তপন চক্রবর্তী,উত্তর দিনাজপুরঃ
বাঙালীদের বারো মাসে তেরো পাবনের এক অন্যতম পার্বন কোজাগরী লক্ষীপূজা।আর পাঁচজন বাঙালীরা যখন কোজাগরি লক্ষী পুজোর দিন বাড়িতে বাড়িতে লক্ষীপুজো করে ঠিক তখন এক মাত্র ব্যাত্রিক্রম উত্তর দিনাজপুর জেলায় কালিয়াগঞ্জের পূর্ব ভাণ্ডার গ্রাম।এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ীর মহিলারা নিজ নিজ বাড়ির পরিবর্তে গ্রামের সবার মিলিত উদ্যোগে বানানো লক্ষী মন্দিরে লক্ষী মায়ের আরাধনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।তেমনি লক্ষীপূজোর আগে দশমির পড়ের দিন থেকে গ্রামের কোন বাড়িতে আমিশ রান্না হয় না।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান আজ থেকে ১৯ বছর আগে গ্রামে লক্ষী পূজো কে কেন্দ্র করে বাউল উৎসব চলছিল।সেই সময় এই গ্রামের বাসিন্দা নরেশ চন্দ্র বর্মন জমিতে যখন মাঠে চাষ করছিলেন তখন লাঙলের ফালে এই লক্ষী নারায়নের কষ্টি পাথরের মূর্তিটি উদ্ধার হয়।এরপড় সেই মূর্তিকে গ্রামের বাসিন্দারা গ্রামের মধ্যে মন্দির বানিয়ে লক্ষী পুজো শুরু করে।আর সেই থেকেই প্রতিবছর লক্ষী পূজো করে আসছে। সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা হলো এই গ্রামের কোন বাড়িতে লক্ষী পূজো করেন না বাড়ির মহিলারা।তার বদলে মাঠ থেকে উঠে কষ্টিপাথরের মূর্তিতেই মন্দিরে পূজো দেন গ্রামের কয়েক হাজার মহিলারা।পূজোর দিন বহু মানুষ আসেন দূর দুরান্ত থেকে পুজো দিতে এবং পুজো দেখতে।পূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গনে বসে মেলা এবং পুরোন প্রথাকে মেনে চলে দুই দিন ব্যাপি বাউল গানের উৎসব চলে। আর তাকে কেন্দ্র করে সমগ্র গ্রামের মানুষ আনন্দে মেতে উঠে লক্ষীপুজোর দিনে।
আরও পড়ুনঃ মন্তেশ্বরে প্রতিমা নিরঞ্জনে প্রথম কার্নিভাল অনুষ্ঠান
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584