নিজস্ব সংবাদদাতা, ওয়েব ডেস্কঃ
শীর্ষ আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন মোহিত সুভাষ চহ্বন, মহারাষ্ট্রের বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মী। এক নাবালিকাকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত এই ব্যক্তি, তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
জামিনের আবেদনের শুনানি চলাকালে, অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে বলেন জামিন না হলে তাঁর মক্কেল সরকারি চাকরি খোয়াবেন সে বিষয়টি যাতে আদালত বিবেচনা করেন। প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে প্রশ্ন করেন,” আপনি কি মেয়েটিকে বিয়ে করতে রাজি আছেন? সেক্ষেত্রে আদালত আপনাকে সাহায্য করতে পারে। আপনার জেল হবে না, চাকরিও বজায় থাকবে, চার সপ্তাহ পরে জামিনের আবেদন করতে পারবেন।”
অভিযুক্তের আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন যে, “ধর্ষণের মতো অপরাধে লিপ্ত হওয়ার আগে আপনার মক্কেলের ভাবা উচিত ছিল যে তাঁর জেল হবে এবং সেক্ষেত্রে চাকরি খোয়াবেন তিনি।”
অভিযুক্ত জানান, তাঁর পরিবারের তরফ থেকে মেয়েটিকে আগেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে তিনি সাবালিকা হলে মোহিতের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হবে কিন্তু মেয়েটি নাকচ করে দেয় সেই প্রস্তাব। ইতিমধ্যে তিনি অন্যত্র বিবাহ করেছেন তাই নির্যাতিতাকে বিয়ে করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
আরও পড়ুনঃ নাকা চেকিং-এ খড়্গপুরে বাজেয়াপ্ত ৭ লক্ষ টাকা
প্রধান বিচারপতি বলেন,” আপনি ভেবে দেখুন কি করবেন, না হলে বলবেন আমরা বিয়ে করতে জোর করছি আপনাকে। যদি রাজি থাকেন তাহলে আদালত আপনাকে সাহায্য করবে। চাকরিও বজায় থাকবে, হবে না জেল।”
আপাতত মোহিতের জেলযাত্রায় চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিলো দেশের শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতির এহেন মন্তব্যে সমালোচনায় উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। নেটিজেনদের প্রশ্ন, তবে কি ধর্ষণ আর তেমন গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে না আদালত যে ধর্ষণের পর মেয়েটিকে বিয়ে করলেই সব অপরাধ মার্জনীয় হয়ে যায়! নাকি ধর্ষকের সাথে বিয়ে দিয়ে নির্যাতিতাকে ‘জাস্টিস’-এর বদলে সাজা দিচ্ছে আদালত?
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584