নব্বই দশকের মাঠ কাঁপানো ফুটবলার আজ পোল্ট্রির দোকানে কর্মরত

0
77

তপন চক্রবর্তী,উত্তর দিনাজপুরঃ

ছেলেটি একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের।তার খেলোয়াড় জীবন শুরু হয় ৮-৯বছর বয়স থেকেই।পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে ফুটবল খেলাই ছিল তার প্রাণ।

আশির দশকে রায়গঞ্জের বর্তমান প্রবীণ খেলোয়াড় কাম কোচ মনি রায়,বারিধি রায় ও মোহন সেনগুপ্তের হাত ধরে খেলার মাঠে খেলা শিখিয়েছিল সুশান্তকে।পরবর্তীতে এক সময় খেলার মাঠে দাপিয়ে বেরিয়েছে।

footballer | newsfront.co
সুশান্ত দে(পংক)।নিজস্ব চিত্র

তার নাম সুশান্তা দে(পংক)।উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের তার বাড়ি।সুশান্ত বাবু জানায় ১৯৮৮ সালে সাব জুনিয়ার,১৯৯২ সালে জুনিয়ার এবং ২০০১সাল থেকে সিনিয়ার গ্রুপে দিনাজপুর জেলার হয়ে রায়গঞ্জের সুশান্ত দে(পংক)গোটা রাজ্যের বিভিন্ন মাঠে এক সময় দাপিয়ে বেরিয়েছেন।

সুশান্ত বাবু জানান ৯০ এর দশকে কলকাতায় সল্টলেকে খেলার সুবাদে তিনি তিনজন বিখ্যাত ব্যক্তির সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তিনারা হলেন শৈলেন মান্না, ভাষাবিদ ডঃ পবিত্র সরকার এবং সুভাষ চক্রবর্তী।সুশান্ত বাবু আক্ষেপ করে বললেন অন্যান্য দেশে ভালো খেলা জানলে খেলার সুবাদে চাকরি পাইয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ কালিয়াগঞ্জে দু’দিনের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

আর আমাদের দেশে ভালো খেলা জানলে পোল্ট্রির দোকানে সেলসম্যানের কাজ পাওয়া যায়।সুশান্ত বাবুর স্ত্রী ডলি দে দুঃখ করে বললেন বছর তিন তার স্বামী সুশান্ত দে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন দফতরে ফুটবল দলে বিভিন্ন জেলায় জেলায় দাপিয়ে খেলেছেন।সবাই বলেছিল সুশান্ত দের চাকরি এবার হচ্ছেই।

কিন্তু কি দেখা গেল,শুভেন্দু অধিকারী পরিবহন মন্ত্রী হয়ে আসার সাথে সাথে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন দফতর থেকে খেলার পাট উঠিয়ে দিলেন।নিরাশ হয়ে তার স্বামী ঘরে ফিরে এলেন।আমাদের দেশের নেতারা মুখে এক কথা বলে আর কাজে অন্য কিছু করে থাকে।

তবে ফুটবল চলবেই।সুশান্ত বাবুর একমাত্র পুত্র ধীরাজ দে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছে আর সে ‘বাপ কা বেটা ‘।নিজে তৈরি হচ্ছে এব্যাপারে নিশ্চিত করেই বলা যায়।

সুশান্ত বাবুর ছেলে ধীরাজের খেলা দেখে কলকাতার বেশ কয়েকজন নামকরা খেলোয়াড় বলেছেন ধীরাজকে কোন ভাবে কলকাতায় রাখার ব্যবস্থা করলে ও ফুটবল জগতের একটি ভালো জায়গায় গিয়ে পৌঁছাতে পারবে বলে তাদের মনে হয়েছে।সুশান্ত দে স্ট্রাইকার হিসাবে খেলতেন।

খেলার জগতে অনেক সন্মান ছিনিয়ে এনেছেন।বাড়িতে শুধু পুরস্কার আর পুরস্কার।সুশান্ত বাবুর স্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেই ফেললেন হ্যাঁ ভালো খেলোয়াড় তৈরী হয়ে,প্রচুর নাম ডাক হয়ে একটাই লাভ হয়েছে।কোন এক সময় কেজি ধরে পুরস্কার গুলি বিক্রি করে দুই একদিন সংসার চালানোতো যাবেই।এটাইতো আমাদের রাজ্যের খেলোয়াড়দের বড় পাওনা।

আমাদের রাজ্যে খেলোয়াড়দের এটাই তো বড় পুরস্কার।যদিও ছোটখাটো চেহারার মানুষটি (সুশান্ত দে )আজও রায়গঞ্জ জেলা ভেটারেন্স টিমের সদস্য হয়ে রায়গঞ্জ টাউন ক্লাব মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করে থাকেন আর ফুটবলকে নিজের ছেলের মতই ভালোবাসেন।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here