নবনীতা দত্তগুপ্ত, বিনোদন ডেস্কঃ
পৃথিবীটা আজ বড় অশান্ত৷ মনের কোণে প্রায়ই উঁকি মারে একটা কথা, ‘ঈশ্বর হয়ত রুষ্ট হয়েছেন মানবজাতির উপর৷ তাই এই ভয়ানক বিপর্যয়ের সম্মুখীন প্রত্যেকটা মানুষ।’ মানুষের এই মনে হওয়ার মধ্যে কোনও সত্যতা লুকিয়ে আছে কিনা জানা নেই। তবে, এক ঈশ্বর আজ বড় রেগে রয়েছেন। তিনি রেগেছেন শিল্পীদের উপর।

ঈশ্বরের মতে, শিল্পীরা শিল্পের অপব্যবহার করছেন। তাই তাঁদের বেঁচে থেকে কোনও লাভ নেই। তাঁদের মরে যাওয়াই ভাল৷ তাই তিনি সকলকে মেরে ফেলতে চান৷ আসলে আমরা সকলেই কোনও না কোনও শিল্পের কারিগর। সেদিক থেকে দেখলে আমরা প্রত্যেকেই শিল্পী। সুতরাং শিল্পীকে শিখণ্ডী বানিয়ে গোটা মানবজাতির বিনাশ চাইছেন ঈশ্বর। এই ঈশ্বরের বসবাস ‘বিসর্গ’-তে।

পরিচালক অরুণাভ খাসনবিশের ভাবনায় তৈরি হয় ‘বিসর্গ’। স্বাধীন ছবি। করোনার কারণে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।
আরও পড়ুনঃ টানটান উত্তেজনায় প্রকাশ্যে এল আরআরআর -এর মোশন পোস্টার
ছবিতে রয়েছে পাঁচটি রূপক চরিত্র। ঈশ্বর, সত্য, শান্তি, বিশ্ব, দর্শন। ঈশ্বর মানবজাতির বিনাশ চাইছেন।
সত্য খুঁজে বেড়াচ্ছে একটা সত্য। একটা ঠিকানা। কেউ তাকে সেই ঠিকানা দিতে পারে না। তার হাতে থাকে একটি আধখাওয়া আপেল।

আর ঈশ্বরের হয়ে কাজ করে শান্তি৷ শান্তির দাবিতে ছুটে বেড়ায় সে। সবাইকে শান্তির বাণী দেয় সে। একসময় হাল ছাড়ে। কারণ শান্তির বড় অভাব আজ।
বিশ্ব মনে করে সে শিল্পী। আসলে শিল্প সম্বন্ধে তার কোনও জ্ঞানগম্যিই নেই। সে আত্মহত্যা করবে বলে ঠিক করে। একাধিকবার চেষ্টাও করে। কিন্তু ভাগ্য তাকে সঙ্গ দেয় না। কোনও না কোনওভাবে বেঁচে যায় সে।

দর্শনের কাজ হল সকলকে বাঁচানো৷ সকলকে বুঝিয়ে শান্ত রাখা৷ ঈশ্বরের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস কারো নেই দর্শন ছাড়া। দর্শন ঈশ্বরের সবথেকে ভাল ছাত্র। এই দর্শনই একমাত্র পারে ঈশ্বরের সঙ্গে টক্করে টক্করে লড়তে। এই দর্শনকে ভয়ও পান ঈশ্বর।
দর্শনের কাছে আছে বিভিন্ন ধরনের নোটবুক আর ঘণ্টা৷ কে কোথায় কী করছে, কে কোথায় মরতে চাইছে, এই জাতীয় সব খবর তার কাছে চলে আসে আগেভাগেই। তাই মানুষকে বাঁচিয়ে তার হাতে লজেন্স তুলে দিয়ে চুষতে বলে সে।

ঈশ্বর আর দর্শন- এই দুজনের মধ্যে একদিন তুমুল ঝগড়া বাঁধে শিল্প আর শিল্পী নিয়ে। দর্শন ঈশ্বরকে বলে- “তুমি কেন তৈরি করলে শিল্প আর শিল্পী? কেন মারতে চাইছ সবাইকে? বোঝাও সবাইকে। মানুষ মাত্রেই ভুল করে। আবার মানুষই নিজের ভুলের সংশোধন করে।”

