পুরসভার শো-কজ নোটিশে কমল কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যা, সাময়িক স্বস্তি শহরবাসীর

0
30

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ

এতদিন পর্যন্ত সংখ্যার বাড়বাড়ন্ত হলেও পুরসভার শোকজ নোটিশে শহর কলকাতায় এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেল কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যা। শহরে এই মুহুর্তে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা দাঁড়াল ২৩। হোম আইসোলেশনের নিয়মভঙ্গকারীদের পুরসভার তরফে শো কজ চিঠি দেওয়ার কারণেই মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় কমেছে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা, এমনটাই মনে করছেন পুর আধিকারিকরা।

containment area | newsfront.co
প্রতীকী চিত্র

তাদের মতে পুরসভার শোকজ নোটিশের ভয়তে সাধারণ মানুষ নিয়ম বিধি মানতে শুরু করেছে। তাই লাফিয়ে লাফিয়ে না বেড়ে উলটে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা কমে গেল। রাজ্যে করোনা সংক্রমনের শীর্ষে এখনও কলকাতা থাকলেও, শহরের কনটেনমেন্ট জোনের নিম্নমুখী সূচক সাময়িক স্বস্তি দিচ্ছে পুরসভাকে। কলকাতা পুরসভা ও নবান্নের যৌথ প্রকাশিত তালিকায় এক ধাক্কায় অনেকখানি কমেছে শহরে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা। ৩৯ থেকে ২৩টিতে নেমে এসেছে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা।

Containment zone list | newsfront.co
কনটেন্টমেন্ট জোনের তালিকা

ওই তালিকায় দেখা গেছে, দক্ষিণ কলকাতার যে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩টি জোন ছিল সেখানে কমে মাত্র পাঁচটিতে চলে এসেছে। তবে উত্তর কলকাতার তিন নম্বর বরোতে নতুন করে সাতটি কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করেছেন রাজ্য সরকার। ৬৯ ওয়ার্ডে বালিগঞ্জের ২৯বি হাজরা রোড ও ৪ এ রেনি পার্কের দু’টি নামী বহুতল রয়েছে সাম্প্রতিক সংক্রমিত এলাকার তালিকা।

পাশাপাশি ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলিপুর এলাকায় বর্ধমান রোডের নামী আবাসন কমপ্লেক্সকে কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে উত্তরের ৩১, ৩৩, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এখনও করোনার দাপট চলায় ধারাবাহিকভাবে কনটেনমেন্ট জোন থাকায় উদ্বিগ্ন পুরসভা।

আরও পড়ুনঃ বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ খতিয়ে দেখতে ৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কমিটি

কলকাতা পুরসভার সমীক্ষায় বারবার উঠে এসেছে আবাসনগুলি থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর তথ্য। বারবার দেখা গিয়েছে বস্তি এলাকা থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে আবাসন গুলি। তাই এবার প্রশাসনের নজরে রয়েছে অভিজাত আবাসন গুলি। রাজ্য প্রশাসনের তৈরি করা কনটেনমেন্ট জনের তালিকা দেখলেই দেখা যাচ্ছে এই তালিকার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নাম রয়েছে আবাসন ও বড় বড় বাড়িগুলির। তাই পুলিশ কড়া নজরদারি চালিয়ে সরকারি নির্দেশিকা ওই এলাকায় যথাযথ পালন করা হচ্ছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখছে।

হোম আইসোলেশনে থাকা সংক্রমিত ব্যক্তিরাই পরোক্ষভাবে এলাকায় সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন, এই প্রমাণ আগেই পেয়েছিল পুরসভা। এবার তাই হোম আইসোলেশনের নিয়মভঙ্গকারী করোনা রোগীর বাড়িতে কার্যত শোকজ চিঠি পাঠাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। সম্প্রতি এক বৈঠকে এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভার কোভিড মোকাবিলা কমিটি। পাশাপাশি প্রতিটি রোগীর বাড়িতে ফোনে নজরদারি চালাবে ওয়ার্ড ভিত্তিক ‘ট্রেকিং সেল’।

আরও পড়ুনঃ ফের বেলাগাম হেগড়ে! জনসভায় বললেন বিএসএনএল কর্মীরা দেশদ্রোহী

বেশ কিছুদিন আগে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য অতীন ঘোষ জানিয়েছিলেন, এবার থেকে হোম আইসোলেশন এ থাকতে গেলে তিনটি পর্যায়ে মুচলেকা দিতে হবে রোগীর পরিবারকে। ওই মুচলেকা গুলিতে জানাতে হবে প্রথমত, একটি আন্ডারটেকিং বা মুচলেকা দিয়ে জানাতে যে তিনি বাড়িতেই সম্পূর্ণরূপে নজরবন্দি থাকবেন। দ্বিতীয়ত, তিনি অসুস্থ হলে কোন চিকিৎসক তার চিকিৎসা করবেন সে বিষয়ে একটি শংসাপত্র জমা দিতে হবে।

তৃতীয়ত, বাড়িতে কে তার দেখাশোনা করবেন সেই সম্পর্কিত আরেকটি শংসাপত্র করোনা আক্রান্ত রোগীকে জমা দিতে হবে। এই তিনটি শংসাপত্র যদি জমা না দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে করোনা আক্রান্তের হোম আইসোলেশন থাকা সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবেই ধরা হবে। এমনটাই জানানো হয়েছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে।

কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায় হোম আইসোলেশনে থাকা ৫০ শতাংশই ঘরে থেকে চিকিৎসার জন্য আইসিএমআর-এর শর্ত মানছেন না। সঠিক ঠিকানা, চিকিৎসকের নাম ও ‘কেয়ার গিভার’ ফর্ম না দেওয়ায় তাঁদের খুঁজে শনাক্তও করা যাচ্ছে না। এর ফলে সংক্রমিতরা এলাকায় বেরিয়ে পরোক্ষভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন। অন্যদিকে পুরসভার মুখ্যপ্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতিতে শহরের সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সংক্রমণের মূল কারণ হিসাবে হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের চরম গাফিলতি ও নিয়মভঙ্গ করাকে মেনে নিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে অতীন ঘোষ জানান, “নিয়মভঙ্গকারীদের পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা খুঁজে বার করে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেবে যে হোম আইসোলেশনে থাকার বৈধতা বাতিল করা হল। শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তাঁদের সেফ হোম বা হাসপাতালে ভর্তিরও ব্যবস্থা করবে পুরসভা। যাঁরা হোম আইসোলেশনে থাকবেন তাঁদের কী কী শর্ত মানতে হবে, তার গাইডলাইনও পুরসভা ছাপানো ফর্মে বাড়ি বাড়ি পাঠাবে।” নিজের বাড়ি ছেড়ে কেউই হাসপাতালে ভর্তি হতে চান না, সেই কারণেই এক ধাক্কায় কলকাতায় কমেছে কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যা।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91-9593666485