শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ
ফের চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ উঠল এমআরবাঙুর হাসপাতালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, করোনা পজিটিভ রোগীকে করোনা নেগেটিভ বলে পরিবারের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘন্টা পরে যতক্ষণে ভুল ভেঙেছে, ততক্ষণে পরিবারের সঙ্গে গোটা একটা দিন কাটিয়ে ফেলেছেন ওই করোনা রোগী। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যেতেই মৃত্যু হল ওই রোগীর। কিভাবে মহামারী পরিস্থিতিতে এত মারাত্মক ভুল হয় তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর।

জানা গিয়েছে, মৃত বৃদ্ধ আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল থেকে তিনি অসুস্থতা বোধ করতে শুরু করেন। সর্দি, কাশি, জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ২২ এপ্রিল বিকেলে প্রথমে একটি ফিভার ক্লিনিক এবং এমআরবাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ভর্তি করে নেওয়া হয়।

এরপর ২৫ এপ্রিল স্বাস্থ্যভবন মারফত মৃতের ছেলে জানতে পারেন, তার বাবা করোনা পজিটিভ। এরপরেই গোটা পরিবারকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়। তারপরেই আচমকা পট পরিবর্তন! ওই দিন বিকেলেই এমআর বাঙুর হাসপাতাল থেকে ফোন করে বলা হয়, ভুল করে তার বাবাকে করোনা পজিটিভ বলা হয়েছে। উনি আসলে করোনা নেগেটিভ। রাত ১০ টা নাগাদ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই বৃদ্ধকে। স্বস্তি পায় পরিবারও। বৃদ্ধ ফিরে আসেন তার ৬৩ বছরের স্ত্রী, ৩৫ বছরের ছেলে, ৩২ বছরের পুত্রবধূ, ৭ মাসের নাতি এবং ৬ বছরের নাতনির কাছে।
২৭ এপ্রিল বিকেলে ফের আবার স্বাস্থ্যভবন থেকে ফোন আসে। আর এই ফোনের পর আবার একটি ফোনের বয়ান শুনে রীতিমতো আঁতকে উঠেন পরিবারের সদস্যরা। বৃদ্ধের ছেলে স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিককে জানান যে, তাঁর বাবার রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া গিয়েছে। বাবাকে হাসপাতাল ছেড়েও দিয়েছে। তার কয়েক ঘন্টা পরেই স্বাস্থ্য দফতর থেকে জানানো হয়, একটা মারাত্মক ভুল হয়েছে। ভুল করে এম আর বাঙুর কর্তৃপক্ষ করোনা পজিটিভ বৃদ্ধকে অন্য কারোর রিপোর্টের সঙ্গে গুলিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়েছেন। স্বাস্থ্যভবন থেকেই বৃ্দ্ধের পরিবারকে জানানো হয়, তারা অবিলম্বে অ্যাম্বুলেন্স পাঠাচ্ছেন। বৃদ্ধকে ফের হাসপাতালে ফিরে আনা হবে।
সোমবার রাতেই স্বাস্থ্যভবন থেকে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে পাঠানো হয় অ্যাম্বুল্যান্স। নিয়ম মেনে বৃদ্ধকে ফের নিয়ে যাওয়া হয় এমআর বাঙুর হাসপাতালে। আর তারপরের দিনই সকালে জানানো হয়, বৃদ্ধ মারা গিয়েছেন। গোটা ঘটনা ঘিরে চরম আতঙ্কে গোটা ওই পরিবার। চূড়ান্ত অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এমআর বাঙুর হাসপাতালের সুপার শিশির কুমার নস্করের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে হোয়াট্সঅ্যাপে মেসেজ করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘এমআর বাঙুরে এ রকম একটা ঘটনার কথা শুনেছি। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’ সত্যিই খোঁজ নেওয়া হবে নাকি হাজারো ঘটনার মধ্যে চাপা পড়ে যাবে এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, সেটার উত্তর দেবে সময়ই।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584