লকডাউনের ফলে কর্মহীন অসহায় মানুষগুলোর পাশে একদল যুবক-যুবতী

0
142

নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদঃ

‘করোনা ভাইরাস’ থেকে রক্ষা পেতে সারা দেশবাসী যখন লকডাউনে বন্দি ঠিক এই সময় মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত ফরিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাদুরিয়াপাড়া সংলগ্ন এলাকার ‘শিক্ষার্থী কল্যাণ সংস্থা’-র একদল যুবক যুবতী দুঃস্থ অশীতিপরদের চাল-ডাল-আলু-সাবান তুলে দিলেন। ১৫০টির বেশি সংখ্যক পরিবারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন এই ‘শিক্ষার্থী কল্যাণ সংস্থা’ এবং তাদের কর্মকাণ্ড এখনও অব্যাহত।

boy |newsfront.co
নিজস্ব চিত্র

শিক্ষার্থী কল্যাণ সংস্থার ভিত্তিস্থাপন বছর চারেক হলেও বিভিন্ন রকম জনহিতকর কাজে নজিরবিহীন। রক্তদান, অসহায় ব্যক্তিদের আর্থিক সাহায্য, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে বইখাতা প্রদান ও কৃতি সংবর্ধনা ছাড়াও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সহ বিভিন্ন জনসচেতনতা মূলক আয়োজনের অন্যতম অন্যমুখ এই সংস্থা।

আরও পড়ুনঃ টিফিনের টাকা জমিয়ে করোনা মোকাবিলার ত্রাণ তহবিলে দান দুই ছাত্রীর

সংস্থার কর্ণধার হাসিবুল ইসলাম বর্তমানে যাদবপুর ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার কথায়, ‘২০১৬ সালে গুটিকয় বন্ধুবান্ধব নিয়ে আমাদের এই সংস্থার পথচলা শুরু। তারপর থেকেই আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।

lady |newsfront.co
নিজস্ব চিত্র

আমার বেড়ে ওঠা এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে। তাই দারিদ্রতাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই বর্তমান সময়ে যারা একেবারেই সমাজের নিম্ন শ্রেণীর দুঃস্থ অসহায় অশীতিপর তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।’ সংস্থার ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অনেক সহৃদয় ব্যক্তিগণ। তারই এক সদস্য সেলিমউর রহমানের কথায়, ‘আমার ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই আছে এর মধ্যে।

বাকি যারা আছেন তাদের সবাইকেও কুর্নিশ। সত্যি আজ গর্ববোধ হচ্ছে শিক্ষক হিসেবে।’ দূরদূরান্ত থেকে সাহায্য আসছে দেখে এক সদস্য মনিরুজ্জামান (মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র) বলছেন, ‘এরকম কল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। আমরা আশা করছি আরও অনেক দুঃস্থ ব্যক্তিদের পাশে আমরা ত্রাণ নিয়ে পৌঁছাতে পারবো।’ এর পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় বাড়তি সচেতনতাও এলাকাবাসীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ত্রাণ বিতরণের সময় মাইকিং-এর মাধ্যমে। যার ফলে গ্রামবাসীরা আশ্বস্ত বোধ করছেন।

সংস্থার সদস্য চৈতন্য শর্মার কথায়, ‘আমরা যারা দুঃস্থ অসহায়দের পাশে আসতে পেরেছি তারা সকলেই ছাত্রছাত্রী, কাজেই আমরা প্রতিষ্ঠিত নই। আমরা আমাদের সীমিত পরিসরে টাকা তুলে তা দিয়ে অন্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের এই উদ্যোগ দেখে এগিয়ে এসেছেন বেশ কিছু শিক্ষক- শিক্ষিকা, গ্রামীণ ব্যক্তিরাও। আমাদের অনুরোধ আপনারা আপনার এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়ান, যা দুঃসময়ে মানুষ হিসেবে সবার নিজ নিজ কর্তব্য।’

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91-9593666485