বিদ্বেশ্বরী মাতার যজ্ঞানুষ্ঠান পালিত হচ্ছে মহাসাড়ম্বরে পতিরামে

0
138

নিজেস্ব সংবাদদাতা, পাতিরাম:গত শনিবার আত্রেয়ী নদী থেকে জল আনা দিয়ে শুরু হয়েছে এই বছরের পতিরাম বিদ্বেশ্বরী মাতার তিনদিন ব্যাপী মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠান।


জনশ্রুতি রয়েছে পতিরাম বিদ্বেশ্বরী মাতার মন্দির আজ থেকে প্রায় পৌনে দু’শো বছর আগে জনৈক ধীরেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী (মতান্তরে) একদাশ বর্ষে যজ্ঞ উপবীত্ ধারণ করে দেবী কামাখ্যার নির্দেশে গৃহত্যাগ করে কামাখ্যা মন্দির সংলগ্ন গভীর জঙ্গলে বারো বছর ধরে সাধনা করেন।তারপরে স্বপ্নে দেবী কামাখ্যা নির্দেশ দেন আত্রেয়ী ভারতী গঙ্গার তীরে দেবীর বাম পদাঙ্গুলী পড়েছে,সেখান থেকে দেবীর দেহখন্ড উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেন এবং সেখানেই বসবাস করে গৃহীর ধর্ম গ্রহণ করে নিয়মিত সেবাপূজার নির্দেশ দেন।বহু চেষ্টা করে ধীরেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী দেবীস্হান নিরূপণ করে নিত্য সেবাপূজায় ব্রতী হন।কালের নিয়মে গৃহীর ধর্ম গ্রহণ করার ফলে তাঁর এক কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে।কন্যার নাম রাখেন বিদ্বেশ্বরী।পরবর্তীকালে বিদ্বেশ্বরী মাতার পূজা অর্চনার কালে হঠাৎ একদিন কন্যা বিদ্বেশ্বরী নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।সেদিন রাতেই ব্রম্ভচারীকে স্বপ্নাদেশ দেয় যে তার কন্যা সেখানেই মহামায়ের সাথে লীন হয়ে গেছে।প্রমাণ হিসেবে কন্যার পরণের লাল পাড় শাড়ি মাতৃস্হানে ছড়ানো রয়েছে।
তারপর থেকেই পতিরামের এই মন্দিরে পূজা চালু হয়।দশ বছর আগে বঙ্গীয় তান্ত্রিক সমাজ,এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে অনেক বিজ্ঞ জন এসে এই স্হানকে দেবীতীর্থ হিসেবে অভিমত প্রকাশ করেন।এই স্হানের ইতিহাস এবং পৌরাণিক গ্রন্থ বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে পতিরামের প্রয়াত ডঃ দেবব্রত মালাকর নানাপ্রকার তথ্যাদি আবিষ্কার করেন।বর্তমান যজ্ঞ কমিটির অন্যতম সদস্য সুকুমার নন্দী এই মন্দির সম্পর্কে নানা তথ্য এবং গবেষণামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।

জনশ্রুতিতে এই মন্দির সম্পর্কে আরও জানা যায় তারাপীঠ থেকে মহাসাধক বামাক্ষ্যাপা এখানে এসেও সাধনা করে গেছেন।এই মাতৃস্হানে প্রতি বছর ভাদ্র মাসে কুশী অমাবস্যায় রাণী ভবানী এবং ভবানী পাঠক নৌকাযোগে এসে নিয়মিত পূজা দিতেন।মহাসাধক বামাক্ষ্যাপা বকুল অমাবস্যা তিথিতে এই মন্দিরে এসেছিলেন এবং দেবীকে জাগ্রত করে হোমযজ্ঞ পূজা করেছিলেন।সাধক বামাক্ষ্যাপার আগমন তিথি বকুল অমাবস্যাকে স্মরণ করে স্হানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে গত দশ বছর যাবৎ তিনদিন ব্যাপী পতিরামের এই মন্দিরে ৫১তম সতীপীঠ হিসেবে মহাশক্তিযজ্ঞ মহা সাড়ম্বরে পরিচালিত হচ্ছে।
তারাপীঠ,নবদ্বীপ প্রভৃতি স্হান থেকে প্রখ্যাত তান্ত্রিকগণ সম্পূর্ণ তান্ত্রিকমতে উদয় অস্ত মহাশক্তিযজ্ঞ পরিচালন করছেন।
মন্দির কমিটির পক্ষে দুলাল কুমার সাহা(দোলন),প্রশান্ত সাহা,বিশ্বনাথ সাহা,কাঞ্চন সরকার,সুকুমার নন্দী,সুশীল সাহা,সুবোধ মন্ডল,বিশ্বনাথ পাল,বিভাস সাহা,সৌমিত্র সাহা প্রমুখের দ্বারা যজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে।যজ্ঞের পূর্বদিনে অর্থাৎ গত শনিবার শতাধিক নবমবর্ষীয়া কন্যারা লাল শাড়ি পড়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে আত্রেয়ী ভারতী গঙ্গা থেকে অভিষেক বারী আনয়ন করে।
এই তিনদিন ধরেই মহাযজ্ঞের সময়েই প্রায় 15-20 হাজার ভক্তবৃন্দ অবাধে প্রসাদ গ্রহণ করেন।প্রতিদিন যজ্ঞানুষ্ঠানের পরে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মমূলক ভক্তিগীতি কীর্তন এবং আলোচনা মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে শ্যামল গাঙ্গুলী,ঊর্মিলা মন্ডল,সুচিন্ত্য ঘোষ,অনিমা মন্ডল,বিশ্বজিৎ প্রামাণিক,কূলপ্রদীপ চক্রবর্তী,মানিক দাস, সমীরব্রত মালাকার,টিঙ্কু সিংহ রায়,বৃন্দাবন দাস,পার্থ চ্যাটার্জি, অজিত বর্মণ, পুলক বসাক,বাপী মহন্ত প্রমুখের পরিচালনায়।সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্হানীয় এবং বহিরাগত শিল্পী সমন্বয়ে এক জমজমাট উৎসবে পরিণত হয়েছে।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিভিন্ন জ্ঞানী ব্যক্তিগণ পৌরাণিক আধ্যাত্মিক পুরাণের কাহিনী বর্ণনা করেন।এই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠান পতিরাম সহ কয়েকটি থানা এলাকার লোকজনের কাছে সর্বকালীন শ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
স্হানীয় মানুষ এবং উদ্যোক্তাগণ এই দেবীপীঠকে ৫১তম সতীপীঠ হিসেবে (জনশ্রুতি এখানে সতীর বাম পদাঙ্গুলী পতিত হয়েছে) তার স্বীকৃতির জন্য সবিশেষ আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং পৌরাণিক গ্রন্থের প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করে এই ৫১তম সতীপীঠের স্বীকৃতির দাবি জানাচ্ছে।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here