রবিবারের গল্পঃ বখাটে

3
168

অন্তরা গুহ

আজ বিশ-এ শ্রাবণ। আজই তো ছিল তাদের প্রথম দেখা। এক লহমায় রীতি পৌঁছে গেলো সাত বছর আগের স্মৃতিতে। সেদিন প্রবল বৃষ্টি। অফিস থেকে বেরোতে দেরি হয়েছিল রীতির। প্রাইভেট কার ছাড়া একটাও ক্যাব নেই রাস্তাতে।

Local boys | newsfront.co
প্রতীকী চিত্র

অর্ধসিক্ত রীতি এদিক ওদিক তাকাতে থাকে। ট্যাক্সি অথবা শেড যা পাওয়া যায়। ফুটপাথে রমেনকাকার চায়ের দোকান ছাড়া আর কিছুই চোখে পরলো না। আর চায়ের দোকানে বসে বখাটে গোছের কলেজ পাস একটি ছেলে। ছেলেটি হেঁকে বললো ম্যাডাম দোকানে ঢুকে বসুন। গলাটাও রকবাজের মতো লাগলো রীতির। তবু কাক স্নাত হওয়ার আগে দোকানে ঢুকে বসাটাই শ্রেয় ভেবে এগিয়ে এলো রীতি। বাবাকে ফোন করল সে, “বাপি আমার দেরি হবে। তোমরা খেয়ে নিও।“

Antara Guha | newsfront.co
অন্তরা গুহ

সাড়ে নয়টায় বৃষ্টি একটু কমলো। দোকানে আর কেউ পরিচিত না হলেও রমেন কাকা কিন্তু বিখ্যাত। তিনি রীতিকে বললেন, ” মা এবার বেড়িয়ে পড়ো। আমার আবার দোকানময় জল। এই পূর্ণ ওনার জন্য একটা গাড়ি ডেকে দে , আবার একটু দোকানের জল এরও কিছু ব্যবস্থা করতে হবে। ” একটা চলন্ত ট্যাক্সিকে দাঁড় করলো পূর্ণ। রীতি ঘুরে দেখলো দোকানে ট্যাক্সিতে ওঠার আগে আর মুচকি হেসে ভাবলো- বখাটে ছেলে আবার পূর্ণ!

সাত বছর পর, বৃষ্টি থামার কোনও লক্ষণ নেই। ওদিকে মেঘ যত গর্জায় ভয় পায় রাই, রীতি আর পূর্ণেন্দুর ছোট্ট দেড় বছরের মেয়ে। রীতি অধৈর্য হয়ে ফোন করলো পূর্ণেন্দুকে- “আজ তো তাড়াতাড়ি আসতে পারতে অফিস থেকে। এত বৃষ্টি ,আর আজ দিনটা… রাই ও কাঁদছে। ”

আরও পড়ুনঃ ইতিহাসের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ‘শবর’ গোষ্ঠী

পূর্ণেন্দু বলে, ” তাড়াতাড়িই তো বেরোলাম। কিন্তু ফেরার পথে সেই রমেন কাকার দোকান, জল জমে গেছে, কিভাবে ছেড়ে আসি ?” বখাটে পূর্ণ বরাবরই দায়িত্বশীল। সেই বখাটে পনাই পূর্ণ করেছে রীতিকে। রাইকে কোলে নিয়ে জানালার বাইরে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো রীতি আবার।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here