নতুন বিতর্কে বিশ্বভারতী! আলাপিনী সমিতির ঘরে পড়ল তালা

0
63

পিয়ালী দাস, বীরভূমঃ

সীমাহীন দাদাগিরির নিদর্শন বিশ্বভারতীর উপাচার্যের। বিশ্বভারতীর আলাপিনী সমিতির ঘর জোর করে সীল করে দিল বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এই ঘটনায় হতবাক বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী থেকে শুরু করে আশ্রমিকরা। নিন্দার ঝড় উঠেছে শান্তিনিকেতন জুড়ে।

visva bharati | newsfront.co
ফাইল চিত্র

আলপিনী সমিতির সভানেত্রী অপর্না দাস মহাপাত্র জানিয়েছেন,আমরা আশ্রমের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। গত ১০ ই ডিসেম্বর আলাপিনী মহিলা সমিতি কে আম্রকুঞ্জের পাশে থাকা তাদের বৈঠক বাড়িটি কে ছেড়ে দেবার নোটিশ দেয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ ঘরে বাইরে চাপের মুখে হাথরাসের জেলা শাসক বদল যোগী সরকারের

কিন্তু সমিতির ১০৪ বছরের ঐতিহ্য কে সামনে রেখে ঘর না ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয় সদস্যরা। ১৯১৬ সালে এই সমিতির শুভ সূচনা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আলাপিনী মহিলা সমিতি বিশ্বভারতীর আচার্য তথা দেশের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছে। সমস্যার সমাধান চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, আশ্রমের প্রথমদিকে গ্রয়েশন গ্রীন নামে এক বিদেশিনি শান্তিনিকেতনে আসেন , যিনি ধাত্রীবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।

bidyut chakraborty | newsfront.co
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, উপাচার্য। ফাইল চিত্র

তিনি আশ্রমের মেয়েদের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে অবগত করেন। সেই সময় সমিতির সদস্যরা কিরণমালা সেন ও ননীবালা দেবী ধাত্রীবিদ্যা শিখে আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় সেবায় নিয়োজিত হন। বছর কয়েক আগে অবধি নাটক পরিবেশন করতেন সমিতির সদস্যরা। বর্তমান বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্বভারতীর দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে এই ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ ভাইকে দলে টেনে কাঁথি থেকে তৃণমূলকে ঝেঁটিয়ে সাফ করার ডাক শুভেন্দুর

প্রতি বছর ৭ ই পৌষ দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া নামকরণে একটি সাহিত্য পত্রিকা সমিতির সদস্যরা। ১৯৫৩ সালে আলাপিনী সমিতির সদস্যরাই আনন্দ পাঠশালা সৃষ্টি করেন। যা এখন মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালা নামে পরিচিত। বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী এবং প্রবীণ আশ্রমিক শর্মিলা রায় পোমো জানিয়েছেন, ঘোর অন্যায় করেছেন উপাচার্য।

বিশ্বভারতীর প্রবীণতম আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর জানিয়েছেন অন্যায় হয়েছে। এভাবে এত পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে জোর করে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া গুরুদেবের আদর্শ পরিপন্থী কাজ করেনি বিশ্বভারতী। বিকল্প কোনো ঘরের ব্যবস্থা করে তবেই ঘর টি ফেরত নেওয়া উচিত ছিল। শিক্ষার আশ্রমে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী দাবি আশ্রমিক সুবোধ মিত্রের।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here