কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাম্মানিক পুরস্কার পেলেন লালবাজার সাইবার থানার ২ অফিসার

0
48

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ

কখনও কখনও যে অপরাধের কোনও সূত্রই পাওয়া যায় না, মাথা খাটিয়ে সেই অপরাধের কিনারা করেও তাক লাগিয়ে দেন গোয়েন্দারা। ঠিক যেমন ঘটেছিল কলকাতার দুটি সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে। সম্পূর্ণ সূত্রহীন অবস্থা থেকে থেকে অপরাধীদের তারা ধরে ফেলেন। এই দুই অফিসারই লালবাজার সাইবার থানায় কর্মরত।

Top officers | newsfront.co
সংবাদ চিত্র

ইন্সপেক্টর ড্যানিস অনুপ লাকরা ও মহিলা ইন্সপেক্টর শুক্লা সিংহরায় তদন্তের সাফল্যের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে স্বাধীনতা দিবসে তারা ‘মেডেল ফর এক্সেলেন্স ইন ইনভেস্টিগেশন’ পুরস্কার পেয়েছেন।

এদের মধ্যে এক জন পাকড়াও এমন একটি গ্যাং, যেটি কলকাতায় বসে তছরুপ করেছিল কয়েক হাজার ইংল্যান্ডবাসীর পাউন্ড। অন্যজন, ধরে ফেলেছিলেন সেই অভিজাত পরিবারের যুবকদের, যারা কিশোরী ও তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার নাম করে তাঁদের অশ্লীল ছবি তুলে লাখ লাখ টাকা ব্ল্যাকমেল করত।

আরও পড়ুনঃ স্বাধীনতা দিবসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক পুরস্কৃত রাজ্যের ৭ পুলিশ আধিকারিক

ব্ল্যাকমেলের মামলাটি পুলিশের কাছে আসে গত বছরের নভেম্বরে। এক তরুণী অভিযোগ জানান, কিছু অশ্লীল ছবি তাঁকে ও তাঁর মাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ১০ লাখ টাকা ব্ল্যাকমেল করা হয়। কিন্তু মোবাইল টাওয়ার ঘেঁটে দেখা যায় নম্বরটি কখনও ঝাড়খন্ডের দেওঘর, কখনও বিহারের বাঁকা আবার কখনও মধ্যপ্রদেশের রেওয়ায়।

শেষ পর্যন্ত সিমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই বছরের জানুয়ারিতে সেটি ফের চালু হয়। মোবাইলের কললিস্ট ঘেঁটে নিউটাউন থেকে মূল অভিযুক্তর এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকেই মেলে একটি হার্ড ডিস্ক, যেখানে ঠাসা ছিল অশ্লীল ছবিগুলি। জেরায় সে জানায়, তাকে আরও দুজন এগুলি দিয়েছে। সল্টলেক থেকে সেই দুই যুবককে ধরা হয়।

আরও পড়ুনঃ রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ধুন্ধুমার, ধৃত ৫

জানা যায়, সল্টলেকের ওই দুই অভিজাত পরিবারের যুবক কিশোরী ও তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে কোনওভাবে তাঁদের অশ্লীল ছবি জোগাড় করে। এরপর হার্ড ডিস্কে পুরে সেটি নিউটাউনের যুবককে দেয়। সেই ছবিগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হয়। এই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক ছিলেন শুক্লা সিংহরায়।

অন্য মামলায় একটি আন্তর্জাতিক কম্পিউটার সংস্থার কর্তা দিল্লি থেকে লালবাজারে অভিযোগ জানান, নিজেদের ওই সংস্থার আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের বাসিন্দাদের ফোন করে রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড ও কেশব চন্দ্র সেন স্ট্রিটের দুটি ভুয়া কল সেন্টারের কর্মীরা। কলকাতায় বসে ওই বিদেশিদের ফোন বা ভিডিও কল করে বলা হত, তাঁদের কম্পিউটার খারাপ হয়ে গিয়েছে। এখনই তাঁদের কম্পিউটার ঠিক করা হবে। কিন্তু তার জন্য ডলার বা পাউন্ড চাওয়া হত।

বিদেশিরা বাধ্য হয়ে কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেগুলি পাঠাতেন। এভাবে বিদেশিদের প্রতারণা করে তাঁরা কয়েক কোটি টাকা রোজগার করে। সাইবার থানার অফিসার ড্যানিস অনুপ লাকরা তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেন। এতে স্বস্তি পান কয়েক হাজার ইংল্যান্ডবাসী। এই ঘটনায় লন্ডন পুলিশের কমিশনার কলকাতা পুলিশকে চিঠি দিয়ে বাহবা ও ধন্যবাদ জানান।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here