দুজনের দেখা করার জায়গা একটি পরিত্যক্ত বাস। দর্শনের দার্শনিক যুক্তিতে হার স্বীকার করে ঈশ্বর। দর্শনকে একটা ব্যাগ হাতে ধরিয়ে দিয়ে গঙ্গার জলে ঝাঁপ দেয় ঈশ্বর। এরপর কী হল তা জানা যাবে ছবিটি দেখলে। তবে, সূর্যের ভোর একদিন আসবে এটুকু বলে দিলে অন্যায় নেই কোনও। কিন্তু কী ভাবে? সেটা দর্শনই জানেন।
যে দিকগুলি এই ছবির ক্ষেত্রে মানুষকে জানিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি তা হল, এই ছবির জন্য কোনও স্ক্রিপ্ট লেখা হয়নি। এই প্রথম কোনও বাংলা ছবি যেখানে স্ক্রিপ্ট নেই। অভিনেতারা নিজেরাই সিনের ঝাঁঝ বুঝে কথা বলেছেন।
ইম্প্রোভাইজ করেছেন সময়েরটা সময়ে। এমনকী ছবির ভিতরের আলঙ্কারিক ব্যাপারগুলো যেমন – সত্যের অর্ধেক আপেল হাতে নিতে ঘুরে বেড়ানো, দর্শনের লোককে বাঁচানোর পরই তার হাতে লজেন্স তুলে দেওয়া এবং একটি ফোন নম্বর দেওয়া– এগুলি সবই অভিনেতাদের ভাবনা। প্রত্যেকেই নিজেকে জাহির করেছেন এই ছবিতে।
বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন দেবরঞ্জন নাগ (ঈশ্বর), প্রসূণ গাইন ( দর্শন), মানালি চক্রবর্তী (শান্তি), নীতিশ বিশ্বাস (সত্য), বিশ্বজিৎ ঘোষ (বিশ্ব)।
বিশ্বজিৎ একেবারে নবাগত। এর আগে কোনও কাজই করেননি তিনি। নীতিশ কম বেশি কাজ করেছেন অবশ্য।
ঈশ্বরের চরিত্রে দেবরঞ্জন নাগ অনবদ্য। আলাদা করে তাঁকে নিয়ে কথা না বললেই নয়। ফের প্রমাণ করেছেন কত বড় মাপের অভিনেতা তিনি।
একইভাবে প্রসূণ গাইন সহ সকলেই দর্শককে মাত করেছেন নিজেদের অভিনয় সৌকর্য দেখিয়ে। প্রসূণ জাত অভিনেতা। তাঁর দর্শন হয়ে ওঠা সত্যিই দর্শনীয় বিষয়। তাঁর কণ্ঠ, তাঁর অভিব্যক্তি বরাবরই মুগ্ধ করে বাঙালি দর্শককে৷ এবার আরও একবার তাঁকে অন্য ঘরানায় পাবেন দর্শক।
ওদিকে নীতিশ বিশ্বাস রানাঘাটের মানুষ। সেখানে সংসার রেখে অভিনয়ের টানে লড়াই করছেন শহর কলকাতায়। মানালিও তাঁর নিজের জায়গায় অনবদ্য।
গোটা টিমের ভূয়সী প্রশংসা করে ছবির দর্শন থুড়ি অভিনেতা প্রসূণ গাইন জানান, “খুব কম বাজেটের একটি ছবি ‘বিসর্গ’। কেউই সেভাবে নিজেদের পারিশ্রমিক নেয়নি। দিনের আলোয় শুটিং হয়নি এই ছবির।
সবটাই রাতে শুট করা। সারা কলকাতা জুড়ে হয়েছে শুটিং। পরিচালক অরুণাভ খাসনবিশের ভাবনায় পুষ্ট এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে দক্ষ হাতে ক্যামেরা সামলেছেন অভিজিৎ চৌধুরী এবং অয়ন গাঙ্গুলি। আমার বিশ্বাস এই ছবি সকলের ভাল লাগবে। কিন্তু একটু মাথা ঠাণ্ডা করে দেখতে হবে।”
করোনার জেরে সিনেমাটি রিলিজ করল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। ‘আ সন্দেশ টিভি প্রোডাকশন’-এর ব্যানারে মুক্তি পেল এই ছবি। প্রযোজনায় প্রেমাশিস মুখোপাধ্যায়। ভাবনা, পরিচালনা, সঙ্গীত, সিনেমাটোগ্রাফি সবই অরুণাভ খাসনবিশের।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584