শিয়ালদহের পর টুকরো করা হল টানেল বোরিং মেশিন ‘উর্বি’কে! পরবর্তী গন্তব্য বউবাজার

0
63

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ

লকডাউনের সুযোগে শিয়ালদহ পর্যন্ত একমুখী টানেল তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সেই কারণে এবার মাটির নিচ থেকে বার করে এনে খন্ড-খন্ড করে ফেলা হল টানেল বোরিং মেশিন উর্বিকে।
এই মেশিনের খন্ডাংশগুলি এবার নিয়ে যাওয়া হবে বউবাজারে। সেখানে ফের বউবাজার থেকে শিয়ালদহ অবধি টানেল তৈরির কাজে সেগুলি ব্যবহার করবে কেএমসিআরএল, এমনটাই সূত্রের খবর।

Tunnel boring machine | newsfront.co
নিজস্ব চিত্র

জানা গিয়েছে, সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিতিতেই শিয়ালদহ মেট্রো স্টেশনে চলল টানেল বোরিং মেশিন বার করার কাজ। তারপর ফের পরীক্ষা করে বউবাজারমুখী টানেলে বসানো হবে টিবিএম’টিকে। সেখান থেকেই সে আবার যাত্রা শুরু করবে। তবে সেই কাজ শুরু করতে ন্যূনতম দু’মাস সময় লাগবে বলে জানাচ্ছে মেট্রো নির্মাণকারী সংস্থার আধিকারিকরা।

Sealdah Urbi | newsfront.co
নিজস্ব চিত্র

টানেল বোরিং মেশিন উর্বি হচ্ছে এমন একটি মেশিন যা কলকাতার মেট্রো প্রকল্পের দুটি টানেলের কাজ শেষ করতে চলেছে। সংস্থা সূত্রে খবর, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি টানেল বোরিং মেশিনকে পাঠানো হবে বউবাজারের দিকে। বউবাজারে যেখানে টানেল বোরিং মেশিন চান্ডি আটকে আছে। শিয়ালদহ মেট্রো স্টেশন থেকে এই জায়গার দূরত্ব হচ্ছে ৮০০ মিটারের কাছাকাছি।

Urbi | newsfront.co
নিজস্ব চিত্র

নির্মাণকারী সংস্থা আইটিডি সিইএমের চিফ অপারেশন ম্যানেজার রুপক সরকার জানিয়েছেন,” আমাদের পরিকল্পনা আছে ১৫ জানুয়ারি আমরা শিয়ালদহ থেকে টানেল বোরিং মেশিন সুড়ঙ্গ বানাতে বানাতে বউবাজারের দিকে এগোবো৷ আপাতত ৩ মাস সময় লাগবে।” ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, ২০২১ এপ্রিলের মধ্যেই হাওড়া ময়দান থেকে শিয়ালদহ দু’টি টানেল তৈরি হয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ বাক-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ! রাজাবাজার মামলায় কলকাতা পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

যদিও এই পথে কাজ করতে গিয়ে বেশ সাবধানী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারদের। গত বছরে বউবাজারে মাটি খোঁড়ার সময়ে ভূ-কম্পনে বহু মানুষের বাড়িতে ফাটল ধরে যাওয়ায় এবং ভেঙে পড়ায় বিশাল আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল মেট্রোকে। হাইকোর্টের নির্দেশে আটকে গিয়েছিল কাজ। তারপর শিয়ালদহের দিক থেকে কাজ শুরু হয়।

আরও পড়ুনঃ ত্রিধারার আদলে ২০২১ দুর্গাপূজা থেকে শহর জুড়ে নিরঞ্জনের ভাবনা পুরসভার

কেএমআরসিএল-র চিফ ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বনাথ দেওয়ানজী জানিয়েছেন, “কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে গেলে টানেল যেমন হওয়া উচিত, ঠিক তেমনটাই হয়েছে। আমরা ওই এলাকার সব বাড়ি সমীক্ষা করেছি। যে সব বাড়ি বিপজ্জনক তার তালিকা আমাদের কাছে আছে। ফলে অত্যন্ত সাবধানতার সাথে সবদিক ভাবনাচিন্তা করেই এবার আমরা টানেল খোঁড়ার কাজ শুরু করব।”

ফের যাতে বউবাজারে বিপর্যয় না হয় সে বিষয়ে এবার অতি সাবধানী থাকবে কেএমআরসিএল, বলে জানান রুপক বাবু। তিনি জানিয়েছেন, “অনেকের বাড়ি নষ্ট হয়েছে। হয়তো আমরা অনেককে বাড়ি দিয়েছি। কিন্তু কোথাও না কোথাও মানুষের ছাদ হারানোর যন্ত্রণা আমরাও বুঝি। তাই অত্যন্ত সাবধানতার সাথে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে, আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন। এবারে আশা করছি আর কারোর অভিযোগের রাস্তা থাকবে না।”

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here