পূজো উপলক্ষে আদিবাসী মেলায় মাতল বন‍্যা বিদ্ধস্ত হরিশ্চন্দ্রপুর

0
139

আসিফ রেজা আনসারী,নিউজফ্রন্ট:

বন্যার জলে ভেসে গেছে সব তবুও উৎসবের আনন্দে কমতি নেই। বন্যা বিধ্বস্ত হরিশ্চন্দ্রপুরের কুমেদপুর মালদা জেলার প্রান্তিক এলাকা। বিহার বাংলা সীমান্তে হিন্দু, মুসলিম ও সাঁওতাল মিলিয়ে প্রায় এক ডজন জনজাতির বাস। উৎসবের আয়োজন ও আনন্দ ভাগাভাগি করতে হাতে হাত রেখে এগিয়ে আসে সকল সম্প্রদায়ের মানুষজন। এখানে ইদ যেমন জাহেদা বিবির সংসারে খুশির জোয়ার নিয়ে আসে ঠিক তেমনি মাতং ওঁরাও পরিবারেও হাসি ফোটায়। পূজো যেমন শুধু সন্দীপন কিংবা রাকেশদের একার নয় বরং মোর্তোজা, সাদিকুল আসলাম সকলের। সম্প্রীতির মিলন মেলায় বিভেদের বেড়াজাল ভেঙে খানখান। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হরিশ্চন্দ্রপুর এবার মাতল পুজোর আনন্দে। সেই উপলক্ষে আদিবাসী মেলায় মাতল কুমেদপুর বাসী। ১৯৬৫ সাল থেকে প্রতি বছর এই মেলা হয়ে আসছে। সাদলিচক হাই স্কুলের অন্তর্গত কুমেদপুর হাটে এই মেলার আয়োজন করে আসছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ৫০ বছরের এই ঐতিহ্য আজও অমলিন। আদিবাসী মেলায় মুলত থাকে সাঁওতাল নাচ, বিভিন্ন শারীরিক কসরত প্রদর্শন ইত্যাদি। বিহার, বাংলা, ঝাড়খণ্ড প্রভৃতি রাজ্যের আদিবাসী লোকজন দশ থেকে পনেরো জনের বিভিন্ন টিম নিয়ে এখানে আসে খেলায় অংশ নিতে। এবারও প্রায় দশটি টিম অংশ নেয়। এলাকায় সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের সারা বছরের অপেক্ষায় থাকা আদিবাসী মেলায় লোক সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। সাদলিচক হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেতাবুর রহমান মেলা সম্পর্কে বলছিলেন, ‘এলাকার একটি বৃহৎ অংশে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস তাই তাদের নিজস্ব ঘরানার সংস্কৃতি তুলে ধরতে এই মেলা দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে চলে আসছে। সম্প্রীতির বার্তা দিতে আমরা এবছরও ঐতিহ্যের বহমান ধারা বজায় রাখতে চেষ্টা করেছি।’ এবারের পুজো কমিটির সম্পাদক রাধানাথ শেঠের কথায়,’ আমাদের পুজো সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মিলিত প্রয়াসের ফসল, মুসলিম ভাইদের সহযোগিতা না থাকলে সফল হতে পারতাম না। ‘ হাটের ব্যবসায়ী সমিতির লোকজনও তাই বলছেন। ভেঙেছে বাড়িঘর। বহু মানুষের আমার আশ্রয় এখনও খোলা আকাশের নিচে তবুও উৎসব যেন ভুলিয়ে দিয়েছে সব কিছু।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here