কেউ হতে চায় শিক্ষক,কেউ আইনজীবী,বাধ সাধছে অনটন

0
66

শ্যামল রায়,বর্ধমানঃ

everybody has new dream
নিজস্ব চিত্র

পরিবারের আর্থিক অনটন লেগেই আছে , তাতেও হার মানেনি কালনার পড়ুয়া গুপীনাথ বিশ্বাস।চোখে স্বপ্ন,একদিন মাস্টার মশাই হবে শিক্ষা দেবে সমাজ গড়ার কান্ডারী হবে।ঘরে অভাব বাধা হয়ে দাঁড়ালেও মাস্টার হতে চাওয়া স্বপ্ন বুকে আগলে রেখেছে গুপীনাথ।ভালো রেজাল্ট করলেও আর্থিক অনটনে আগামী দিনের পড়াশুনো নিয়েই এখন চিন্তায় কালনার কৃতী ছাত্র।চরম আর্থিক প্রতিকূলতাকে জয় করে নজরকারা ফল করেছে কালনার মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র গুপীনাথ বিশ্বাস।

গুপির প্রাপ্ত নম্বর হলো ৪৫২।উচ্চমাধ্যমিকের সময় অর্থের অভাবে ঠিকমতো কিনতে পারেনি প্রয়োজনীয় বই,ছিল গৃহ শিক্ষকের সমস্যা।তবুও রেজাল্টে চমকে দিয়েছে কালনার গুপীনাথ।তাই আগামী দিনের পড়াশুনো নিয়েই সাহায্যের আশায় গুপীর পরিবার।কোনও রকম প্রাইভেট টিউশনি না নিয়ে চরম আর্থিক প্রতিকূলতাকে জয় করে নজরকারা ফল করছে গুপী।

কালনা শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা গুপীনাথ বিশ্বাস।মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয় থেকেই এবার অনবদ্য ভালো ফল করেছে সে।তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৫২।বাবা সুখদেব বিশ্বাস পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঘুরে চুল কাটার কাজ করেন।বাসস্থান বলতে টিন ও বাঁশ দিয়ে কোনও রকমে থাকার জায়গা।মা কৃষ্ণা বিশ্বাস গৃহবধূ। সেই সঙ্গেই তার দাদা ও বোনের পড়াশুনো খরচও চালাতে হয় তাঁর বাবার সামান্য আয়েই।অঙ্কে অনার্স নিয়ে আগামী দিনে পড়াশুনো করতে চায় গুপী।এই অবস্থায় সামান্য আয়ে সংসার খরচ চালাতেই হিমশিম খান তার পরিবার।জানা যায় খুবই কষ্ট করে স্কুলে ভর্তি হয়েছিল গুপী।

তাই দিন রাত পড়াশুনো করে ভাল ফল করেছে সে।ইচ্ছে মানুষের মতো মানুষ হয়ে একদিন খেটে খাওয়া বাবা মা বোন ও ছোট ভাইয়ের পাশে দাঁড়াবে।কিন্তু আর্থিক সঙ্কটই তাঁর স্বপ্নে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।এত ভালো ফল করে গুপীর স্বপ্ন ভালো পড়াশুনা করে শিক্ষক হওয়া। কিন্তু সে পথে বাধা একমাত্র পরিবারের আর্থিক দুর্বলতা।তাই গুপীর আগামী পড়াশুনোর জন্য আর্থিক সাহায্য চাইছে তাঁর পরিবার। এইরকম অনেক পরিবার আর্থিক দুর্দশায় আগামী দিনের পড়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছে।কেউ ডাক্তার বা স্কুল শিক্ষক হতে চায়।সেই খরচ কীভাবে চালাবেন তার জন্য এলাকার মানুষদের কাছে সাহায্য চাইছেন বাবা।আর এই পড়ুয়াই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ দক্ষিন সুন্দরবনের মাসুমের স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া

