শ্যামল রায়,নবদ্বীপঃ
কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাটির তৈরি সামগ্রীর কদর থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত মৃৎ শিল্পীরা। উৎসবের পর উৎসব শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু তাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী বিক্রি নেই। তাই চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন শিল্পীরা।নবদ্বীপ শহরের রেলস্টেশন সংলগ্ন বিশ্বাসপাড়া প্রাচীন মায়াপুর পোড়াঘাট প্রফুল্ল নগর গৌরাঙ্গ কলোনি সহ বেশ কিছু এলাকায় মৃৎশিল্পীদের বসবাস রয়েছে।নবদ্বীপের বড় উৎসব রাস উৎসব।
এই উৎসবের মুখে তাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের সরা মালশা এক সময় ভালো বিক্রি হতো বর্তমানে চাহিদা থাকলেও লাভ নেই।জানিয়ে দিলেন এই শিল্পের সাথে যুক্ত মৃৎ শিল্পীরা।

নবদ্বীপের যেসব মৃৎশিল্পীরা পুজোর কাজে ব্যবহৃত মাটির তৈরি নানা উপকরণ তৈরি করেন আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন সেই সকল শিল্পীরা।ফলে অনেক শিল্পী ভিনদেশে অন্য কাজের লোভে চলে গেছে এই পেশা ছেড়ে।
নতুন প্রজন্মের কেউ এই শিল্পে আর থাকতে চাইছে না বা আসতে চাইছে না কারণ একটাই লাভ নেই।
উৎসবের শহর নবদ্বীপ। দূর্গাপূজো কালীপুজো রাস উৎসব এর পাশাপাশি নবদ্বীপে সারা বছর ধরেই কিছু না কিছু উৎসব লেগেই থাকে।রয়েছে নবদ্বীপ শহর জুড়ে মঠ-মন্দির। মাটির চায়ের ভার থেকে শুরু করে নানান ধরনের উপকরণ তৈরির কাজ করে থাকেন এখানকার শিল্পীরা। মাটির প্রদীপ ,সরা ,ধুনুচি, মালশা প্রভৃতি সামগ্রী তৈরি করেন এই সকল মৃৎশিল্পীরা কিন্তু বর্তমানে উপকরণের দাম বাড়লেও এসব সামগ্রীর দাম বাড়েনি ফলে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন শিল্পীরা।প্রতিবছর হুরহুর করে কাঁচামালের দাম সহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যায় পরিশ্রম করায় সার হয়ে দাঁড়াচ্ছে মৃৎশিল্পীদের কারন এইসব উপকরণ বিক্রি করে লাভ পাচ্ছেন না।
নবদ্বীপ শহরের বিশ্বাস পাড়ার মৃৎশিল্পী মাধব পাল জানিয়েছেন যে “আমরা বংশ পরম্পরায় পেশার সাথে যুক্ত পূর্বপুরুষের কাছ থেকে কাজ শিখেছি বর্তমানে আমাদের ছেলেমেয়েরা এই কাজে আর থাকছে না কারণ লাভ নেই তাই বেঁচে থাকার জন্য ভিনদেশে পাড়ি দিচ্ছে আমাদের ছেলেমেয়েরা। আর এই কাজের প্রতি এখনকার ছেলেমেয়েদের কোন আগ্রহ নেই।
কাঁচামালের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে অথচ মাটির তৈরি এসব সামগ্রীর দাম বেশি চাইলে ক্রেতারা কিনছে না এখন আধুনিক প্রযুক্তির জগতে নতুন নতুন প্লাস্টিকের সামগ্রী বেরিয়েছে সেই সকল সামগ্রী প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ রয়েছে তাই মাটির সামগ্রী প্রতি আগ্রহ কমেছে তাই লাভ নেই।”
দিনের পর দিন মৃৎশিল্পীদের অভাব ঘটতে চলেছে বিভিন্ন এলাকায়। রাশির মুখে বিক্রি হবে বলে সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন এই সকল শিল্পীরা কিন্তু এবার যা অবস্থা তাতে লোকসান ঘরে করেই বেঁচে থাকতে হবে জানিয়ে দিলেন এই শিল্পের সাথে যুক্ত শ্রমিকরা।যদিও মঠ-মন্দিরে কিছু কিছু মাটির সামগ্রী প্রয়োজনে কিনে নেন সাধু ভক্তরা কিন্তু অধিকাংশ ক্রেতারা মাটির জিনিস কেনার পক্ষে আগ্রহ বর্তমানে একদম নেই কাগজের থার্মোকলের প্লেট চলে আসায়
মাটির উপকরণের বিক্রি নেই তাই আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে শিল্পীদের।
আরও পড়ুনঃ কার্তিক লড়ায়ে থিমের লড়াই
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584