নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহারঃ
নতুন নাগরিকত্ব( সংশোধনী) আইনের প্রতিবাদে আন্দোলনের জেরে বামনহাট শিয়ালদহের মধ্যে চলাচলকারী উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস বাতিল হওয়ায় দিনহাটা স্টেশনে আটকে পড়া যাত্রীরা ক্ষোভ উগরে দিলেন কেন্দ্র-রাজ্য উভয়ের বিরুদ্ধে।

ট্রেন বাতিলের ফলে সমস্যায় পড়তে হয় রেল যাত্রীদের অনেককেই। উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ধরার জন্য সোমবার দিনহাটা স্টেশনে আসা রেল যাত্রীদের অনেকে বলেন স্টেশনে এসে তারা জানতে পারলেন ট্রেনটি বাতিল হয়েছে। এর ফলে তাদের সমস্যায় পড়তে হবে। ক’দিন তাদের এভাবে থাকতে হবে তারা বুঝতে পারছেন না।
চারিদিকে জেলার উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য কেন্দ্র-রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন ভুক্তভোগী এই রেল যাত্রীদের অনেকেই।

দিনহাটা স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসা হাওড়ার লিলুয়ার রুম্পা দে বলেন চারিদিকে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তাতে তাদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন ২০ ডিসেম্বর থেকে তার মেয়ের পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু কিভাবে যাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় রাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ সিএএ-বিরোধী তৃণমূলের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা কানকিতে
দিনহাটা স্টেশনে আসা কলকাতার আরেক যাত্রী সুব্রত হালদার বলেন সকাল পর্যন্ত জানতে পেরেছিলাম উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস চলাচল করছে।

সেইমতো স্টেশনে আসি। এখানে আসার পর জানতে পারি ট্রেনটি বাতিল করা হয়েছে। এতে তাদের প্রচণ্ড ক্ষতি হল। তিনি বলেন আন্তর্জাতিক এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রবিবার তিনি দিনহাটায় আসেন।
হঠাৎ আটকে পড়ায় কিভাবে পৌঁছবেন কলকাতায় তা বুঝে উঠতে পারছেন না। সাধারণ মানুষকে হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কবে ট্রেন ছাড়বে জানেন না। তারা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রয়েছেন।

দিনহাটা স্টেশনে আসা বেনু মজুমদার বলেন হঠাৎ করে এভাবে ট্রেন বাতিল খুবই খারাপ হল। যারা বাইরে থেকে এসেছেন তারা কোথায় থাকবেন কি করবেন এক সমস্যা। একদিকে এনআরসি অন্যদিকে নতুন নাগরিকত্ব আইন এই দুই কে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলন বলে বেনু বাবু জানান।
আরও পড়ুনঃ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রমণের প্রতিবাদে এআইডিএসও
দিনহাটা স্টেশনে এদিন উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ধরতে আসা বারাসতের তনিমা চক্রবর্তী বলেন তার এক আত্মীয়ের বিয়েতে তিনি দিনহাটা এসেছিলেন। আগে থেকেই উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস দিনহাটা থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত রিজার্ভেশন করা ছিল।
সেই অনুযায়ী এদিন ট্রেন ধরতে এসে বাতিলের কথা শুনে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। তনিমা দেবী বলেন কেন্দ্রীয় সরকার জোর করে নতুন নাগরিকত্ব আইন করার চেষ্টা করছেন। রাজ্যের শাসক দলের কর্মী সমর্থকরা এর বিরোধিতায় আন্দোলনে নেমেছেন।
আলোচনার মধ্য দিয়ে সবকিছু মিটিয়ে নেওয়া উচিত। এভাবে দুই সরকারের দড়ি টানাটানিতে সাধারণ মানুষকে নাজেহাল হতে হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানুষকে যারা হয়রানি করে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বার্তা দিয়ে তৃণমূলের মিছিল
স্টেশনে আসা রেল যাত্রীদের অনেকে বলেন এভাবে যে আর কত দিন কাটাতে হবে দিনহাটায় বুঝে উঠতে পারছেন না।
এদিকে রেল দফতর সূত্রে জানা গেছে বেশ কয়েকটি স্টেশনে গন্ডগোলের জেরে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। কবে নাগাদ চলবে অবশ্য সে কথা রেল দফতরের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানা যায়নি।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584