হটস্পট এখন রাজ্যের হাসপাতালগুলিই! ৯চিকিৎসক-সহ করোনায় আক্রান্ত ১২ স্বাস্থ্যকর্মী

0
66

শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতাঃ

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যেকদিন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লড়াইয়ের ময়দানে নামতে হচ্ছে চিকিৎসক,নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের।আর সরাসরি সংস্পর্শে আসার কারণে বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন তাঁরা নিজেরাও। স্বাভাবিক ভাবেই পশ্চিমবঙ্গেও করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাননি চিকিৎসক-নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা।

corona positive | newsfront.co
গ্রাফিক্সঃ সৈকত দাস

স্বাস্থ্য দফতরের সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৯ জন চিকিৎসক-সহ ১২ জন স্বাস্থ্যকর্মী, যার মধ্যে সাম্প্রতিক সংযোজন মিন্টো পার্কের নামজাদা অর্থো সার্জেন, বেলেঘাটা নাইসেডের মহিলা ল্যাব টেকনিশিয়ানও।

আরও পড়ুনঃ ব্রেকিং নিউজ: উচ্চমাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষা জুন মাসে

করোনার চিকিৎসা করতে করতে পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালগুলিই যে ধীরে ধীরে করোনা হটস্পট হয়ে উঠছে, এমন আশঙ্কা করেছিলেন অনেক চিকিৎসকই। রাজ্য চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং একের পর এক নার্সিংহোম বন্ধ হয়ে যাওয়া সে দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে দাবি চিকিৎসক মহলের।

প্রসঙ্গত, এদেশে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে দুজন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে মিন্টু পার্কের বেসরকারি হাসপাতালের এক বর্ষীয়ান নামজাদা অর্থোপেডিক সার্জন এবং নাইসেডের এক মহিলা ল্যাব টেকনিশিয়ানের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

জানা গিয়েছে, মিন্টো পার্কের বেসরকারি হাসপাতালের ওই বর্ষীয়ান নামজাদা অর্থোপেডিক সার্জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তিনি বর্তমানে সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

জানা গিয়েছে, বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখছিলেন ওই চিকিৎসক। ফলে তিনি কার থেকে সংক্রমিত হয়েছেন তা খোঁজার চেষ্টা চলছে। সঙ্গে তাঁর থেকে কেউ সংক্রমিত হয়েছেন কি না তাও খুঁজে বার করার চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে হাসপাতালের একাধিক বিভাগ জীবাণুমুক্ত করার কাজ চলছে। সূত্রের খবর, হাসপাতালের বেশ কয়েকজন কর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হতে পারে।

অন্যদিকে, নাইসেডের পরীক্ষাগারে করোনা পরীক্ষা করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলেন বেলেঘাটা নাইসেডের এক ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান। সম্প্রতি তাঁর করোনার উপসর্গ দেখা দিলে লালারস পরীক্ষার পর তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাঁকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বেলেঘাটা নাইসেডের ল্যাবরেটরিতে কর্মরত ওই তরুণী উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার বাসিন্দা। তার করোনা সংক্রমণেে নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের ৩ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন ব্যাঙ্ককর্মী, আরেকজন নার্স।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে প্রথম আলিপুর কমান্ড হাসপাতালের এক চিকিৎসক যিনি লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার তিনি প্রথম করোনা আক্রান্ত হন। এরপর তার সংস্পর্শে এসে তার স্ত্রী,পুত্র,কন্যা এবং ব্যক্তিগত গাড়িচালক করোনা আক্রান্ত হয়। এরপর হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপার খোদ করোনা আক্রান্ত হয়ে টালিগঞ্জ এম আর বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে দমদম নাগেরবাজার এর একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হন। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের এক জুনিয়ার ডাক্তার করোনা আক্রান্ত হন। দক্ষিণ কলকাতার এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীকে চিকিৎসা করার পর সেই কর্মী করোনা আক্রান্ত হন। তারপর এই ল্যান্সডাউন এর রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান বা শিশুমঙ্গল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকের শরীরে কোন ধরা পড়ে।

রবিবার ভিআইপি রোড চিনার পার্ক এলাকার এক বেসরকারি হাসপাতালের রোগীদের ডায়ালাইসিস করার পরে তার করোনা ধরা পড়ে। এরপর আরো বেশ কয়েকজন এর ধরা পড়ে করোনা। ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসকের সোমবার করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর মঙ্গলবার আরো এক চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হন।

অন্যদিকে দমদম নাগেরবাজার এর বেসরকারি হাসপাতালে এক মেট্রন প্রথমে করোনা আক্রান্ত হন।এরপর হাওড়া বালটিকুরী ইএসআই হাসপাতালে নার্স আক্রান্ত হন তার স্বামী ও পরবর্তীতে আক্রান্ত হয়। হাওড়া জেলা হাসপাতালের এক সাফাই কর্মীও করোনা আক্রান্ত হন। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের একজন নার্স করোনা আক্রান্ত হন। রবিবার চিনারপার্ক এলাকার ওই বেসরকারি হাসপাতালের ফ্লোর ম্যানেজার সহ তিন স্বাস্থ্যকর্মীও করোনা আক্রান্ত হন। অন্যদিকে হাওড়া জয়সওয়াল হাসপাতালে এক নার্সের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91-9593666485