নিজস্ব সংবাদদাতা,দক্ষিণ দিনাজপুরঃ
পরিযায়ী পাখির ছানাদের সন্তান স্নেহে আগলে রাখছেন বালুরঘাটের গৃহবধূ উজ্জ্বলা দাস ৷গত ৫ ই সেপ্টেম্বর থেকে এই ঘটনা জানার পর থেকে বিষয়টা তদারকি করছে শহরের পরিবেশপ্রেমী সংস্থা দিশারী সংকল্প।এমনটা আগে কখনো শোনা যায়নি।এমনি পাখি পোষ মানার ঘটনা স্বাভাবিক ৷

কিন্তু পরিযায়ী পাখির ক্ষেত্র সম্পূর্ণই আলাদা ৷ বালুরঘাট শহরের দিপালীনগরের উজ্জ্বলা দাস বাড়ির পিছনে হঠাৎ হাঁসের ডাকের মতো ডাক শুনে স্বামী সহ দেখতে যান। তারপর দেখে সাদা কালো ডোরাকাটা পাখির ছানা। কিন্ত তা হাঁস নয়। পরে জানা যায় যে এটা পরিযায়ী পাখি লেসার হুইসলিং ডাক বা সরালের ছানা। তারপর থেকে এদের সন্তান স্নেহে যত্ন করছেন উজ্জ্বলা।

নিয়ম করে সকালে ছাদে একটু ছেড়ে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই থাকা, যাতে কাক বিরক্ত করতে বা ধরতে না পারে ৷ মুড়ি নরম করে মেখে খেতে দেওয়া, পরের দিকে একটু ভাত চটকে দেওয়া প্রভৃতি ৷ সকাল হলে ওদের মা বাবাও আসছে বাড়ির ছাদে । তাদের ডাকে ছানারাও সাড়া দেয়। তারপর ছাদেই একটু ছানাদের নিয়ে ঘোরে ওরা।মা- বাবা নিজেদের খাবারের খোঁজে চলে গেলে তারপর শুরু হয় ওদের খাওয়ানোর পর্ব।উজ্জ্বলা দাস জানান, ‘আমার মায়া হয়ে গিয়েছে ওদের উপর।অনেকে জানতে পেরে গুলতি দিয়ে বা লাঠি নিয়ে আসে।

কিন্ত আমি ওদেরকে প্রতিহত করি।প্রয়োজনে কড়া কথা শোনাই।এই বাচ্চাদের তো বাঁচাতে হবে।এই কাজে স্বামী চম্পক দাসও সবসময় সাহায্য করছে আমাকে ।দিশারী সংকল্পের থেকে ও প্রতিদিন খোঁজ নেওয়া হচ্ছে , বলা হয়েছে যাবতীয় সহযোগিতা করবে।’এই প্রসঙ্গে দিশারী সংকল্পের পক্ষে সম্পাদক তুহিন শুভ্র মন্ডল জানান, ‘আমাদেরই সদস্য সত্যজিৎ মজুমদার বিষয়টা প্রথমে জানায়।
আরও পড়ুনঃ নদী গর্ভে বিলীন হতে বসেছে শ্মশান ঘাট
তারপর থেকে নিয়ম করে যাচ্ছি।ওগুলো বালিহাঁস নয় ,লেসার হুইসলিং ডাক বা ছোট সরালের ছানা।এই ঘটনা অভূতপূর্ব।মানুষ পরিযায়ী পাখির ছানাদের সন্তান স্নেহে বড় করছে এমন ঘটনা বিরল । আমরা ওই পরিবারের সাথে সবসময়ই আছি।যোগাযোগও রাখছি। প্রকৃতির অন্য সন্তানদের প্রতি এই ভালবাসা যাতে অটুট থাকে এই কথাই তো আমরা বারবার বলি।একই সাথে বিষয়টা নিয়ে বনবিভাগের সাথেও যোগাযোগ করছি।’
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584