সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ইরাকে, বাগদাদে গুলিতে নিহত ২০

0
55

নিউজফ্রন্ট, ওয়েবডেস্কঃ

শনিবার ভোরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সময় ইরাকের রাজধানী বাগদাদে দুষ্কৃতীরা কমপক্ষে ২০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। শহরের যেসব এলাকায় বড় ধরনের বিক্ষোভ হচ্ছিল সেখানে দুষ্কৃতীরা আক্রমণ চালায়, পরে সেখান থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

twenty demonstrators killed in baghdad | newsfront.co
পিক-আপ ট্রাকে এসে হামলা। চিত্র সৌজন্যঃ বিবিসি বাংলা

ইরাকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিক্ষোভ চলছে। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকে এরকম বিক্ষোভ কখনও দেখা যায়নি। এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে অক্টোবর মাসে যখন লোকজন দুর্নীতি, বেকারত্ব, সরকারি সেবার অভাব এবং ইরাকে ইরানের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে রাজধানী বাগদাদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি শহরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।

আরও পড়ুনঃ মৃত্যুর ছয়মাস পর সৌদিআরব থেকে দেহ ফিরল কর্ণসুবর্ণে

বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরাকে ৪২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও। ইরাকের সামাজিক পরিমণ্ডল এখন কতকটা এরকম– রাস্তাঘাট বন্ধ, বিভিন্ন বন্দর ও তৈল ক্ষেত্রগুলি অবরুদ্ধ, পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ।

একটি বিদেশী গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাগদাদে শনিবার ভোরের দিকে পিক-আপ ট্রাকে এসে লোকজনের জমায়েতের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে থাকে। এমনকি তারা গুলি চালাতেও থাকে। ফলত লোকজন প্রাণের ভয়ে এদিকে ওদিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে দৌড়াতে শুরু করে।

তবে এই হামলাকারীদের পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়। ইরাকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাদের ‘অজ্ঞাত ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সপ্তাহেই ইরানি সমর্থিত একটি মিলিশিয়া বাহিনীর সমর্থকরা বিক্ষোভ স্থলে ঢুকে পড়লে বেশ কয়েকজন ছুরির ঘা’তে আহত হয়।

আরও পড়ুনঃ সকালের পর ফের সন্ধ্যায় পথ দুর্ঘটনা রেজিনগরে, আহত ৩

ওই গণমাধ্যম থেকে আরও জানা গেছে, আরেকটি ঘটনায় প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুক্তাদা সদর দেশের বাইরে থাকাকালীন তার বাড়িতে ড্রোনের মাধ্যমে বোমা ফেলা হয়েছে বলে তার দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল মাহদি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু প্রতিবাদকারীরা পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থারই আমূল পরিবর্তন দাবি করছেন।

ইরাকে জাতিগত বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু আছে। কিন্তু বহু ইরাকি মনে করেন যে এর মাধ্যমে দেশটির দুর্নীতিকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও শিয়া রাষ্ট্র ইরানের সাথে ইরাকি নেতাদের বর্তমান সম্পর্ক নিয়েও অনেকের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকে ইরাকে শিয়া রাজনীতিবিদরাই দেশ পরিচালনা করছেন।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here