গুপির বাবা বলেন, নানা সমস্যার মধ্যে এবারে ওর উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। ওর রেজাল্ট ভালো হওয়ায় আমরা খুশি।আমাদের লক্ষ্য যে কোনও মূল্যে ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করা।আর্থিক সংকটই আমার মূল প্রতিবন্ধকতা।ওকে লেখাপড়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে কোনও গৃহশিক্ষক দিতে পারিনি।কয়েকজন শিক্ষক উদ্যোগী হয়ে গুপীকে পড়িয়েছেন। শিক্ষকরা ওকে সাহায্য করেছেন। আমার ছেলের রেজাল্টের জন্য আমি ওনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।ওকে আরও কয়েকজন শিক্ষকের কাছে দিলে হয়তো আরও ভালো রেজাল্ট করতো।

কৃতি ছাত্র গুপীনাথ বলে, “এমন ভালো ফলাফল করবো স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। অভাবের সংসারে তো সেরকম পড়াশুনায় সে ভাবে করতে পারিনি। একটা সময় ভেবেছিলাম ও হয়তো পাসও করতে পারবো না।আমার ভাবনা পালটে গেছে রেজাল্ট দেখে।

আমি খুব খুশি।যতটা পেরেছি করেছি। আবারও করব।ইচ্ছে অনেক পড়াশুনা করার। কতটা পারব জানি না।কেউ সাহায্য করলে ভালো হয়।আমাকে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা সহযোগিতা করেছেন।সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।বাবা মা আমায় লেখাপড়ায় খুব সাহায্য করেছেন। ওনাদের সবার জন্যই আমার এই সাফল্য। ভবিষ্যতে স্কুল মাস্টারের পরীক্ষা দিয়ে মাস্টামশাই হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।আগামী দিনে সেই লক্ষ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যাব।”

এমনই আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে ভালো ফল করেছে কালনার হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ের শ্রাবন্তি হালদার। উচ্চ মাধ্যমিকে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪০৭। কালনা শহরের বড় মিত্র পাড়ার বাসিন্দা।আর্থিক দিক থেকে অস্বচ্ছল পরিবার। তাঁর বাবা তাপস হালদার সাইকেলের পিছনে মাছ নিয়ে পাড়ার পাড়ায় মাছ বিক্রি করেন।মা কয়েকটি বাড়িতে রান্নার কাজ করেন।আগামী দিনে আইন নিয়ে পড়ে আইনজীবী হতে চায় সে।সেই লক্ষেই চালিয়ে যেতে চায় পড়াশুনো।তবে পরিবার তাঁর পড়াশুনো কত দিন চালিয়ে যেতে পারবে তা নিয়েই চিন্তায় শ্রাবন্তি ও তাঁর পরিবার।

অন্যদিকে আর এক ছাত্র নিজেই আর্থিক সঙ্কটের সঙ্গে লড়াই করে ও নিজের পড়াশুনো চালিয়ে ভালো ফল করেছে ।তার নাম রাজবান রায়।কালনার আশ্রম পাড়ার বাসিন্দা। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪২৩। মহিষমর্দিনী ইন্সটিটিউশনের ছাত্র। রাজবানই স্কুলের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। পারিবারিক আর্থিক দুর্দশা ঘোচাতে নিজেই চলে গিয়েছেন রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজে।

প্রয়োজনীয় বই না থাকায় বন্ধুর বই নিয়ে চালিয়েছে পড়াশুনো।তারপরেই পরিশ্রমের ফল পেয়েছে হাতে নাতে।আগামী দিনে তাঁর ইচ্ছে শিক্ষক হওয়ার।তাঁর স্কুলের শিক্ষক দেবব্রত মন্ডল বলেন,”ওর এই ফলে আমাদের স্কুল খুবই খুশী।কাজে না গিয়ে স্কুলে আসতে পারলে আরও ভালো করতে সে।” তবে আর্থিক কারনে কি এদের স্বপ্ন গুলো বাস্তবায়িত হবে না ! কোনো সহৃদয় ব্যক্তির সাহায্যের হাত হয়ত এদের বিকাশের পথে পাথেয়।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here