নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর দিনাজপুরঃ
কেউ যাদের নিয়ে ভাবে না, তাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন উত্তরবঙ্গের এক দম্পতি। রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগরের দেখানো সমাজ সংস্কারের পথই তাদের ব্রত। নারীশিক্ষা প্রসার, বাল্য বিবাহ রুখতে নিরলস কাজ করে চলেছেন এই দম্পতি।

একজন গ্রাম উন্নয়ন বিষয়ের গবেষক, অন্যজন সমাজসেবী। করোনা আবহে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের একাধিক আদিবাসী মহল্লার মানুষদের কাছে কখনো তারা সান্তাক্লজ আবার কখনো বা নিতান্তই সমাজের একজন মানবিক মুখ।
এমনকি কোনও দুঃস্থ মানুষরা তাদের প্রয়োজনের কথা যে কোন মাধ্যমে জানালেই তিনি ও তাঁর স্ত্রী গাড়ি ছুটিয়ে সে সমস্ত উপকরণ নিয়ে পৌঁছে যান সেখানে। এই দম্পতি হলেন অনির্বাণ নন্দী এবং তার স্ত্রী পৌলোমী চাকী নন্দী।

আরও পড়ুনঃ দুঃস্থ ও বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন শিশুদের পাশে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ
কর্মসূত্রে গবেষণার কাজ নিয়ে থাকেন দক্ষিণবঙ্গে। আই আই টি খরগপুরের গ্রাম উন্নয়নের গবেষক। লকডাউনের কারণে তিনি শিলিগুড়ির শিবমন্দির সংলগ্ন এলাকায় বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তবে ফিরে এসেও সপ্তাহে প্রায় দিনই প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে গোটা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছেন দুজনে।
তাঁদের গাড়ি একটি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কিংবা স্যানিটারি প্যাড ব্যাঙ্ক। বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে তাঁদের এই সামাজিক অভিযান। “লিভ লাইফ হ্যাপিলি” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তৈরি করে গ্রামের মেয়েদের পিরিয়ড চলাকলীন স্যানিটারি প্যাডের প্রয়োজন মেটানো থেকে শুরু করে ছাত্রীদের খাতা কলম বিতরণ করেন তাঁরা।
এই দম্পতি জানিয়েছেন, ‘আজ তিন বছর ধরে আমরা ১৬টা চা বাগান, ৩০ টি গ্রামে দশ হাজার মেয়েদের প্যাড দেওয়ার কাজ করেছি। ফলে মেয়েদের স্কুল ছাড়ার হারে হ্রাস লক্ষ্য করা গিয়েছে।’
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584