একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী-মইনুল হাসান

    0
    1721

    একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী-মইনুল হাসান

    নিবন্ধকার মইনুল হাসান

    মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবী দীর্ঘদিনের এবং প্রায় সব মানুষের।
    সম্প্রতি রাজ্যে আরও পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে বলে শোনা যাচ্ছে । সেই তালিকায় মুর্শিদাবাদের নাম নেই। কিন্তু কেন নেই তার যুক্তিগ্রাহ্য কারণ পাওয়া যাচ্ছে না।

    মুর্শিদাবাদ জেলার পরিচয় সম্পর্কে সকলেই প্রায় জানে। তবে এ কথা বলতেই হয় অনেক বৃহত্তম জেলার মধ্যে অন্যতম জেলা মুর্শিদাবাদ। স্বাধীনতার আগে থেকেই কৃষি প্রধান। দেশভাগের পর ক্ষতিগ্রস্ত, এক সময় মধ্যবিত্ত শ্রেণিহীন ও শিক্ষার প্রসারের অভাবে পিছিয়ে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দুশো কিমি দূরে হলেও তিন চার দশকে আমূল পরিবর্তন এসেছে, পাল্টে গেছে চিন্তা, সমাজ। বর্তমানে 26 টি কলেজ 35 বি.এড কলেজ। কলেজগুলো অবান্তর ভাবে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন।
    পাশের মালদহ জেলায় নানা রকম 3- 4 টি বিশ্ববিদ্যালয়, নদীয়ায় দুটি, বর্ধমানে দুটি বীরভূমে একটি কেন্দ্রীয় ও একটি সরকারি হতে যাচ্ছে। কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলার অপরাধ কী?

    প্রায় 70 লক্ষ মানুষ এই জেলায় বাস করে, বিরাট অংশের শিক্ষিত মানুষ। খুশির বিষয় মেয়েদের শিক্ষার হার বেড়েছে, আগ্রহ বাড়ছে। উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা সব অংশ মানুষের মধ্যে। এই জেলায় জনগোষ্ঠীর বিন্যাস খুবই উল্লেখযোগ্য। অধিকাংশ মুসলমান, কিন্তু পিছিয়ে পড়া, বেশিরভাগই অসংগঠিত শ্রমিক পরিবার। বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা প্রচুর, তার সঙ্গে আছেন তপশীলি জাতি, উপজাতি অংশের মানুষ। সব মিলিয়ে জন গোষ্ঠী পিছিয়ে পড়া।
    আজকে সামাজিক পরিবেশে সমস্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই অংশের দিকে নজর দিতে। তার কারণ পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে যদি যথেষ্ট এবং আধুনিক শিক্ষা না দেওয়া হয় তাহলে তাদের অগ্রগতি সম্ভব নয়।মুর্শিদাবাদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সেদিক দিয়েও যুক্তিগ্রাহ্য।
    2005 সালের পরে থেকে যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়ে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি কেন্দ্র গড়ে উঠে। 2010 সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি। এখন পরিস্থিতি আরো খারাপ। অনেকে বলেন এই কারণে আর একটা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে না। একবারেই যুক্তিহীন বাক্যবিন্যাস। তাহলে বীরভূমে হচ্ছে কেন? আর মুর্শিদাবাদ এতো বড়ো জেলা যে 2 /3 খানা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া কোনো কঠিন বিষয় নয়। তবুও হচ্ছে না।

    কয়েকটি প্রশ্নের সরাসরি জবাব পাওয়া দরকার অনেকেই বলেন বামপন্থী সময়ে হয়নি কেন? ঠিক। মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে।ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো হয়েছে। ডজন ডজন উচ্চ/মধ্য/ প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টা হতে পারতো, হয়নি। সে তো কোচবিহারে, হুগলিতেও হয়নি। সেখানে এখন হচ্ছে। মুর্শিদাবাদে হতে বাধা কেন?

    রাজনৈতিক কোন কারণ আছ কিনা আমার জানা নেই। এটা ঠিক যে, এমন সুদিনের বাজারেও মুর্শিদাবাদ শাসক গোষ্ঠীর ভিতটা ততখানি সবল নয়। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কি এটা কোন বাধা হতে পারে?
    সবার জন্য যা ভালো – তাই তো উন্নয়ন। যে কথা অহরহ আকাশে বাতাসে প্রচারিত হচ্ছে। তাহলে মুর্শিদাবাদ জেলা বঞ্চিত কেন,? কোনো, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের দাবি এটা নয়। এটা মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীর সঙ্গে সঙ্গে সারা রাজ্যের দাবি।
    একথাতেও আমি বিশ্বাস করিনা যে, বিশ্ববিদ্যালয় হলেই উচ্চশিক্ষার সব দরজা খুলে যাবে। আধুনিক শিক্ষার প্রসারে সব দিক দিয়ে তৎপর হতে পারে। বৈজ্ঞানিক ও গণতান্ত্রিক শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষক মহাশয়দের দায়বদ্ধতা আরো বাড়াতে হবে।
    তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিটি এখন রাজ্য বাসির দাবিতে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে এটি বাস্তবায়িত হোক। আর বেশিদিন অপেক্ষা করলে সেটা শাসকদলের এবং তাদের সরকারের আহাম্মকিতে পরিনত হবে।
    মানুষ ততদিন অপেক্ষা করবে না।

     

    নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
    WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
    আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here