নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ফ্রন্টঃ
নরেন্দ্র মোদির সদ্য সম্প্রসারিত মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়লেন বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বর্ষীয়ান বিজেপি সাংসদ। তার মধ্যে অন্যতম তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা প্রকাশ জাভড়েকর। এর সঙ্গে তাঁর অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল বন ও পরিবেশ মন্ত্রক। কিন্তু বুধবার মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের আগে প্রতিটি মন্ত্রক থেকেই পদত্যাগ করেন তিনি।

বিজেপির আভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে এর পিছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ যার জন্য মোদী-শাহের রোষানলে পড়লেন তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো করোনার দুটি ঢেউতে সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা , পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা ও করোনাকালে অক্সিজেন সংকট। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিরোধীদের সাঁড়াশি আক্রমণে নাজেহাল অবস্থা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের।
এমনকি শুধু দেশে নয় মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় আন্তর্জাতিক স্তরেও। তথ্য- সম্প্রচার মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী হওয়া সত্বেও জাভরেকড় সামাল দিয়ে উঠতে পারেননি সে পরিস্থিতি। যদিও এই কোন ঘটনার সঙ্গেই তাঁর দপ্তর প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত নয় তবে তাঁর মত প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদের কাছে কেন্দ্রের আশা ছিল রাজনৈতিক দক্ষতায় কিছুটা ড্যামেজ কন্ট্রোল তিনি করতে পারবেন বাস্তবে যা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুনঃ নেই একজনও বাম বিধায়ক, ২১-এর বিধানসভায় জ্যোতি বসুর জন্মবার্ষিকী পালন তৃণমূলের
শুধু কোভিডে সরকারের মুখ রক্ষা করাই নয়, ফেব্রুয়ারি মাসে সংশোধিত গণমাধ্যম আইন আনে সরকার। যাতে বলা হয় ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে ওটিটি কন্টেন্ট সবকিছুই থাকবে কেন্দ্রীয় তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের নজরদারির আওতায়। আর এর ফলে গণমাধ্যমগুলি বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে একের পর এক মামলা দায়ের করে, এই সমস্যাও আলোচনার মাধ্যমে মেটাতে পারেননি তিনি। ফলে মোদী সরকারের ভাবমূর্তিতে জাতীয়, আন্তর্জাতিক স্তরে বেশ ভালোই ক্ষুণ্ণ হয়।
আরও পড়ুনঃ নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পুরোনো ভুলে ভরা টুইটের স্ক্রিনশট পোস্ট করে ট্রোল সোশ্যাল মিডিয়ায়
এসবের পরেও আছে আরো একটি কারণ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে জাভরেকড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন দেশের অরণ্যক্ষেত্র বাড়াতে। গত দুই বছরে প্রায় ১৫ হাজার বর্গকিমি অরণ্যক্ষেত্র বেড়েছে দেশে। যার প্রভাবে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাঘ, সিংহ ও লেপার্ডের সংখ্যা।
কিন্তু বন্যআইনের যে খসড়ার ওপর ভিত্তি করে কাজ করছিল তাঁর মন্ত্রক, সেই খসড়া নিয়ে বহু বিরোধিতা হয়। গ্রিন ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা হয়। পরিবেশপ্রেমী এবং বন্যপ্রাণ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলির কাছে তেমন কোন বার্তা পৌঁছতে পারেনি তাঁর মন্ত্রক। সেই ব্যর্থতার দায়ও চাপে তাঁরই ঘাড়ে। মূলত এই ত্রহস্পর্শের ফলেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে সরতে হলো তাঁকে, এমনটাই বিজেপির অন্দরের খবর।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584