ঐতিহাসিক নগর ও জৈন মন্দির

0
103

পল্লব দাস,বহরমপুরঃ

ভাগীরথীর পশ্চিম পারে অবস্থান করছে মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক শহর আজিমগঞ্জ।গঙ্গার পূর্ব পারে আছে জিয়াগঞ্জ শহর।এই দুটি শহরকে অনেকেই মুর্শিদাবাদের জোড়া শহর বলেন। ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও তেমন ভাবে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি এই জায়গা। এক সময় মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের পৌত্র ‘আজিম -উল-সান’ বাংলার সুবাদার হয়ে আসেন তাঁর নাম অনুসারে পশ্চিমপারে এই অঞ্চলের নাম হয় আজিমগঞ্জ।চব্বিশ তম তীর্থঙ্কর মহাবীর মুর্শিদাবাদ আসেন ৫৪০ থেকে ৪৬৮ খ্রীস্টপূর্বের মধ্যে।

সম্ভব নাথ মন্দির। ছবিঃপ্রতিবেদক

আজিমগঞ্জ শহরটিতে প্রধানত জৈনধর্মালম্বী মানুষ বাস করেন।আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে জৈন সম্প্রদায় মানুষজন রাজস্থান থেকে এই স্থানে বসবাস করতে আসেন।পরেশনাথ পাহাড় ছিল জৈনদের পবিত্র সাধনস্থল সেখান থেকে তারা আদিগঙ্গার প্রবাহপথ ধরে ছড়িয়ে পড়ে নিম্নবঙ্গে;বলা যায় আদি অস্ট্রোলয়েড জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সভ্যতার আলো আনেন জৈনরা।এরা মূলত ছিল জহুরী অর্থাৎ রত্ন ব্যাবসায়ী ও মহাজন।

জৈন দেবতা।ছবিঃপ্রতিবেদক

কোম্পানীর শাসনকালে রাজধানী কোলকাতা হওয়ার আগে মুর্শিদাবাদ ছিল নবাবী আমলের খাসমহল আর ‘সওদাগরী ঘাঁটি’ । জৈনরা ছিল ব্যাবসায়ী জনগোষ্ঠী এদের হাত ধরে এই অঞ্চলে চলছিল ব্যাবসা । আজিমগঞ্জ ও জিয়াগঞ্জ মিলিয়ে প্রায় একশ ঘর ব্যাবসায়ী বসবাস করতো। বর্তমানে আজিমগঞ্জ শহরে প্রায় ৩০টি জৈন পরিবার বসবাস করছেন।

পার্শ্বনাথ মন্দির।ছবিঃপ্রতিবেদক

মুর্শিদাবাদ জেলায় অনেক জনজাতি,ধর্ম ও সংস্কৃতির বৈচিত্র পরিলক্ষিত হয়।জৈন সম্প্রদায় সম্পর্কে অনেকেই হয়ত খুব সামান্য জানেন। বর্তমানে জৈন ধর্মে চলছে ‘পরযুশন মহাপর্ব’ নামক একটি ধর্মীয় উৎসব। আজিমগঞ্জ শহরে নামিনাথ মন্দিরে দেখা মিললো স্থানীয় জৈন ধর্মীয় মানুষদের সাথে , জানালেন সেখানের ইতিহাসের কথা।প্রায় ১৩২ বছর পুরোনো এই মন্দির ;পাশেই রয়েছে পার্শ্বনাথ মন্দির আর কিছুটা দূরে রয়েছে ২৫০ বছর পুরোনো সামভাবনাথ মন্দির। ছোটো বড় প্রায় আটটি মন্দির আছে এই এলাকায়।নেমিনাথ মন্দিরের পরিচালনা কমিটির সম্পাদক সুনীল কুমার চৌরিয়া জানান উৎসব এর কথা।অক্ষয়নিতি তভ , ওলিজি তভ ,মহাবীর জয়ন্তী ইত্যাদি উৎসব হয় এখানে আট দিন ধরে পালিত হয় এই উৎসব।জৈনধর্মে হিন্দু কালীপুজোর পরের দিন থেকে নতুন বছর হিসেবে ধরা হয়।
শান্তি ও অহিংসা ধর্মের মূল বাণী বলে মেনে আসছেন এই ধর্মের মানুষজন।আজিমগঞ্জ শহরটির জৈন-শ্বেতাম্বর গোষ্ঠীর লোক বাস করেন অন্যদিকে জিয়াগঞ্জ এ বাস করেন দিগম্বর ;দিগম্বর উৎসব গুলি চলে দশ দিন ধরে।এখানে সম্পূর্ণ চুন-সুরকীর তৈরি মন্দিরগুলি স্টাকোর কাজ সত্যি দৃষ্টিনন্দন।

নেমিনাথ মন্দির।ছবিঃপ্রতিবেদক

বাংলায় বাণিজ্যিক ঘাঁটি বলতে মুর্শিদাবাদ ছিল প্রথম সারিতে । নবাব,সুলতানদের অর্থ সাহায্য করতেন জৈন ব্যবসায়ীরা।এদের মধ্যে সর্বাগ্রে নাম করা যায় জগৎশেঠ এর ;পরবর্তী কালে দুগার, দুধোরিয়া, মেঘরাজ,কোঠারী, সিঙ্ঘী, নওলাখা এই খানে আসেন ব্যাবসার জন্য ।সুলতানী আমলে নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর সূত্রে জৈন ব্যবসায়ীদের হাত ধরে বাংলার উন্নতি ঘটে। ঐতিহাসিক নগরীর সম্পূর্ণটা অধরা থেকে যায় ।আজ কে মুর্শিদাবাদ ভ্রমণে এসে অনেকেই এপথে আসেন না ।

আরও পড়ুনঃ লোকসংস্কৃতির অবলুপ্ত ধারা আলকাপ

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91-9593666485