নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ
নন্দীগ্রামের ভূমি আন্দোলন কারো কাছেই অজানা নয়। এই আন্দোলন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকটাই সাফল্য অর্জন করেছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। তবে প্রত্যেক বছর নন্দীগ্রামের ভূমি আন্দোলনে উপস্থিত থাকতেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

কিন্তু এই বছর তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করায় কার্যত রাজনৈতিক মহলের মূল চর্চা হয়ে দাঁড়িয়েছে শুভেন্দু অধিকারী। রাত বারোটা বাজতেই নন্দীগ্রামে হাজির শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শহীদ বেদীতে মাল্যদান ও পুষ্প অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদের শ্রদ্ধা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।

এই দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে, নাম না করে কার্যত নিশানা করলেন শাসক শিবিরকে। তিনি বলেন, “অনেকে বিগত দিনে আসতেন না, আগামী দিনেও আসবেন না। সামনেই নির্বাচন,তাই এবছর আসবেন। এটা বুঝতে কারো বাকী নেই।”
আরও পড়ুনঃ নেতাইয়ের শহীদ বেদীতে শুভেন্দুর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন
বুধবার গভীর রাতে ভাঙ্গাবেড়িয়াতে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন পরে এভাবেই নাম না করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বলেন এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক, প্রাক্তন সাংসদ বলে নয়, নন্দীগ্রামের আত্মীয় হিসাবে ৭ জানুয়ারী, ১৪ মার্চ, ১০ ডিসেম্বরের মত জমি রক্ষা আন্দোলনের বিশেষ দিন গুলোতে উপস্থিত থেকেছি , শহীদদের স্মরণ করেছি।

তারপরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে শুভেন্দু বলেন, শহীদ বেদীর প্রাঙ্গণে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে অনেকেই হুমকি দিয়েছিল। তা কখনও সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতা। তাঁর মতে, “রক্তচক্ষু দেখিয়ে আমাদের আটকানো যাবে না।”
আরও পড়ুনঃ নেতাই নিয়ে বিস্ফোরক দাবি সিপিএম নেতা সুশান্ত ঘোষের
উল্লেখ গত ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে জমি রক্ষার আন্দোলন চলাকালীন সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর আক্রমনে ৭ই জানুয়ারী গভীর রাতে খুন হয় ভরত মণ্ডল, শেখ সেলিম, বিশ্বজিৎ মাইতি। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন ২০০৭ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি নিজের হাতে শেখ সেলিমের দেহ তুলেছিলেন। নন্দীগ্রামে তাঁর এই কর্মসূচিতে তিনি প্রতি বছরই আসেন। আর এই কর্মসূচি দল,জাতি,ধর্ম,বর্ণ সব কিছুর ঊর্ধ্বে বলে মনে করেন বলে জানিয়েছেন।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584