স্ত্রীর সম্মান রক্ষার্থে রক্তাক্ত স্বামী, চাঞ্চল্য কাকদ্বীপে

0
74

সিমা পুরকাইত, দক্ষিণ ২৪ পরগণাঃ

স্ত্রীর সম্মান বাঁচাতে গিয়ে প্রহৃত হলেন স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপ থানার নাদাভাঙায়। গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন হারুলাল নায়েক (৪০)। অভিযুক্ত প্রতিবেশী নারায়ণ বেরা, লক্ষ্মী বেরা ও গৌতম বেরা।

husband injured to protect wife | newsfront.co
হারুলাল নায়েক, প্রহৃত। নিজস্ব চিত্র

সূত্রের খবর, শাসকদলের অনুগামী হওয়ায় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা ছাড়া আর কিছু পালন করছে না- দাবি এলাকাবাসীর। খুনের হুমকির আতঙ্কে রয়েছে নায়েক পরিবার সহ এলাকাবাসীরা।

জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের ১০ তারিখে। শংকরী বেরার ছাগল বাঁধা ছিল তারই বাড়ির পাশে। সেই ছাগল চলে যায় প্রতিবেশী নারায়ণ বেরার বাড়ির বাগানে। ছাগলটিকে ধরে রাখে নারায়ণ। সেটা শংকরী আনতে গেলে ঘটে বিপত্তি । প্রথমে বাগবিতন্ডা, পরে বচসা। অবশেষে শংকরীকে বিবস্ত্র করে চুলের মুটি ধরে মারধর করে নারায়ণ ও তার স্ত্রী লক্ষ্মী। স্ত্রীর চিৎকারে ঘটনাস্থলে যায় হারুলাল।

husband injured to protect wife | newsfront.co
শংকরী নায়েক, প্রহৃত স্ত্রী। নিজস্ব চিত্র

সেখানেই নারায়ণের হাতে প্রহৃত হন চল্লিশ বছরের হারুলাল বাবু। প্রথমে মারধর করে নারায়ণ। তারপর নারায়ণের ছেলে গৌতম বাড়ি থেকে কাঠের বাটাম নিয়ে এসে প্রথমে হারুলালের মাথায় আঘাত করে।
পরে মুখে আঘাত হানে অভিযুক্ত নারায়ণ ও তার ছেলে গৌতম। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পরে হারুলাল।

আরও পড়ুনঃ বিজেপি মন্ডল সভাপতির বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

panchayat member | newsfront.co
কাশীনাথ মাইতি, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য। নিজস্ব চিত্র

বিবস্ত্র স্ত্রীর চিৎকার আর রক্তাক্ত হারুলালবাবুকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী। নিয়ে যায় কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে। অবস্থার অবনতিতে ডায়মন্ডহারবারে ভর্তি থাকেন হারুলাল বাবু । মাথায় গুরুতর আঘাত ও নাকের হার ভেঙেছে বলে চিকিৎসকেরা জানান । এর পর থানায় অভিযোগ করতে আসলে শুরু হয় শোরগোল।

ভারতীয় দ্বন্দ বিধি অনুযায়ী, ৩৪১/৩২৩/৩৫২/৩৫৪/৫০৬ / ৩৪ আই পি সি ধারায় অভিযোগ করা হয় তিন পাষন্ডের বিরুদ্ধে। তবে এত দিন কেটে গেলেও আজও এলাকায় দিব্য ঘুরে বেরাচ্ছে তিন মূল অভিযুক্ত ।

পরিবারের দাবি, শাসকের ছত্রছায়ায় থাকায় আজও পুলিশ সঠিক তদন্ত করছে না এ ব্যাপারে। আর হারুলাল বাবুরা সিপিএম সমর্থক। সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বীতশ্রদ্ধ এলাকাবাসী। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সমাধান না হলে আন্দোলনের হুমকি দেন গ্রামবাসীরা। যদিও এলাকার গ্রামসভার সদস্য কাশীনাথ মাইতি সমাধানের আশ্বস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

স্ত্রীর সম্মান বাঁচাতে গিয়ে প্রহৃত পৌঢ়া আজও পুলিশ প্রশাসনের উপর ভরসা রেখেছেন। যদি প্রশাসনিক স্তর সক্রিয় হয় তাহলে অসহায় নায়েক পরিবার সঠিকবিচার পাবেন । সেই আশাতেই দিন গুনছেন তারা।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here