কিউইদের কাছে হেরে কার্যত বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ল টীম ইন্ডিয়া

0
30

শরীয়তুল্লাহ সোহন, ওয়েব ডেস্কঃ

অলিখিত ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’ ছিল গত রাতের ম্যাচটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরেছে ভারত-নিউজিল্যান্ড দুই দলই। সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে তাই জয়ের বিকল্প ছিল না কারওরই। এই রকম এক ম্যাচে দারুণভাবে কাম ব্যাক করবে বিরাট বাহিনী, এই প্রত্যাশা সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা পর্যন্ত ভেবেছিল। কিন্তু কোটি সমর্থকদের হতাশ করে কার্যত বিশ্বকাপ জয়ের রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ল ভারত। অথচও বিরাট বাহিনী ছিল এই বারের আসরের টপ ফেবারিট টীম এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য দাবিদার। কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, ফেবারিট বলে কিছু হয় না,মাঠের পারফরম্যান্স শেষ কথা -এই ব্যাপারটা হারে হারে টের পেল ভারত। তাই এমন বাঁচন-মরণ ম্যাচের সমীকরণই যেন ভয়াবহ চাপ হয়ে এল বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মাদের ভারতের কাছে।

IND vs NZ

দুবাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বোলিংয়ের সামনে দিশেহারা হয়ে বাঁচা-মরার ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের হাতেই তুলে দিল ভারত। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্বিষ ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে ১১০ রান তোলার পর কেইন উইলিয়ামসনের দলের কাছে তারা হেরেছে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। এ হারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের হিসেব-নিকেশ কঠিন হয়ে গেল ভারতের। প্রায় শেষ হওয়া আশাটুকু ঝুলে রইল মীরাক্কেল বা অঘটন উপর। যা সুপার টুয়েলভ গ্রুপ ২ এর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রায় অসম্ভব।

দুবাই বা শারজা ,যে মাঠেই হোক না কেন! টসটা যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটা প্রমাণিত শেষ পর্যন্ত। দুবাইয়ের উইকেটে টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে বাজিমাত নিউজিল্যান্ডের। তবে উইকেটের আলোচনা টেনে নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত বোলিংকে আড়াল করার কোনো মানে হয় না। তাছাড়া আর একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিউজিল্যান্ড এর সামনে ভারত বরাবরই খেই হারিয়ে ফেলে। ১৯৯০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক মঞ্চে ভারত- নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছে ৯ বার। ফলাফল ভারত ১ বার জিতেছে, নিউজল্যান্ড ৮ বার অর্থাৎ পরিসংখ্যান ১-৮ । কালকের ম্যাচে অসাধারণ বোলিং করেছেন কিউই বোলাররা। ট্রেন্ট বোল্ট তো ছিলেন অসাধারণ। টিম সাউদি, মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি কাকে ছেড়ে কার কথা বলা যায়!

Ish sodhi
ম্যাচের সেরা ইশ সোধি

ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকে হাঁসফাঁস করেছেন। লোকেশ রাহুলের সঙ্গী হয়ে গত রাতে মাঠে নামা ঈশান কিষান প্রথম শিকার। এরপর একে একে রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলিরা শামিল ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। তবে উইকেট হারানোর চেয়েও দৃষ্টিকটু ছিল আইপিএল খেলে অভিজ্ঞ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ের ধরন। ভাবাই যায় না পাওয়ার প্লে’র পর টানা ৭১ বল কোনো বাউন্ডারি পাননি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। এতটা নেতিবাচক ব্যাটিং টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে শেষ কবে দেখা গেছে, এটা গবেষণার বিষয় হতে পারে। রাহুল ১৬ বল খেলে ১৮ রান করে ফেরেন সাউদির বলে ড্যারেল মিচেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে। কিষানকে ফেরান বোল্ট, সেই ক্যাচও নিয়েছেন ড্যারেল মিচেল।

রোহিত শর্মাকে ফেরান সোধি। কিউই লেগ স্পিনারের ফাঁদে পা দেন বিরাট কোহলিও। তিনি বোল্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ভারতীয় অধিনায়ক যখন ফেরেন তখন ১১তম ওভারে ভারতের স্কোর পঞ্চাশও পার হয়নি—আউট হয়ে ফিরেছেন দলের শীর্ষ প্রায় সব ব্যাটসম্যানই। এরপরেও ঋষভ পন্ত আশা হয়ে ছিলেন, হার্দিক পান্ডিয়াও হাত খুলতে পারেন। কিন্তু তারা আজ কিছুই করতে পারেননি, রীতিমতো ধুঁকেছেন। পন্ত ১২ রান করতে খেলেছেন ১৯ বল। তাঁর অস্বস্তির সমাপ্তি ঘটান অ্যাডাম মিলনে, বোল্ড করে। পান্ডিয়া ২৪ বলে ২৩ করে আউট হন বোল্টের বলে, মার্টিন গাপটিলের ক্যাচ হয়ে। তবে ভারতের মান বাঁচিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি ১৯ বলে ২৬ রান না করলে যে কী হতো! ভারতের ইনিংস একশ পেরোতো কিনা সন্দেহ! ভারতের ইনিংসে বাউন্ডারি হয়েছেন ৮টি, ছক্কা ২টি। ৭১ বল বাউন্ডারি-শূন্য ভারতের বাউন্ডারি-খরা কাটান জাদেজাই। শেষ দিকে তাঁর ব্যাট থেকে আসা দুটি বাউন্ডারি আর একটি ছক্কাই ভারতের সংগ্রহ ১১০-এ নিয়ে যায়।

নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলার ছিলেন বোল্টই। তিনি ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। সোধি ছিলেন আরও কৃপণ। তিনি ৪ ওভারে ২ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১৭ রান খরচ করে। সোধির এই কৃপণ বোলিং, তাকে ম্যাচ সেরার পুরস্কার এনে দেন।আরেক কিউই পেসার টিম সাউদি ২৬ রান দিয়েছেন ৪ ওভারে, নিয়েছেন একটি উইকেট। একটি উইকেট নিয়েছেন অ্যাডাম মিলনে।

New Zealand
উইলিয়ামসন- মিচেল এই জুটি দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায়

১১১ রানের মামুলি লক্ষ্য। কিন্তু নিউজিল্যান্ডও শঙ্কায় ছিল। ভারতীয় পেস বোলার যশপ্রীত বুমরা হুমকি ছিলেন কিউইদের। তিনি তাঁর কাজটা ভালোই করেছেন। ১৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। কিন্তু কেইন উইলিয়ামসন, মার্টিন গাপটিল, ড্যারেল মিচেলদের ব্যাট কথা বলেছে ভারতের অন্য বোলারদের বলে। গাপটিলের শুরুটা ছিল ইতিবাচকই। তিনি ১৭ বলে ২০ রান করে বুমরার বলে মিসহিট করে শার্দুল ঠাকুরের হাতে ধরা পড়েন। গাপটিলের ফেরা আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু উইলিয়ামসন আর ড্যারেল মিচেল সেই আশা শেষ করে দেন, দারুণ ব্যাটিংয়ে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫৪ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েই শেষ করে দেন ম্যাচটা। মিচেলের অবশ্য আক্ষেপ হতেই পারে। এমন একটা ইনিংস খেলেও মাইলফলক ছোঁয়ার আনন্দটা পাননি বলে। দলের জয়টা যখন নিশ্চিতই, তখনই ৩৫ বলে ৪৯ রান করে বুমরার বলে লোকেশ রাহুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। উইলিয়ামসন অবশ্য ছিলেন অবিচল। ৩১ বলে ৩৩ করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।

Team India
দারুণ বোলিং করে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল বুমরাহ

ভারতীয় বোলারদের মধ্য বরুণ চক্রবর্তী ভালোই বোলিং করেছেন। ৪ ওভারে দিয়েছেন ২৩। কিন্তু সেটি দলের জন্য যথেষ্ট হয়নি। বুমরা ৪ ওভারে ২ উইকেট নিয়েছেন ১৯ রান দিয়ে। রবীন্দ্র জাদেজা ছিলেন খরচে, তিনি ২ ওভারে দিয়েছেন ২৩। মোহাম্মদ শামি আজও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। একমাত্র ওভারে ১১ রান দেওয়ার পর তাঁকে আর আক্রমণে আনারই সাহস পাননি কোহলি। ভুবনেশ্বর কুমারের বদলে দলে আসা শার্দুল ঠাকুর ৯টি ডেলিভারিতে দিয়েছেন ১৭ রান। হার্দিক পান্ডিয়াও ছিলেন খরচে, ২ ওভারে তিনি দিয়েছেন ১৭।

আরও পড়ুনঃ নামিবিয়াকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে দাপুটে জয় ছিনিয়ে নিল আফগানিস্তান

টানা দুই হারে ভারতের সেমিফাইনালে খেলাটা কার্যত কঠিনই হয়ে গেল। কোনো কিছুই এখন আর তাদের হাতে নেই। এর পরে স্কটল্যান্ড, আফগানিস্তান ও নামিবিয়ার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ ভারতের। সে তিনটি ম্যাচ জিতলেও ভারতকে তাকিয়ে থাকতে হবে অনেক হিসাব-নিকাশের দিকে। ‘যদি’, ‘কিন্তু’র সমীকরণ না মিললে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল অধরাই থাকবে ভারতের। যা অনেক কষ্টের, অনেক যন্ত্রণার!

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here