কাছে জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের ঘরের ছেলেমেয়েরা জন্য মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করে পাস করে অন্যত্র কাজ খুঁজিনি তা হলেও অনেকটা উপকারে লাগবে। মাধ্যমিক পাস না করে কাজেই যুক্ত হলে অদূর ভবিষ্যৎ অনেক কিছুই সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে শুরু করে চাকরির অনেক সুযোগ হারাতে হবে এমনটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন শিক্ষক দলের প্রতিনিধিরা।
সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যবসা করতে হলেও মাধ্যমিক পাস অনিবার্য। তাই আপাতত মাধ্যমিক পাস করার জন্য স্কুলে যেতে হবে এমনটাও বার্তা দিয়েছেন ওই শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এই রকম উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও কি মিলবে স্কুলছুট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমানো? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে।
মহকুমাশাসক নীতিন সিংহানিয়া জানিয়েছেন এই ধরনের উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে আবেদন রেখেছেন তারা যেন নিয়মিতভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক অভিভাবিকা দের সাথে যোগাযোগ রেখে স্কুলছুট কমানো যায় তার দিকে নজর রাখার কথা বলেছেন। পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লক  ও মন্তেশ্বর ব্লক এলাকায়  বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় স্কুলছুটের সংখ্যা বেশ অনেকটাই বেড়ে চলছে বলে জানা গিয়েছে। তবুও স্কুলছুট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে বেশ কিছু কিছুই স্কুল কর্তৃপক্ষ।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here