কোল উপজাতির হো ভাষার লিপির আবিষ্কারক কোল লাকো বাদরার ১০২ তম জন্মদিবস উদযাপন

0
25

নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুরঃ

যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল কোল লাকো বাদার জন্মদিবস। হো ভাষার লিপির আবিষ্কারক কোল লাকো বাদরার ১০২ তম জন্মদিন উপলক্ষে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের গোলগ্রাম হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। হো ভাষার লিপির আবিষ্কারক কোল লাকো বাদরার পটের পুজোর মধ্য দিয়ে এদিনের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

Festival
নিজস্ব চিত্র

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোল সামাজিক রীতি অনুযায়ী সমস্ত অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। হো ভাষার লিপির আবিষ্কারক কোল লাকো বাদরার ১০২ তম জন্মদিবসের এই অনুষ্ঠানে কোল উপজাতির হো ভাষাকে ভারতীয় সংবিধানে অষ্টম তপশীলে তালিকা ভুক্ত করার দাবি জানালেন ঝাড়খণ্ড রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মধু কোড়া।

festival
“রুমুল”-র অনুষ্ঠানিক প্রকাশ। নিজস্ব চিত্র

এছাড়াও তিনি তাঁর বক্তব্যে, কোল সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। এদিন অনুষ্ঠানে তিনি হো ভাষায় লেখা কার্তিক বাঅঁদার একটি সাংস্কৃতিক বই “রুমুল”-এর অনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। উড়িষ্যা থেকে আগত হো ভাষার প্রচারক অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ব্রহ্মচারী ববি পঙ্কজ শিরকা, হো সাহিত্য, সংস্কৃতি ভাষা যাতে হারিয়ে না যায়, এই ভাষার ইতিহাস এবং এই ভাষার সাংবিধনিক স্বীকৃতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের হো ভাষার গবেষক বীর সিং বিরুলী তাঁর বক্তব্যে, হো ভাষার গবেষণার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন।

Celebration
লোকনৃত্য। নিজস্ব চিত্র

পশ্চিমবঙ্গের সমাজ কর্মী ঝর্না আচার্য কোল সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরেন। সমাজ কর্মী ও আদিম জনজাতিদের গবেষক ডঃ শান্তনু পাণ্ডা তাঁর বক্তব্যে, কোল উপজাতিরা যাতে অন্য উপজাতিদের মতো সমস্ত সুযোগ সুবিধা পায় এবং হো ভাষায় লেখা বই যাতে স্কুল ও কলেজে চালু করার দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি জেলা ও ব্লক স্তরের গ্রন্থাগারে এই সমস্ত বই রাখার দাবি জানান।

আরও পড়ুনঃ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কে ‘ফেলো’ সম্মান প্রদান সাহিত্য অ্যাকাডেমির

এছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়খণ্ড রাজ্যের এম. পি গীতা কোড়া, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সি. আর.আই এর প্রাক্তন অধিকর্তা ডঃ প্রসেনজিত দেব বর্মন, কোল/হো সমাজ হায়াম সানগম সোসাইটির রাজ্য সম্পাদক বীরেন তুবিদ ও সভাপতি কার্তিক বাঅঁদা, লোক সংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির গবেষক দীপঙ্কর ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বিরসা তীরকে, ডেবরা থানার ও সি, বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্যামল মুখার্জি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সদস্য দিপালী সিং গাগরাই, গোলগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কৌশিক গাঙ্গুলী প্রমুখ। সোসাইটির জেলা সম্পাদক মানস সিং পূর্তি স্বাগত ভাষন দেন। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে”কোল/হো সমাজ হায়াম সনাগম সোসাইটির রাজ্য সম্পাদক বীরেন তুবিদ কোল সম্প্রদায়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তপসিলি উপজাতিভুক্ত করার দাবী জানান।

আরও পড়ুনঃ লালগোলায় পালিত হল জৈন ধর্মের সবথেকে বড়ো পার্বণ “দশ লক্ষ্মণ পর্ব”

এদিন অনুষ্ঠানে শারদ উৎসবকে সামনে রেখে সোসাইটির পক্ষ থেকে ১২০ জন মহিলাদের নতুন শাড়ি দেওয়া হয়। এছাড়াও কোল তথা হো উপজাতির গৃহস্থালীতে ব্যবহার হতো এই রকম বহু জিনিসপত্র সোসাইটির পক্ষ থেকে সংগ্রহ করে এই দিন মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কালচারাল রিসাচ ইন্সটিটিউট এর প্রাক্তন ডিরেক্টর ড. প্রসেনজিত দেব বর্মনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী সংগ্রহ শালায় রাখার জন্য। অনুষ্ঠানে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন লোকনৃত্য পরিবেশিত হয় এদিন।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here