প্রীতম সরকার, ওয়েবডেস্কঃ
ছবির (চলচ্চিত্র) শুটিং এর সময় তাঁর নিয়মিত দরকার পড়তো স্থির চিত্র গ্রাহকের। কেননা একবার ‘প্যাক আপ’ হলে অন্য দিন সেই ছবির শুটিং এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য স্থির ফটোগ্রাফারের ভূমিকা যেকোন ছবির ক্ষেত্রেই ভিষনভাবে জরুরী। আর নিমাই ঘোষ সেই কাজটি করে দিতেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়কে।

সেই থেকে নিয়মিতভাবে সত্যজিৎ রায়ের ছবির তো বটেই, সত্যজিৎ এর নিজস্ব প্রচুর ছবি তুলে নাম করেছিলেন নিমাই ঘোষ। তিনি দু দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে আলোকচিত্রী হিসাবে অসামান্য কাজের নজির রেখেছেন।

১৯৩৪ সালে নিমাই ঘোষের জন্ম। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে অতপ্রতভাবে জড়িয়ে থাকা নিমাই ঘোষ স্থিরচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন গুপী গাইন বাঘা বাইন চলচ্চিত্রে। এরপর ১৯৬৯ থেকে দীর্ঘ প্রায় দু’দশক স্থিরচিত্রী হিসেবে তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে আগন্তুক চলচ্চিত্রেও তিনি স্থিরচিত্র সংগ্রাহক ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ সল্টলেকে লকডাউনে পুলিশের সাথে অভব্য আচরণ তরুণীর, গ্রেফতার তিন
২০০৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির জুরি সদস্যও ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে তাঁকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। দীর্ঘ ২৫ বছরের চিত্রগ্রাহক জীবনে নিমাই ঘোষ ৯০ হাজারের বেশী ছবি তুলেছেন। সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার উপর বাংলা এবং ইংরেজিতে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন।
সত্যজিৎ রায়ের অত্যন্ত প্রিয় এই ফটোগ্রাফার সত্যজিৎবাবুকে তাঁর ডাক নাম ‘মানিকদা’ বলেই ডাকতেন।বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় নিজের বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন নিমাই ঘোষ। বয়স হয়েছিল ৮৬। বাড়িতে তখন ছিলেন স্ত্রী আর ভাই। ডিসেম্বর থেকেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে আসছিল। গত তিন দিন খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যু সংবাদে চলচ্চিত্র মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকবার্তায় জানিয়েছেন,“বিশিষ্ট আলোকচিত্রী নিমাই ঘোষের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584