এনপিআর-এনসিআর-র পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ভোলবদল শাহের

0
52

নিউজফ্রন্ট, ওয়েবডেস্কঃ

মঙ্গলবার এএনআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, “এনপিআর এর সঙ্গে এনআরসি-র কোনও সম্পর্ক নেই।

amit shah | newsfront.co
ফাইল চিত্র

এর সঙ্গে সিএএ বা নাগরিকত্ব আইনেরও কোনও যোগ নেই। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যই নানা গুজব রটানো হচ্ছে।” সংখ্যালঘুদের প্রতি ভরসা জাগিয়ে তিনি বলেছেন, এনআরসি ও এনপিআর দুটি আলাদা আইনের অধীনস্থ। এনপিআর এর কোনও তথ্য এনআরসিতে ব্যবহার করা হবে না। সুতরাং সংখ্যা লঘুদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, যখন বিল হিসাবে সর্বপ্রথম লাগু হয়েছিল, প্রতিবাদের আগুনে প্রথম গর্জে উঠেছিল অসম। তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য রাজ্যে বিক্ষোভের পারদ অগ্রসর হলে দেশের বাকি আমজনতাও এই অসাংবিধানিক আইন নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হন।

আরও পড়ুনঃ গণঅভিযোগ কেন্দ্রের উদ্বোধন পশ্চিম মেদিনীপুরে

বিক্ষোভের চরম মুহূর্তেও অসমে যখন ফোন পরিষেবা ও ইন্টারনেট বন্ধ তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অসমের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে সহমর্মী টুইট করে বলেছিলেন অসমের ভাই-বোনেদের চিন্তা করার কোনও কারণ নেই, তাদের কোনও ক্ষতি হবে না। সেই সহমর্মী অপ্রাসঙ্গিক টুইটে কেউ যেমন ভরসা পায়নি, সেরকমই অমিত শাহের এনআরসি-এনপিআর-সিএএ নিয়ে কোনও বক্তব্যই জনগণ আর কার্যত বিশ্বাস করছে না।

এনপিআর হল একটি ডাটাবেস যাতে দেশে বসবাসরত সমস্ত বাসিন্দার নামের একটি তালিকা থাকবে। দশ বছর অন্তর কেন্দ্র সরকার কর্তৃক আদমশুমারিতে যে ‘ঘর তালিকা’ নির্ণয় করা হয়, এটি সেরকমই একটি প্রণালী।

এনপিআর-এর উদ্দেশ্যে সাধারণ বাসিন্দা হলেন এমন এক ব্যক্তি যিনি ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে কোনও জায়গায় বাস করেছেন এবং আরও ছয় মাস বা তারও বেশি সময় সেখানে বাস করতে চান—সেগুলি-সহ অন্যান্য স্থায়ী বাসিন্দাদের রেকর্ড তৈরি করা।

আরও পড়ুনঃ সিএএ-র বিরোধিতায় ৮ই জানুয়ারি সাধারণ ধর্মঘটের ডাক ট্রেড ইউনিয়নের

১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন ও ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব (নাগরিকের নথিভুক্তিকরণ ও জাতীয় আইডেন্টিটি কার্ড) বিধি অনুসারে এনপিআর তৈরি করা হচ্ছে। বলা হয়েছে এনপিআর-ই হল এনআরসির প্রাথমিক পর্যায়। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মোদী সরকার সংসদে কমপক্ষে ৯ বার জানিয়েছে এনপিআরের ভিত্তিতেই হবে এনআরসি।

একটি জাতীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, ২০১৮-১৯ সালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের একটি বিশেষ রিপোর্ট সদ্য প্রকাশ পেয়েছে, যাতে উল্লেখ রয়েছে, এনআরসি হল এনপিআর এর প্রথম পদক্ষেপ।

২০১৪ সালের ৮ জুলাই কংগ্রেস সাংসদ রাজীব সাতাভের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রকের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছিলেন, এনআরসির ভিত্তি হল এনপিআর।

২০১৫ সালের ৯ ও ২২ জুলাই সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বেও একই কথা বলেছিলেন রিজিজু। রাজ্যসভায় এর প্রতিফলন ঘটে ২৩ জুলাই। ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর রিজিজু রাজ্যসভায় বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছিলেন।

তাই এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অকপট অস্বীকারকে বিরোধীরা ‘ভোলবদল’ হিসেবেই দেখছেন।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here