মোহনা বিশ্বাস, ওয়েব ডেস্কঃ
“ছেলের আমার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম, আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম”-এক বৃদ্ধা মায়ের এই করুণ অবস্থা ১৯৯৯ সালে নিজের গানের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। আর এই গান শুনে হাজারও মা, হাজারও সন্তানের চোখ ভিজেছে ঠিকই, কিন্তু ছবিটা সেই একই রয়ে গিয়েছে। যতদিন যাচ্ছে বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা।

একটু আশেপাশে খোঁজ নিলেই দেখা যাবে, সন্তান তাঁর মা-বাবাকে আর তাঁর সঙ্গে রাখতে পারছে না। যে মা-বাবা একসময় রাতের পর রাত জেগে সন্তানকে সুস্থ করেছে বর্তমানে সেই বৃদ্ধ বাবা-মা’য়েরই সেবা করার সময় পাচ্ছে না সন্তানরা। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে বাবা ছেলেকে পড়াশোনা শিখিয়ে বড় করল, দেখা যাবে সেই বাবাকেই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে ছেলে। সেই ছেলের কাছেই প্রতিনিয়ত অত্যাচারিত হচ্ছেন মা। ২০২১ সালে দাঁড়িয়েও প্রায়ই এই ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় অধিকাংশ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে।
এবার থেকে বয়স্ক বা প্রবীণ নাগরিকদের নিজের বাড়িতে বসবাস করার অধিকার থাকবে। যদি প্রয়োজন হয় তবে তিনি নিজের পুত্র এবং পুত্রবধূকে বাড়ি থেকে বিতাড়িতও করতে পারেন। শুক্রবার এক মামলার পর্যবেক্ষণে এমনটাই জানাল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের মতে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুসারে যে কোনও প্রবীণ নাগরিকের নিজের বাড়িতে থাকার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। পুত্র-পুত্রবধূ তাতে বাধা দিলে উল্টে তাঁদেরকেই ঘর ছাড়তে হবে।
আরও পড়ুনঃ উচ্চমাধ্যমিকে প্রথমস্থান অধিকারী রুমানা সুলতানার বাড়িতে মন্ত্রী সুব্রত সাহা
সম্প্রতি নিজের পুত্র এবং পুত্রবধূর অত্যাচারে বাড়ি ছাড়া হন নদিয়ার এক প্রবীণ ব্যক্তি। এই ঘটনার বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন ওই ব্যক্তি। শুক্রবারই ওই মামলার শুনানি হয়। এদিন ওই শুনানিতে বিচারপতি রাজশেখর মান্থা বলেন, “একজন বয়স্ক বা প্রবীণ নাগরিকের নিজের বাড়িতে ভাল ভাবে বসবাস করার অধিকার রয়েছে। আর যদি তা না হয় তাহলে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের আওতায় থাকা জীবনের মৌলিক অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার ভঙ্গ হতে পারে।”
তাঁর আরও মন্তব্য, “জীবনের শেষ সময় কোনও নাগরিককে যদি আদালতে যেতে বাধ্য করা হয় তাহলে সেটা অবশ্যই বেদনাদায়ক।” বিচারপতি মান্থা এও বলেছেন, “যে জাতি নিজের বৃদ্ধ, অসুস্থ নাগরিকদের যত্ন নিতে পারে না, দেখভাল করতে পারে না সে সম্পূর্ণ সভ্যতা অর্জন করেছে বলে মনে করছি না।”
আরও পড়ুনঃ অলিম্পিক্সে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মেরি কম, টেবিল টেনিসে তৃতীয় রাউন্ডে মণিকা
বেশ কিছুক্ষেত্রে শ্বশুরবাড়িতে পুত্র ও পুত্রবধূদের থাকার আইনি অধিকার থাকে। সে ক্ষেত্রে তাঁদের বার করে দেওয়া উচিত হবে কিনা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ২০০৭ সালের প্রবীণ নাগরিক আইন অনুযায়ী, বয়স্ক ব্যক্তির তাঁর নিজের বাড়িতে বসবাস করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু ২০০৫ সালে পারিবারিক হিংসা আইন পাস হয়। আর ওই আইনে পুত্র ও বধূদের রক্ষা করার কথা বললেও, বাসস্থানের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে পুত্রের দ্বারা অত্যাচারিত প্রবীণ ব্যক্তিরা চাইলে পুত্র-পুত্রবধূকে ঘর থেকে বিতাড়িতও করতে পারেন।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584