মধু নস্কর
আজ সত্যজিত রায়ের প্রয়াণ দিবস।আজ তিনি থাকলে এই মহামারী সময়ে তাঁর কি প্রতিক্রিয়া হতো জানা নেই, তবে তাঁর তৎকালীন সিনেমাতে সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছিল আজকের মহামারীর থেকে ভিন্ন কোথায় !
আজ যখন পরিযায়ী শ্রমিকরা মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে ঘরে ফেরার চেষ্টা করে; তা তো সর্বজয়ার সংসারের জন্য। আজো সর্বজয়ারা ইতিউতি দেখে তালটি কুড়িয়ে আনে ; আজো চোখের সামনে জ্বরে মেয়েকে মরতে দেখে।হরিহরেরা তখন থেকেই পরিযায়ী। সমাজ চিত্র আজও একই রকম।

হীরকরাজা আজও সেই সিংহাসনে বসে রয়েছেন।কোথাও হারিয়ে গেছে সত্যজিতের উদয়ন পন্ডিতেরা ;যারা বলবে,’দড়ি ধরে মারো টান রাজা হবে খান খান।’ হীরকরাজা এখনও মগজ ধোলাই করে চলেছেন।
ফজল মিয়ারা থালা বাজিয়ে, মোমবাতি জ্বালিয়ে বলতে থাকে, ‘বাকি রাখা খাজনা মোটে ভালো কাজ না, যায় যদি যাক প্রাণ হীরকের রাজা ভগবান।’ শ্রমিকরা আজো চিৎকার করে ‘ধন্য শ্রমিকের দান হীরকের রাজা ভগবান।’আর সেই উদয়ন পন্ডিত চিরকাল গনশত্রু -সময়ের বদলে তিনিই আজ ডক্টর অশোক গুপ্ত।
তাঁর ক্যামেরার লেন্সে চোখ দিয়ে আমরা দেখেছিলাম লালিত্যে পরিপূর্ণ-অস্ফুট অন্তর বিদারক প্রেমিকা চারুলতাকে।অপুর রোম্যান্টিক চোখ দিয়ে রেল লাইন কাশ বনে দৌড়াচ্ছি আজও। প্রতিটা মূহূর্তে ভূতের রাজাকে খুঁজে চলেছি তিনটে বর নেব বলে।
জলসাঘরে আমরাও দেখি পরিত্যক্ত দেওয়ালের কথা।বিরিঞ্চি বাবারা সসম্মানে আজও এখানে চন্দ্র সূর্য মুঠিতে ভরে।পরশ পাথর খুঁজে ফিরি সকলে, তোমার আসন পূর্ণ করার উপায় জানা নেই। এটুকু নমি,’মহারাজা তোমার সেলাম।’

(নিবন্ধকার পেশায় শিক্ষিকা)
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584