ছোটদের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সময় বন্ধ হোক গর্ভনিরোধক বিজ্ঞাপন

0
79

নবনীতা দত্তগুপ্ত, বিনোদন ডেস্কঃ

“মোবাইল বাচ্চাগুলোর মাথা খেয়ে নিচ্ছে।”– কথাটা রাস্তাঘাটে, বন্ধু সমাবেশে, স্কুলের গেটের বাইরে শোনা যায় অহরহ। অনেকে আবার বলেন, মোবাইল দেখার থেকে টিভি দেখা ভাল। টিভিটা অন্তত দূর থেকে দেখলে চোখটা বাঁচবে। কিংবা বলে থাকি- “কোনওটাই দেখা ভাল না।”… এরকম আরও কত কিছু না আমরা নিজেদের ভাবনা মিশিয়ে যুক্তি মিলিয়ে বলে থাকি। কিন্তু একটা জিনিস আমাদের অনেকেরই চোখ এড়িয়ে দিব্যি বাণিজ্য বাড়িয়ে চলেছে। সেই ব্যাপারে হেলদোল নেই অধিকাংশের।

pregnancy advertisement will be closed during child television programs | newsfront.co
প্রতীকী চিত্র

বিষয়টি একটি সত্য ঘটনার মাধ্যমে তুলে ধরলে পরিষ্কার হবে। ক্লাস ওয়ানে পড়ে চিন্টু (নাম পরিবর্তিত)। সে স্কুল থেকে ফিরে অল্প আহারাদি সেরে বসে যায় টিভির সামনে। সে ‘গোপাল ভাঁড়’ দেখে, ‘নিক্স’ দেখে, দেখে ‘পঞ্চতন্ত্রের মন্ত্র’, দেখে ‘নাট বল্টু’। ছোটা ভীম বা ডোরেমন আজকাল সে বিশেষ দেখছে না। পরে দেখবে হয়ত। হঠাতই একদিন মায়ের কাছে প্রশ্ন- “মা, আনওয়ান্টেড প্রেগন্যান্সি মানে কী?” মায়ের চক্ষু চড়কগাছ। কোনও উত্তর নেই মায়ের মুখে।

আরও পড়ুনঃ লাগল যে দোল

ছেলেও যে নাছোড়বান্দা। উত্তর তো মাকে দিতেই হবে। মা সাত সতেরো না ভেবে বলে দেন- একটা দোকানের নাম। দুদিন পরে ছেলে একটি স্যানিটারি ন্যাপকিনের অ্যাড দেখে বলে- “মা দেখো এই ন্যাপিগুলো তাড়াতাড়ি জল শুষে নেয়। ভাইকে এটা কিনে দিও। ও আর তা হলে বিছানা ভেজাবে না।” একইভাবে কোন চকলেটের কী রকম স্বাদ হতে পারে সেই বিষয়েও আগ্রহ রয়েছে চিন্টুর। আসল কথাটা হল, ওদের শিশুমনে কৌতূহল বড় বেশি। অনেক প্রশ্ন ওদের জীবনে।

সঠিক উত্তর না পেলেই রেগে যায় ওরা। এখনই তো জিজ্ঞাসার বয়স ওদের।…বিপদে পড়েন পরিবারের লোকেরা। তাঁদের কাছে ওই একরত্তিগুলোকে দেওয়ার মতো কোনও উত্তর থাকে না। এত কথা বলার একটাই কারণ, ছোটদের জন্য সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলির সময়ে এই জাতীয় বিজ্ঞাপন না দেখানোই শ্রেয়। সময়েরটা সময়ে ওরা জেনে যাবেই। কিন্তু অসময়ে এহেন বিজ্ঞাপণ ওদের মাথায় নানা প্রশ্নের সঞ্চার করছে। ফলে, স্কুলে গিয়েও নানা আলোচনায় শামিল হচ্ছে ওরা।

টেলিভিশন চ্যানেলগুলির কাছে একটি আর্জি— ছোটদের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সময় বন্ধ হোক গর্ভনিরোধক বিজ্ঞাপন, বন্ধ হোক ঋতুকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপণ সহ ওই জাতীয় যেকোনও বিজ্ঞাপন। না হলে আগামী বেশ সংকটের। এতটুকু বয়সে ওদের মনের ভিতরে এহেন প্রশ্ন দানা বাঁধা সুখকর নয়। এই নিয়ে স্কুলেও ওরা আলোচনায় বসে অবসরে। আর তা কতটা ক্ষতিকারক তা বলা বাহুল্য।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here