ছাত্র-বিক্ষোভে উত্তাল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

0
100

পঙ্কজ রায়,মালদা,১৯শে সেপ্টেম্বর:

আজ স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি-প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা এবং অবিলম্বে ক্লাস শুরুর দাবিতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সুজিত মণ্ডলের ঘরের সামনে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। বিক্ষোভের মুখে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বীকার করে নেন, স্নাতক পরীক্ষার ফল বেরোনোর ৪ মাস পরেও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অন্তত ৪০ শতাংশ আসন এখনও শূন্য আছে। তাই ক্লাসও শুরু করা সম্ভব হয়নি। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের প্রতিশ্রুতির পরে সাময়িকভাবে বিক্ষোভে বিরতি পড়লেও, বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই পরিস্থিতি ফের নতুন করে উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের।

এদিন বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে জাবের আলম, আব্বাস আলিম সাফেলি, লাবণি সরকার-সহ অন্যরা জানান, স্নাতক স্তরের ফল প্রকাশিত হয়েছিল ৯ মে। তার পর থেকে ৪ মাস কেটে গেলেও এখনও ভর্তি-প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধীন মালদা কলেজে নির্দিষ্ট সময়েই ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের পরীক্ষা। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন, অক্টোবর মাসের আগে ক্লাস শুরু করা সম্ভব নয়। মাত্র ৪ মাস ক্লাস করেই আমাদের পরীক্ষায় বসতে হবে। এ ছাড়াও ভর্তি সম্পূর্ণ না হওয়ায় কন্যাশ্রী প্রকল্প, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ, স্বামী বিবেকানন্দ মেধাবৃত্তি-সহ কোনও বৃত্তির জন্যই তাঁরা আবেদন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা। বলেন, ক্লাস শুরু না হলে তাঁরা নেট বা সেট-এর মতো পরীক্ষায় বসারও সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাফিলতিতে দীর্ঘায়িত হচ্ছে দু’বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সের মেয়াদও।

বিক্ষোভরত ছাত্র-ছাত্রীরা (ছবি সৌজন্যে-আজকাল)।

ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ যে সত্যি, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সুজিত মণ্ডল বলেন, বন্যার কারণে ভর্তি-প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে দেরি হয়েছে। তবে উপাচার্য গোপালচন্দ্র মিশ্র এখন ক্যাম্পাসে নেই। তিনি ফিরলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে আমরা সমাধানের চেষ্টা করব। যদিও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের যুক্তি মানতে নারাজ ছাত্রছাত্রীরা। তাঁরা বলেন, বন্যা হয়েছে আগস্ট মাসে। আর ভর্তি-প্রক্রিয়া তো শেষ হওয়ার কথা জুলাই মাসের শেষেই। তা করতে ব্যর্থ হয়ে এখন বন্যার অজুহাত দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার।
অন্যদিকে, ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের কারণকে সমর্থন করেছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বা জিবুটা। জিবুটা-র পক্ষ থেকে শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বাপি মিশ্র বলেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভের কারণ বুঝতে পারছি। তাদের ক্ষোভ অমূলক নয়। আমরাও উপাচার্য ফিরলে ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগগুলি উপাচার্যকে জানাব।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here